.ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৫ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪০

ঝালকাঠিতে ১৭০ মণ্ডপে দুর্গোৎসব

 প্রকাশিত: ১৬:০৬ ৯ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৬:০৮ ৯ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝালকাঠিতে পুরোদমে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি। জেলার মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কারিগররা। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রতিমা শিল্পীরা এখন প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

একটি প্রতিমা তৈরি করতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে বলে জানায় তারা। আর এ প্রতিমা তৈরির জন্য তিন ধরনের মাটির প্রয়োজন হয়।

এবছর  ঝালকাঠি সদরে ৭২ টি ও কাঁঠালিয়ায় ৫৭ টি, রাজাপুর উপজেলায় ২০টি ও নলছিটিতে ২১টিসহ জেলায় মোট ১৭০টি পূজা মন্ডপ করা হবে। প্রতিমা শিল্পীরা জানিয়েছেন, এ বছর কাজের চাপ যথেষ্ট বেশি। ফলে তাদের আয়ও বাড়বে। শিল্পির নিপূণ হাতের প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে মন্ডপে মন্ডপে ভিড় করছে অসংখ্য নারী ও পুরুষ।

আকাশে এখন ছেঁড়া মেঘের ভেলা। শহরের ইতিউতি কোথাও যেন কাশ ফুলের দেখা পাওয়া। আর ভোরবেলা শিউলির ফুলের গন্ধ। দিকে দিকে এখন দেবী বন্দনা। বছর ঘুরে উমা দেবী আসছেন তার বাপের বাড়ি। ঢাকের কাঠি ঢেম কুড় কুড়, ঘন্টা- কাসার টিং টিং, মঙ্গল শাঁখ ও এয়ো স্ত্রীর উলু ধ্বনি মায়ের আগমনে চারদিকে কেবল আনন্দ আয়োজন। দুর্গোৎসব মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব। জাতি- ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই এই আনন্দ আয়োজনে সামিল হয় বলে দুর্গা পূজার নামকরন সার্বজনীন শারদীয়া দুর্গোৎসব। ধনী- গরীবের ভেদাভেদ ভুলে মন্ডপে মন্ডপে এখন আনন্দময়ীর আগমনী প্রস্তুতি।

শরৎকালের দুর্গোৎসব শুধু উৎসব নয়, মহা-উৎসব। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, আধ্যাত্মিকতার অনুভূতি, সংস্কৃতি, বৈচিত্র, বাণিজ্য, বিদ্যাচর্চা, সামাজিক প্রীতির বন্ধন, হাজার বছরের বাঙালির সমন্বয় ও শান্তির ঐতিহ্যকে প্রকাশ করে। বিশ্বজননীর পূজায় বাঙালি হিন্দুর হৃদয়কে প্রসারিত করে সকল ধর্ম-বর্নের মানুষকে, সকল দেশের মানুষকে আপন করে নিতে শিখিয়ে উৎসবকে বিশ্বজনীন উৎসবেও পরিণত করেছে।

১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজা দিয়ে দুর্গা পূজা শুরু হচ্ছে। এখানে টানা পাঁচদিন দূর্গা উৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হবে। (১৫ অক্টোবর) সোমবার ষষ্ঠী পূজা অর্থাৎ বেলগাছের নিচে বোধনের মধ্য দিয়ে দেবী দূর্গার স্বর্গ থেকে মর্তলোকে আর্বিভাব ঘটবে। মঙ্গলবার নবপত্রিকা অর্থাৎ কলাবউকে মণ্ডপে প্রবেশের মধ্য দিয়ে মহাসপ্তমী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার মহা অষ্টমী, বৃহস্পতিবার মহানবমী পূজার মধ্য দিয়ে দেবীকে আরাধনা। শুক্রবার দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে চার দিনব্যাপী দূর্গা উৎসব শেষ হবে।

দুর্গাপূজা হলো অশুভ, অন্যায়, পাপ, পঙ্কিলতার বিরুদ্ধে ন্যায়, পূর্ণ, সত্য, শুভ ও সুন্দরের যুদ্ধ। দুর্গতি থেকে রক্ষা, বিভেদ, বিবাদ, অনৈক্য, সা¤প্রদায়িকতা, ক্ষুদ্রস্বার্থবোধ ও সংকীর্ণতা প্রভৃতির ঊর্ধ্বে ওঠার জন্য মহাশক্তির বর লাভের নিমিত্তে সনাতন ধর্মাবলম্বরী মেতে উঠবেন দেবী বন্দনায়। আত্মশক্তির উত্থান, প্রাণশক্তির জাগরণ, ষড়রিপুর গ্রাস থেকে মুক্তির জন্য আদ্যাশক্তি মহামায়ার কৃপালাভের জন্য দুর্গাদেবীর আরাধনায় মেতে উঠবে বিশ্ব চরাচর। দেবীর চরণে ভক্তদের কাতর মিনতি- এবারের দুর্গোৎসব যেন সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে সৌহার্দ্য, হিংসা, বিদ্বেষ, কলুষতামুক্ত ভালোবাসার স্পন্দনে মথিত, গৌরাবান্বিত করে তুলেন সবাইকে।

মাঝি বাগির পুজা কমিটির জয়দেব বলেন,দুর্গোৎসব উপলক্ষে ঝালকাঠি জেলা জুড়ে প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। জেলার ৪টি উপজেলায় ১৭০টি মন্ডপে মৃৎশিল্পীরা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। শারদীয় দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণ রূপ দিতেই মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। শিল্পীর কল্পনায় দুর্গা দেবীর অনিন্দ্য সুন্দর রূপ দিতে দিন-রাত চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চুক্তিতে এসে শিল্পীরা মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। 

ঝালকাঠিতে প্রতিমা তৈরির কাজে আসা রতন হালদার জানান, এক একজন প্রধান কারিগর তাদের দলবল নিয়ে সর্বনিম্ন ৫টি থেকে ১৫টি পর্যন্ত প্রতিমা তৈরি করছেন। সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা থেকে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের প্রতিমা তৈরির বায়না নিয়ে কাজ করছেন তারা। এখন কোন মণ্ডপে বেদি তৈরি আবার কোন মন্ডপে প্রথম পর্যায়ের মাটির কাজ চলছে। আবার কোন মণ্ডপে মাটির কাজ শেষ করে রং করেছেন শিল্পীরা। এছাড়াও নলছিটি, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে মৃৎশিল্পীরা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে উপজেলা সমূহে শারদীয় উৎসবের আমেজ লক্ষণীয়। 

ডিসি মোঃ হামিদুল হক জানান, ঝালকাঠি জেলায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও র‌্যাবের এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ টিম টহলে থাকবে। যাতে পুজারী ও দর্শনার্থীদের কোন ধরণের অসুবিধা না হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম