‘ঝামেলাহীন’ নেপাল ভ্রমণের সব তথ্য

ঢাকা, সোমবার   ২৭ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৬,   ২১ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

‘ঝামেলাহীন’ নেপাল ভ্রমণের সব তথ্য

ভ্রমণ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:২৩ ১৩ মে ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ঈদে অনেকেই দেশের বাইরে বেড়ানোর কথা ভাবেন। কিন্তু ভিসা ঝামেলা ও খরচের কারণে ঘোরা হয়ে ওঠেনা অনেকসময়। তবে ভিসার ঝামেলা ছাড়া অপার সৌন্দর্যের দেশ ও হিমালয়কন্যা নেপাল থেকে ঘুরে আসতে পারেন। খরচের ব্যাপারেও হয়ত মনে ‘খচ-খচ’ থাকতে পারে, তারও সমাধান রয়েছে। এই লেখায় নেপাল ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানানো হল-

নেপালের ভিসা ও যাওয়া

বাংলাদেশ থেকে নেপাল যেতে কোনো অগ্রিম ভিসার প্রয়োজন নেই। বিমানের টিকিট কেটে যেকোনো মূহুর্তেই পাড়ি জমাতে পারেন সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের দেশে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাঠমুন্ডুর ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যেতে সময় লাগে প্রায় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। পৌঁছলেই অন অ্যারাইভাল স্টিকার ভিসা মিলবে। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য একই বছরের প্রথম ভ্রমণে ভিসা ফি লাগবে না। একই বছরে দ্বিতীয়বারের মতো ভ্রমণ করতে চাইলে ১৫ দিনের মাল্টিপল ভিসার জন্য ২ হাজার ২০০ টাকা ভিসা ফি প্রদান করতে হবে। চাইলে ঢাকায় অবস্থিত নেপালের এমব্যাসি থেকেও নিয়ে নিতে পারেন ভিসা।

ছবি : সিজিটিএন

যারা সড়ক পথে যেতে চান প্রথমেই হরিদাসপুর/গেদে পোর্টের ইন্ডিয়ান ট্রানজিট ভিসা লাগবে। ভিসা ঝামেলা শেষে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দিন। হরিদাসপুর বর্ডার থেকে শিলিগুড়ি চলে যান। সেখান থেকে পানির টাংকি যেতে হবে। বাস ভাড়া ২০ রুপি। ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে কাকরভিটা থেকেই পোখরা যাবার বাস পাবেন। ভাড়া নেবে ১২০০-১৪০০ নেপালি রুপি। সময় লাগবে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা।

কোন সময়ে যাবেন?

* নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি: এই সময়ে নেপালে প্রচুর পর্যটক যায়। পুরো দেশ প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকে, সব কিছুর খরচও বেড়ে যায়। এ সময় এত মানুষ যাবার কারণও আছে, নেপাল তার পূর্ণরূপে সেজে থাকে তখন। ঘন নীল মেঘমুক্ত আকাশ, ঝকঝকা হিমালয় ও সমতল জায়গাতে আরামদায়ক ঠান্ডার পরশ পাওয়া যায়।

* মার্চ থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি ও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের শেষ: এদুটো মৌসুম নেপাল অনেকটা ফাঁকা থাকে। সিজনের আগে বা পরের সময় এটা। খরচ বেশ কমে যায় সব কিছুতে, আবহাওয়াও থাকে বেশ সুন্দর। তবে হিমালয়ের অভাবনীয় সৌন্দর্য দেখতে চাইলে এই সময়টায় মেঘের মর্জির উপর ভরসা করতে হয়। যখন তখন মেঘে ঢেকে যেতে পারে।

হিমালয়ের অভাবনীয় সৌন্দর্য

* মে থেকে আগস্ট: আবহাওয়া মোটামুটি মেঘলা থাকে। নেপালের বৃষ্টি ভয়াবহ, শুরু হলে পাহাড়ি ঢল হয়ে প্রায়ই হাইওয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এই সময়টায় সাধারণত কোনো পর্বত দেখা যায় না মেঘের কারণে। এই সময়ে অনেক হোটেল আর দোকানপাট বন্ধ থাকে। কম খরচে লম্বা সময় ধরে নেপাল থাকতে চাইলে এই সময়টা সেরা।

ঘোরাঘুরি

ভিসার ঝামেলা শেষ করেই নেপাল ট্যুরিজমের একটা ম্যাপ নিয়ে নিন, কাজে লাগতেও পারে। এয়ারপোর্টে ম্যাপটি বিনামূল্যে দেয়। ঘোরাঘুরি শুরু করতে পারেন কাঠমুণ্ড থেকেই। শহরের মন্দিরগুলো ঘুরে দেখতে পারেন। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য টিকিটের দাম অনেক কম। একদিনেই বসন্তপুর দুর্বার স্কয়ার, গার্ডেন অফ ড্রিমস, লিম্বিনি, কোপান ও সেনচেন মনাস্ট্রি ঘোরা সম্ভব।

পরের গন্তব্য হতে পারে নাগরকোট। এটি কাঠমুন্ডু হতে ৩২ কিলোমিটার দূরে। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু গ্রামও বলা হয় এটাকে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২১৭৫ মিটার উচ্চতায় এর অবস্থান হলেও সেখানের মনোরম প্রকৃতি চুম্বকের মতো আপনাকে টানবে। নাগরকোটে হোটেলে এক রাত থেকে ভোর বেলায় সূর্যদোয়ের সময় ব্যালকনি থেকে এভারেস্টের শৃঙ্গ দেখা যেতে পারে। ভোরবেলায় সূর্যের আলো শুভ্র তুষারবেষ্টিত এভারেস্ট শৃঙ্গে পড়বার সঙ্গে সঙ্গে আশেপাশের সবকিছু কেমন মায়াবী সোনালি বর্ণ ধারণ করে- এতো অদ্ভূত সুন্দর দৃশ্য আমাদের প্রতিদিনের পৃথিবীতে খুব কমই দেখতে পাবেন।

দুর্বার স্কয়ার

যারা সড়ক পথে যাবেন তারা প্রথমেই পোখরা ঘুরুন। যদি নাগরকোট ঘুরে পোখরা যেতে চান তাহলে গাড়িতে প্রায় ৭ ঘণ্টা সময় লাগবে। পোখারার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা বলার অপেক্ষা রাখে না! সে সঙ্গে পাবেন রাফটিং, প্যারাগ্লাইডিং, কায়াকিং, বাঞ্জি জাম্পি, ক্যানিং ইত্যাদির সুবিধা। রিভার রাফটিং একটি টিম স্পোর্টস। প্রায় ৩৫ ডলার করে খরচ হয় এতে। একটা বাতাসের ফোলানো নৌকায় প্রায় ৮ জনের জায়গা হয়। সঙ্গে থাকবেন একজন গাইড। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল ‘ফেওয়া লেক’। লেকভিউ হোটেলের ভাড়া প্রতি রাতে ৬ ডলার থেকে শুরু করে ৪০০ ডলার হয়ে থাকে।

জেনে রাখা ভালো

* হিন্দি জানা থাকলে নেপালিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সুবিধা হবে।

* বিমানে যেতে চাইলে কমপক্ষে ১ মাস আগে টিকিট বুকিং দিতে চেষ্টা করুন।

ছবি: সিজিটিএন

* নেপাল যাবার সময় বিমানের ডান দিকে এবং ফেরার সময় বাম দিকে সিট নেয়ার চেষ্টা করবেন। হিমালয় দেখতে পাবেন।

* সাধারণত সিম কার্ড কেনা ছাড়া অন্য সময় ডকুমেন্টস লাগে না।

* বিভিন্ন সমস্যা এড়াতে তবুও পাসপোর্ট ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, কয়েক পাসপোর্ট সাইজ ছবি, হোটেল বুকিং এর প্রিন্টেড কপি ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে

Best Electronics