Alexa ঝাঁপা বাওড়ে ব্যারেল সেতু খুলবে জানুয়ারি

ঢাকা, সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৪ ১৪২৬,   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

ঝাঁপা বাওড়ে ব্যারেল সেতু খুলবে জানুয়ারি

 প্রকাশিত: ১৫:১২ ২২ ডিসেম্বর ২০১৭   আপডেট: ১৫:২০ ২২ ডিসেম্বর ২০১৭

ছবি সংগৃহিত

ছবি সংগৃহিত

চারপাশে একটি বাওড় থাকায় শত বছর ধরে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন গ্রাম ঝাঁপা। যশোরের মনিরামপুরের রাজগঞ্জ বাজারের সঙ্গে ঝাঁপা গ্রামের যোগাযোগের মাধ্যম নৌকা। নৌকায় পার হয়েই স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে হয় ওই এলাকার শত শত শিক্ষার্থীর। নৌকা পার হতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে অনেকে পড়ে পানিতে; ভিজে যায় পরিধেয় কাপড়সহ বই-খাতা।

বহু বছরের এই দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসেন ঝাঁপা গ্রামের ৫৬ যুবক। তারা গঠন করেন ঝাঁপা গ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশন।

স্থানীয় উদ্ভাবন আর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তারা বাওড়টির উপর তৈরি করছেন এক হাজার ফুট দীর্ঘ একটি ভাসমান সেতু।

এজন্য তারা ব্যবহার করছেন লোহার বার ও প্লাস্টিকের ড্রাম।

৮৩৯টি প্লাস্টিকের ব্যারেল, ৮০০ মণ লোহার অ্যাঙ্গেল পাত ও ২৫০টি লোহার সিটের মাধ্যমে একের পর এক ব্যারেল যুক্ত করে তৈরি  করছেন চার ফুট চওড়া এক হাজার ফুট দীর্ঘ সেতুটি। তাদের সঙ্গে এ কাজে যুক্ত রয়েছেন রাজগঞ্জ বাজারের লেদ কারিগর রবিউল ইসলাম।

দৃষ্টিনন্দন এই ভাসমান সেতুর, যা দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী। আর এই সেতু নির্মাণ শেষ হলে দুর্ভোগ লাঘব হবে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী তিন ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষের।

বাঁওড়ের ওপর সেতু হওয়ায় খুশি ঝাঁপা এলাকার প্রায় ১৫ হাজার নারী-পুরুষ। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। যারা বাঁওড়ে নৌকা চালিয়ে জীবিকা অর্জন করতেন, সেই মাঝিরাও খুশি। সেতু নির্মাণে তারা জানিয়েছেন সাধুবাদ।

ফাউন্ডেশনের সভাপতি মেহেদি হাসান টুটুল বলেন, বছর খানেক আগে বাঁওড় পাড়ে বসে গল্প করছিলেন গ্রামের শিক্ষক আসাদুজ্জামানসহ পাঁচ থেকে ছয়জন। তখন বাঁওড় থেকে মেশিনে বালু তোলা হচ্ছিল। মেশিনটি রাখা হয়েছিল প্লাস্টিকের ব্যারেলের ওপর ভাসমান অবস্থায়। তাই দেখে হঠাৎ বুদ্ধি আসে শিক্ষক আসাদুজ্জামানের। ব্যারেল যদি ভারী মেশিন ভাসিয়ে রাখতে পারে, তবে সেতু কেন নয়? আসাদুজ্জামানের যুক্তি মনে ধরে উপস্থিত সবার। শুরু হয় গ্রামবাসীর সঙ্গে বৈঠক, এরপর ফান্ড গঠনের কাজ। তিনি জানান, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি তারা গ্রামবাসীর সঙ্গে প্রথম বৈঠক করেন। কয়েক দফা আলোচনার পর গ্রামের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত ৫৬ যুবকের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয় উন্নয়ন ফাউন্ডেশন। এরপর সবাই ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে জমা দিয়ে গঠন করা হয় তহবিল। আগস্টে শুরু হয় সেতু তৈরির কাজ। এ কাজে কোনো প্রযুক্তি জ্ঞান ব্যবহার করা না হলেও উপজেলা প্রকৌশলীর পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।

প্রায় তিন মাস চলা নির্মাণকাজ শেষে আগামী ১ জানুয়ারি সেতুটি জনগণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেয়া হবে জানিয়ে টুটুল বলেন, আগে খেয়া পারাপারের জন্য মাঝিদের সপ্তাহে পাঁচ টাকা আর বছরে এক মণ করে ধান দিতে হতো। একই খরচে গ্রামবাসী সেতুটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অন্য এলাকার লোকজন যেমন টাকা দিয়ে খেয়া পার হতেন, সেতু পার হতে তাদের সেই খরচ দিয়ে চলাচল করতে হবে। আর এই টাকা সংগ্রহ করবেন ঘাটে নৌকা চালানো সেই চার মাঝি। এতে মাঝিদের সংসার যেমন চলবে, তেমনি উঠে আসবে সেতু নির্মাণের খরচও- দাবি ফাউন্ডেশনের সভাপতির। এই সেতুর ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল, ভ্যান, নছিমন, প্রাইভেটকারসহ মাইক্রোবাস পারাপার হতে পারবে।

রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র হিমেল খান বলে, সেতু হলে আর নৌকার জন্য ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। এতে স্কুলে বা বাড়িতে যাতায়াতে সুবিধা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআর

Best Electronics
Best Electronics