Alexa ঝাঁজ কমেনি পেঁয়াজের, বেড়েছে মুরগি ও ডিমের দাম

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২২ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৬ ১৪২৬,   ২২ সফর ১৪৪১

Akash

ঝাঁজ কমেনি পেঁয়াজের, বেড়েছে মুরগি ও ডিমের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২১ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

পেঁয়াজ ও সবজির চড়া দামের মধ্যে এবার রাজধানীর বাজারগুলোতে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে বয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে এবং ডিমের দাম বেড়েছে ডজনে ১০ টাকা। তবে কিছুটা কমেছে আদা-রসুনের দাম।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে দামের এমন চিত্র।

এদিকে শীতের আগাম সবজি শিম, ফুলকপি, পাতাকপি, মুলার সরবরাহ বাড়লেও আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। পাশাপাশি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজও। সরকারের পক্ষ থেকে পেঁয়াজের দাম কমার আশ্বাস দেয়া হলেও বাজারে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৪৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৩০-১৩৫ টাকা। বয়লার মুরগির দাম বাড়লেও লাল কক ও সোনালী মুরগি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। লাল কক মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২১০-২১৫ টাকা এবং লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০-২৬০ টাকা।

অপরদিকে গরুর মাংস বিক্রি হতে দেখা গেছে ৫৫০ টাকা কেজি, খাসির ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায়। আর বকরি ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা কেজি দরে।

বাজারে গিয়ে দেখা যায়, টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, গাজর ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে খুচরা বিক্রি হচ্ছে। সে হিসেবে কিছুটা কমেছে এ সপ্তাহে। এক সপ্তাহ আগে টমেটো ছিল ৯০ থেকে ১১০ টাকা কেজি। আর গাজর বিক্রি হয়েছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

একইভাবে কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমে পটল বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা করে। একইসঙ্গে ঝিঙা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ও উস্তা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাকরোল ৩৫ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৩৫ থেকে ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ থেকে ৪৫ টাকা, শসা (হাইব্রড) ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শসা (দেশি) ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর ছড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এছাড়া প্রতি পিস বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৫০ টাকা, ফুলকপি ২৫ থেকে ৪০ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা, জালি কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে শাকের দাম। প্রতি আঁটি লালশাক ৭ থেকে ১০ টাকা, মুলাশাক ১০ থেকে ১৫ টাকা, পালংশাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, কুমড়াশাক ২০ থেকে ৩০ টাকা, লাউশাক ২৫ থেকে ৩৫ টাকা এবং পুঁইশাক ১৫ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, পূজা উপলক্ষে ভারতে ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ রফতানির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এরপরও ইলিশের বাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং দাম কমেছে কিছুটা। এসব বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ এক হাজার থেকে ১১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৯০০ থেকে এক হাজার টাকায় মিলছে। এছাড়া বিভিন্ন আকারভেদে জাটকা বিক্রি করতে দেখা গেছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে।

কিছুটা দাম কমে এসব বাজারে প্রতি কেজি রুই (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়, মৃগেল ১৮০ থেকে ২২০ টাকায়, তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়, পাঙাশ ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, চিংড়ি হরিণা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, বাগদা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায়, গলদা ৫০০ থেকে এক হাজার টাকায়, শিং ৩০০ থেকে ৮০০ টাকায় ও বাইন ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায়।

বিক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজের চাহিদার তুলনায় আমদানি এখনো পরিপূর্ণ হয়নি। পেঁয়াজের ঘাটতি রয়েছে। এজন্য দামও বেড়েছে।

মিরপুর কাঁচাবাজারের খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে যায়। তখন আমরা দেশি পেঁয়াজ ৭০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। এখন আবার দাম বাড়তি। তবে বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ এলে দাম কমে যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/এস