Alexa জয়ের সম্ভাবনায় ফিল্ডিং ও গেমপ্ল্যানের ছিল অভাব

ঢাকা, সোমবার   ২২ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৭ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০

প্রত্যাশা-প্রাপ্তির বিশ্বকাপ, পর্ব ৩ (ফিল্ডিং)

জয়ের সম্ভাবনায় ফিল্ডিং ও গেমপ্ল্যানের ছিল অভাব

আসাদুজ্জামান লিটন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৬ ১১ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ২০:২৪ ১১ জুলাই ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশী ক্রিকেটার ও সমর্থক সবারই স্বপ্ন ছিল কমপক্ষে সেমিফাইনাল খেলা। অভিজ্ঞতা, দল সহ বিভিন্ন কারণে এই চাওয়া অমূলক মনে হয়নি কারও কাছেই। তবে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষে এ মিশন যেনো ব্যর্থতাই চোখে পড়ছে বেশি। ১০ দলের বিশ্বকাপে সেরা চারের লক্ষ্যে থাকা দল টুর্নামেন্ট শেষ করছে অষ্টম স্থানে থেকে, এটি মানতেই যেনো বেশি কষ্ট হচ্ছে সমর্থকদের।

কিন্ত কেনো এমন হতাশাজনক পারফরমেন্স? কি হতে পারে এর পেছনের কারণ? বিশ্বকাপের ঠিক আগে ট্রাইনেশন সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলের কেনো এ অবস্থা? এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা শেষে কয়েকটি কারণ পাওয়া গিয়েছে। যার চতুর্থ পর্বে থাকছে ফিল্ডিং ও গেমপ্ল্যান সংক্রান্ত কারণ।

গ্রুপপর্বে ৮ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৩ ম্যাচে, হারের মুখ দেখেছে ৫ ম্যাচে। এই ৫ ম্যাচের প্রত্যেক ম্যাচেই বাংলাদেশের হাতে কিছু না কিছু মুহুর্ত ছিল। কিন্ত সেই মুহুর্তগুলো কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে বারবার হাত ফসকিয়ে ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। 

এক্ষেত্রে প্রথমেই আসে নিউজিল্যান্ড ম্যাচ। এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড কেবল ফিল্ডিং দিয়েই বাংলাদেশের ৩০+ রান আটকে দিয়েছিল। তবুও সেই কন্ডিশনে ২৬০-৭০ ছিল জেতার মত স্কোর। কিন্তু এই ম্যাচে একেরপর এক ক্যাচ ও রান আউট মিস করে মুশফিক। 

সেই ম্যাচে ছিল কন্ডিশন রিডিংয়েও ভুল। ভুলটি করেন বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ স্টিভ রোডস। এই মাঠেই সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৩০ করেছিল বাংলাদেশ। তাই কোচের কথা মেনে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ৩০০ ঊর্ধ স্কোরের টার্গেটে খেলতে যায় টাইগাররা। অথচ ইউজড পিচ কিছুটা স্লো হয়ে যাওয়ায় ২৭০ স্কোরই নিরাপদ হত যা পরে দেখাও গেছে। ফলে কন্ডিশন বুঝতে ভুল করাও হারের আরেক কারণ। 

ইংল্যান্ড ম্যাচেও দেখা যায় একই চিত্র। ম্যাচ বিশ্লেষনে দেখা যায়, প্রস্তুতি ম্যাচ এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ইংল্যান্ড চেজ করতে পারেনি। বাংলাদেশও ডিফেন্ড করতে গিয়ে ভালো বোলিং করেছে। অথচ এরপরেও ব্যাটিং স্বর্গে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় বাংলাদেশ। কারণ হিসেবে বলা হয় ঢেকে থাকা পিচে ময়েশ্চারের সুবিধা নিতেই প্রথমে বোলিং নেয়া।

অথচ বোলিং শুরুই করানো হয় সাকিব কে দিয়ে। শুরুতেই সাকিবের ৭ ওভার খরচ করে ফেলায় ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে টাইগাররা। যা পরে আর কভার করা সম্ভব হয়নি। 

অস্ট্রেলিয়া ম্যাচেও ফিরে আসে খারাপ ফিল্ডিংয়ের জুজু। ওয়ার্নারের মত ব্যাটসম্যান কে একাধিক লাইফ দেওয়ার খেসারত দিতে হয় ম্যাচ হেরে। 

এরপরে শেষ সপ্তাহে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটো ম্যাচেও হতাশ করে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা জাগালেও শেষ পর্যন্ত পারেনি বাংলাদেশ। রোহিতকে দেওয়া তামিমের জীবনদান মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় বাংলাদেশকে। 

পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে যেনো সবচেয়ে বেশি বাজে ফিল্ডিং করে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ছিল চিরাচরিত ক্যাচ মিসের পুনরাবৃত্তি। 

খেয়াল করলে দেখা যায়, কোথাও বিরূপ টসভাগ্য, কোথাও টসের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলা এসবও বিভিন্নভাবে পিছিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশকে।

এছাড়া ফিল্ডিং ও ফিটনেসের অভাব ছিল ধারাবাহিক। ফলে সম্ভাবনাময় অনেক ম্যাচেও হারের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল/সালি