Alexa জয়পুরহাটে কলা চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৬,   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪১

জয়পুরহাটে কলা চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

 প্রকাশিত: ১২:২১ ২৩ জুলাই ২০১৭  

‘কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত’-এই খনার বচনটি যেন জয়পুরহাটের কলা চাষীরা বেশ ভালোই আত্মস্থ করেছেন। কলা চাষ করে এসব চাষীরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। তারা পরিবারের ভাত-কাপড়ের ব্যবস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ব্যয় সংস্থান করছেন কলা চাষ করে। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকায় তাই এই জেলায় বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কলার চাষ। জয়পুরহাট জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই কলা। জেলায় বিশেষ করে জামালগঞ্জ ও ভাদসা এলাকার অনেক পরিবার কেবল কলা চাষ করেই স্বাবলম্বী হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, অন্য যে কোনো ফসলের চেয়ে অনেক বেশি লাভ হয় কলা চাষে। বিশেষ করে যমুনা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে ও ভাদসার দূর্গাদহ বাজারে কলার বিস্ময়কর বাজার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এখন কলার চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ সব জাতের কলা গাছ থেকে অল্প দিনেই ফল পাওয়া যায়। কৃষকরা আরো জানিয়েছেন, তুলনামূলকভাবে অন্যান্য ফসলের চেয়ে কলার দামও বেশি । সাধারণত বৈশাখ মাসে কলার চারা রোপন করলে অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফল পাওয়া শুরু হয়। যেসব জমিতে বর্ষার পানি সাধারণত এক সপ্তাহের বেশি থাকে না সেসব জমিতে কলার চাষ ভাল হয়। একবিঘা জমিতে কলার জাত ভেদে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ কলার চারা রোপন করা হয়ে থাকে। তাদের মতে, যত্ন সহকারে কলা চাষ করলে একটি গাছ থেকে ২ থেকে আড়াই মণ কলা পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে কলা চাষ করতে ১৫/২০ হাজার টাকা খরচ পড়লেও প্রতি বিঘা জমি থেকে কলা বিক্রি হয় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। যা অন্য কোনো ফসলে সম্ভব নয়। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জয়পুরহাট জেলায় এবার ৬শ’ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার মেট্রিক টন। জামালগঞ্জ এলাকার মাতাপুর গ্রামের কলা চাষী আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি এবার ৫ বিঘা জমিতে কলার চাষ করেছেন। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়েছে। নুনুজ গ্রামের কলা চাষী নূর আলম বলেছেন, ‘কলা বিক্রিতে কোনো ঝামেলা হয় না। পাইকাররা জমি থেকেই কলা কেটে নিয়ে যায়। এ ছাড়াও জামালগঞ্জে ও দূর্গাদহ বাজারে কলার বিশাল হাট বসে প্রত্যেক দিন সকালে। জেলা শহরের গুলশান চৌ মোড়েও পাইকারী কলার হাট বসে।’ জয়পুরহাটের কলা উন্নত মানের হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম জয়পুরহাটের কলার বড় মার্কেট বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী তাব্বা ও মিজানুর রহমান। জয়পুরহাটে উৎপাদিত কলার মধ্যে রয়েছে ওষুধি কলা হিসেবে চিহ্নিত চাম্পা কলা, সবরি কলা , রঙ্গিন মেহের সাগর ও সাগর কলা। বর্তমানে জয়পুরহাটের হাট-বাজারে সবরি কলা ১৮ থেকে ২৪ টাকা হালি এবং চাম্পা ও সাগর কলা ১০ থেকে ১৫ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুধেন্দ্রনাথ রায় বলেছেন, ‘কলা চাষ বেশ লাভজনক ফসল। কলা চাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন।’ ডেইলি বাংলাদেশ/আরকে