জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি, ১৫ মিনিট পর ব্যবসায়ীর মৃত্যু

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৭,   ০২ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি, ১৫ মিনিট পর ব্যবসায়ীর মৃত্যু

নড়াইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩৩ ১ এপ্রিল ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জ্বর, কাশি, সর্দি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির ১৫ মিনিট পর এক সুপারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় মৃতের বাড়ি পুলিশ লাল পতাকা টানিয়ে লকডাউন ঘোষণা করেছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পুলিশ শহরের দক্ষিণ নড়াইলের বাড়িটি লকডাউন করে সচেতনতামূলক মাইকিং করে।

এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে নড়াইল সদর হাসপাতালে শহরের দক্ষিণ নড়াইলের ওই সুপারি ব্যবসায়ী মারা যান। মৃত্যুর পর নমুনা সংগ্রহ ছাড়াই রাত ১টার দিকে তড়িঘড়ি করে গোসল ও জানাজা ছাড়াই দক্ষিণ নড়াইল কবরস্থানে পুলিশের উপস্থিতিতে দাফন করা হয়। 

এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন মৃতের মা এবং ভাই প্রায় একই ধরনের উপসর্গে অসুস্থ হয়ে বাড়ি রয়েছেন।

মৃত ব্যক্তির আত্মীয় জানান, সুপারি ব্যবসায়ী শওকত এক সপ্তাহ আগে জ্বর, কাশি, সর্দি, শ্বাসকষ্ট, শরীর ব্যাথা ও বমিসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় পরিবারের পক্ষ থেকে করোনা সংক্রান্ত হটলাইনে ফোন করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।  

পরে স্থানীয়ভাবে একটি প্রাইভেট চেম্বারে ডাক্তার দেখিয়ে অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় মঙ্গলবার (৩১মার্চ) রাত পৌনে ৯টার দিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওয়ার্ডে নেয়ার সময় মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই মৃত্যু হয়। 

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, রোগী শ্বাসকষ্ট ও বমির উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হন।

সদর হাসপাতালের আরএমও মশিউর রহমান বাবু দাবি করেন, মিনি স্ট্রোকে শওকতের মৃত্যু হয়েছে।

তবে সাবেক সিভিল সার্জন ডা. আসাদ উজ-জামান মুন্সী বলেন, মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে মিনি স্ট্রোকে রোগী মারা যাওয়ার কথা নয়। 

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস শাকুর বলেন, নমুনা সংগ্রহের ব্যাপারে সিভিল সার্জনকে জানানো হয়েছিল। পরে কি হয়েছে তা জানি না। 

নড়াইলের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল মোমেন বলেন, ঢাকা আইইডিসিআর এর প্রতিনিধির সঙ্গে রোগীর মৃত্যুর বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে কথা হলে তারা জানিয়েছেন এ রোগী হার্টস্ট্রোকে মারা গিয়েছেন। সে জন্য মৃতের নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। তবে মৃতের পরিবারকে লকডাউনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সদর থানার ওসি মো. ইলিয়াছ হোসেন জানান, বুধবার সকাল ৯টার দিকে জেলা প্রশাসন এবং থানা পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে লাল পতাকা টানিয়ে বাড়ি লকডাউন করেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বাড়ির বাইরে না আসতে মাইকিং করা হয়েছে।

ডিসি আনজুমান আরা বলেন, সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে। তারপরও ওই এলাকায় বাড়তি সর্তকতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন হবার পরামর্শ দেন।

ওই ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পুরো শহরে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন পেশার মানুষ নানা মন্তব্য করেছেন। তার শরীরে করোনাভাইরাস ছিল কিনা তা পরীক্ষা নিরীক্ষা না করায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম