জ্বর-ঠাণ্ডা নয় করোনার একটি মারাত্মক লক্ষণের কথা জানালেন বিশেষজ্ঞরা!

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৭,   ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

জ্বর-ঠাণ্ডা নয় করোনার একটি মারাত্মক লক্ষণের কথা জানালেন বিশেষজ্ঞরা!

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৫৭ ২৭ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১২:০১ ২৭ মার্চ ২০২০

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

সাধারণত জ্বর-ঠাণ্ডা, কাশি ইত্যাদি লক্ষণ করোনাভাইরাসের ইঙ্গিত দেয়। তবে গবেষণায় উঠে এলো আরো একটি লক্ষণের কথা- এই ভাইরাসে সংক্রমণ ঘটলে গন্ধ ও স্বাদ নেয়া ক্ষমতা হারাবে। 

নাক এবং গলা বিশেষজ্ঞরা এমনটিই বলছেন। তারা করোনায় আক্রান্ত একাধিক রোগীর কাছ থেকে এমন উপসর্গের বিষয়টি নথিভুক্ত করেছেন। পরবর্তীতে দেখা গেছে, জার্মান নাগরিকদের মধ্যে যারা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছিলেন তাদের প্রায় দুই তৃতীয়াংশই গন্ধ বা স্বাদ নেয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন।

যুক্তরাজ্যের ইএনটি (কান, নাক এবং গলা) বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীর কাছ থেকে আমরা এই লক্ষণের প্রমাণ পেয়েছি। সবাই মনে করছেন জ্বর, ঠাণ্ডা বা কাশিই হলো করোনার প্রধান লক্ষণসমূহ, মোটেও না। এগুলো ছাড়াও আরো অনেক লক্ষণ রয়েছে যেগুলো আমরা এড়িয়ে যাচ্ছি। আর এতে করেই বিপত্তি ঘটছে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার) তথ্যানুসারে, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর আরো দেখা দেয় মাথাব্যথা, দুর্বলতা, ডায়রিয়া এবং নাক বন্ধভাব।      

যুক্তরাজ্যের ইএনটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমরা বিশ্বাস করি গন্ধ ও স্বাদ বোধে পার্থক্য হওয়ার বিষয়টি কোভিড-১৯ সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত। বর্তমানে এমন অনেক করোনায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে যারা এই সমস্যায় ভুগছেন। এজন্য সবাইকেই সচেতন থাকতে হবে। শুধু জ্বর-ঠাণ্ডা বা কাশি হলেই যে করোনায় সংক্রমণ ঘটবে তা কিন্তু নয় এর আরো উপসর্গ রয়েছে। তার মধ্যে গন্ধ ও স্বাদ নেয়ার ক্ষমতা হারানো একটি। 

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লুএইচও) বলেছে, করোনাভাইরাসের সঙ্গে গন্ধ এবং স্বাদ হ্রাস পাওয়ার বিষয়টির যোগসূত্রতার বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জুনোসেস ইউনিটের প্রধান মারিয়া ভ্যান কেরখোভ বলেছেন, আমরা বেশ কয়েকটি দেশেরে সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছি। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের কাছ থেকে এই তথ্যটি নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়েছে। অতঃপর আমরা জানতে পারব বিষয়টি আসলেই সত্য কিনা।

যুক্তরাজ্যের ইএনটি বিভাগ বলছে, গন্ধ ও স্বাদ বোধ হারানোর দু’টি কারণ হলো- ঠাণ্ডা ও নাক বন্ধভাব। তাদের মতে, কোভিড-১৯ সংক্রমণের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী অ্যানোসিমিয়া/হাইপোসিমিয়ার (গন্ধের হ্রাস অনুভূতি) সম্মুখীণ হয়েছেন। বেশ কয়েকটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে কিছু রোগী গন্ধ ও স্বাদ হারানোর পাশাপাশি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা যেমন- বমি বা ডায়রিয়ার উপসর্গেও ভুগেছেন।

এবার তবে জেনে নিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোন লক্ষণগুলো প্রকাশ পেয়েছে-

১. জ্বরে ৮৭ দশমিক ৯ শতাংশ রোগী ভুগেছেন।

২. শুকনো কাশি দেখা গেছে অন্তত ৬৭ দশমিক ৭ শতাংশ রোগীর মধ্যে।

৩. অনিদ্রায় ভুগেছেন ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ রোগীরা।

৪. সাইনাসের সমস্যায় ভুগেছেন অন্তত ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ রোগী।

৫. শ্বাসকষ্ট বোধ করেছেন ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ রোগী।

৬. গলাব্যথায় ভুগেছেন ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ রোগী।

৭. মাথাব্যথায় কষ্ট পেয়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ রোগী।

৮. মাংসপেশির ব্যথায় ভুগেছেন ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ রোগী।

৯. অত্যাধিক দুর্বলতা বোধ করেছে অন্তত ১১ দশমিক ৪ শতাংশ রোগী।

১০. বমি করেছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ রোগী।

১১. নাক বন্ধভাব অনুভব করেছেন ৪ দশমিক ৮ শতাংশ রোগী।

১২. ডায়রিয়ার উপসর্গ ঘটেছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ রোগীর মধ্যে।

সূত্র: ডেইলিমেইল

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস