Alexa জোর করে ফেরত পাঠালে আত্মহত্যা করবে রোহিঙ্গারা: অক্সফাম

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

জোর করে ফেরত পাঠালে আত্মহত্যা করবে রোহিঙ্গারা: অক্সফাম

 প্রকাশিত: ১৮:৫৫ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা সমান অধিকার না পাওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারে ফেরত যাবে না। বিশেষ করে নারীরা বলেছেন মানবাধিকারের শর্ত পূরণ হওয়ার আগে জোরপূর্বক প্রত্যাবর্তন করা হলে তারা আত্মহত্যা করবেন। বাংলাদেশ কার্যরত আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংগঠন অক্সফামকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গারা এসব কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ সংক্রান্ত ‘আই স্টিল ডোন্ট ফিল সেফ টু গো হোম’ নামে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

কক্সবাজারের দক্ষিণ-পূর্ব অস্থায়ী ক্যাম্পে বসবাসরত দুশজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফাতিমা সুলতান নামে ২০ বছর বয়েসী এক রোহিঙ্গা নারী বলেন, আমি বাড়িতে তখনই ফিরে যেতে চাই যখন আমরা নাগরিক হিসেবে গণ্য হব। যখন কোনো সহিংসতা থাকবে না, নারীরা অত্যাচারিত হবে না এবং তাদের অপহরণ করা হবে না। আমরা স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ না পেলে ফেরত যাব না।

সাঞ্জিদা সাজ্জাদ নামে আরেক রোহিঙ্গা নারী বলেন- আমরা যদি জোরপূর্বক ফিরে যেতে বাধ্য হই, তবে আমরা নিজেদের আগুনে পুড়িয়ে মারব।

কক্সবাজারের কুতুপালং বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্প উল্লেখ করে অক্সফাম জানায়, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপার বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকার আলোচনা করলেও রোহিঙ্গাদের কথা কেউ শুনছেন না। এই ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। তারা কী চান এবং কীভাবে ফিরে যেতে চান এ ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি নেই।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে সহিংসতার অবসান ঘটনানোর জন্য আহ্বান জানিয়ে অক্সফাম বলেছে, কফি আনান পরিচালিত রাখাইন কমিশনের রিপোর্টের সুপারিশগুলো সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন স্বেচ্ছাপূর্বক এবং নিরাপদ হতে হবে। তাছাড়া যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে তাদের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত জারি করে অভিযুক্ত আসামিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। আর ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

অক্সফাম রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে তারা অনেকেই ক্যাম্পে রাতে অনিরাপদ অনুভব করছেন। তাদের অর্ধেকেরও বেশি রিপোর্ট করেছে নারীরা অচেনা ব্যক্তিদের দ্বারা প্ররোচিত হতে দেখেছেন।

এ সময় অক্সফামের পক্ষ থেকে এমবি আখতার, ট্রিনি লং, মৃদুলা বাজাজ, সুলতানা বেগম, দীপঙ্কর দত্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর

Best Electronics
Best Electronics