Alexa জোরপূর্বক ১১ ছাত্রীর চুল কেটে দিল দফতরি!

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৫ ১৪২৬,   ২০ মুহররম ১৪৪১

Akash

জোরপূর্বক ১১ ছাত্রীর চুল কেটে দিল দফতরি!

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০০ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৫:১৪ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার নির্দেশে জোরপূর্বক ১১ ছাত্রীর চুল কেটে দিয়েছে দফতরি। 

সোমবার অভিযোগের তদন্তে উপজেলার ২৯ নম্বর ডিএমখালী বোর্ড স্কুল পরিদর্শন করেছেন সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউল আজম হিরক। 

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্বজনরা। 

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী গোপের  নির্দেশে বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ১১ ছাত্রীর চুল এবড়ো-থেবড়োভাবে কেটে দেন বিদ্যালয়ের দফতরি কাম নৈশ প্রহরী জুমান।  

চুল কাটার একপর্যায়ে ছাত্রীরা কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় আশপাশ থেকে অভিভাবকরা এগিয়ে এলে প্রধান শিক্ষক কাউকে বিদ্যালয়ে ঢুকতে দেননি।

এদিকে ছেলে দফতরি কাম নৈশ প্রহরী মেয়েদের চুল কেটে দিয়েছে- এ খবর জানাজানি হওয়ায় লজ্জায় ভেঙ্গে পড়েছে ছাত্রীরা। কেউ কেউ বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষিকার শাস্তি দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী এক ছাত্রী জানায়, দফতরি জোর করে আমার চুল কেটে দিয়েছেন। অনেক কান্নাকাটি করেছি। যেভাবে এবড়োথেবড়োভাবে চুল কেটেছে, এখন সব চুল ফেলে দেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। লজ্জায় স্কুলে যায়নি। এর বিচার চাই।

আরেক ছাত্রী জানায়, ম্যাডাম বলেন মাথায় চুল থাকলে ব্রেণ খারাপ হয়ে যায়। উঁকুনে রক্ত খেয়ে ফেলে। তাই চুল কেটে দিয়েছে। চুল কেটেছে দফতরি। তাই আমার সব চুল ফেলে টাক হয়ে গেছি।

একজন অভিভাবক বলেন, দফতরি দিয়ে আমার মেয়ের চুল কাটার সাহস প্রধান শিক্ষিকা পেলেন কোথায়? চুল হল মেয়েদের অলংকার। এখন মেয়ে স্কুলে যায় না। ঘর থেকে লজ্জায় বের হয় না।  

বিদ্যালয়ের দফতরি কাম নৈশ প্রহরী জুমান বলেন, আমাকে প্রধান শিক্ষিকা চুল কাটতে বলেছেন। বিদ্যালয়ে থাকা কেঁচি দিয়ে চুল কেটেছি। আমার কোনো দোষ নেই।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী গোপ বলেন,  মাস খানেক আগে মা সমাবেশে মেয়েদের চুল সেটিংস করে আসতে বলেছিলাম। কিন্তু ওরা আমার কথা বুঝেনি। তাই আমরা উপস্থিত থেকে দফতরিকে দিয়ে শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর করতে মেয়েদের চুল কেটেছি। এ নিয়ে কিছু লোক প্রপাগান্ডা চালাচ্ছেন।

ইউএনও মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে গিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিয়ে অবহিত করতে বলেছি।

শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাটি দুঃখজনক। প্রধান শিক্ষিকা জোরপূর্বক ছাত্রীদের চুল কাটতে পারেন না। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিবেদন হাতে পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে