Alexa জেনে নিন বিসিএস এর বিভিন্ন ক্যাডার সম্পর্কে!

ঢাকা, রোববার   ১৮ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৩ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

জেনে নিন বিসিএস এর বিভিন্ন ক্যাডার সম্পর্কে!

 প্রকাশিত: ১৪:১১ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭   আপডেট: ২০:১৭ ১৪ অক্টোবর ২০১৭

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

এডমিনঃ ১ম কথা হল, ৯০% সচিব এডমিন থেকে হয়। শুধু পররাষ্ট্র সচিব ছাড়া সকল সচিবই এডমিন থেকে নিয়োগের ইতিহাস আছে। বর্তমানে কয়েকজন মাত্র সচিব অন্য ক্যাডারের। তাই যারা ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠতে চান তাঁদের জন্য এডমিনই ভাল চয়েস। প্রথমে একটি ডিসি অফিসে কাজ করতে হবে সহকারী কমিশনার হিসেবে। ২/৩ বছর সময়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা AC(Land) এর দায়িত্ব পাবেন। এরপর ইউএনও,এডিসি, ডিসি। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়েও সহকারী সচিব, উপসচিব… হিসেবে অনেকে কর্মরত থাকেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পোস্টিং হয়। তাই এডভেঞ্চার আছে, এটা এনজয় করতে পারলে ভাল লাগবে। মানুষের সাথে সরাসরি কাজ। তাই সত্যি যদি আপনার ইচ্ছা থাকে, মানুষের জন্য কাজ করবেন – সে সুযোগ এখানে আছে। জুডিশিয়াল সার্ভিস আলাদা হওয়ার পরে এডমিন ক্যাডার নিয়ে অনেক নেগেটিভ কথা শুনা গেছে। বিশেষত আমরা যখন জয়েন করি, তখনই বিষয়টা শুরু হইছিল। তাই অনেকের মাঝে হা-হুতাশ ছিল। এখন কিন্তু সেটা শুনা যায় না তেমন। তখন ভাবা হচ্ছিল মেজিস্ট্রেসি বলতে কিছুই আর এডমিন অফিসারদের থাকবে না। আসলে তো তা নয়। যে কোন দেশেই শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এডমিন অফিসারদের বিকল্প নেই। একজন নন-আর্মড অফিসার অর্ডার করবে, আর আর্মড-পার্সনরা সেটা পালন করবে। এটাই যে কোন সভ্য দেশের নিয়ম। তাই এখন সরকারের প্রয়োজনে সহকারী কমিশনারগণ নিয়মিতই ম্যাজিস্ট্রেসি দায়িত্ব পালন করেন। মোবাইল কোর্টসহ অনেক দায়িত্বই আপনি পাবেন। এরপর পদোন্নতি ভীষণ স্লো – এমন কথা এডমিনের নামে শুনা যায়। কথাটা কিছুটা সত্য। তবে আপনারা যারা এখন জয়েন করবেন, তাঁদের জন্য ভাল খবর হচ্ছে – ২০১৯ সালের দিকে অনেক বড় ব্যাচ রিটায়ার করবে। তখন প্রোমোশন দ্রুত হবে বলে মনে হয়।

পুলিশঃ পুলিশকে সবার প্রয়োজন। তাই সরকারী চাকরি করে পরিচিতজনের কাছে কেন্দ্রবিন্দু হবার সৌভাগ্য এখন পুলিশেরই সবচেয়ে বেশী। যে যাই বলুক, আপনার মোবাইল নাম্বারটা সবার আকাঙ্ক্ষিত হবেই। আর এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাও পুলিশ ক্যাডারদের পক্ষে সম্ভব। কাউকে সরাসরি বিপদ থেকে রক্ষা বা আইনি সহায়তা তাঁদের হাতেই। তাই যারা মানুষকে সরাসরি সাহায্য করতে চান, তাঁদের জন্য পুলিশ হওয়াই আমাদের দেশে সবচেয়ে উপযোগী। আর এই সৌভাগ্যের সাথে ঝুঁকির কথাও একটু মাথায় রাখুন। রাজনৈতিক সমস্যা থেকে শুরু করে আইনগত সকল সমস্যা পালনের জন্য ঝুঁকি নেবার সাহসটুকু থাকতে হবে। আর ফিল্ড লেভেলে কাজ করতে নেতা-কর্মীদের ম্যানেজ করে দায়িত্ব পালনের বিষয়টাও আছে। ট্রেনিং শেষে পোস্টিং হলে এএসপিকে সরকারী গাড়ি দেয়া হয় দায়িত্ব পালনের জন্য, যেটা আর মাত্র দু-একটা ক্যাডারে আছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশ অফিসারদের অনেকেই সুযোগ পায়। এতে বেশ ভাল আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়, সাথে একটু ঝুঁকি তো আছেই। আবার উপরের লেভেলে পোস্ট কম। তাই উপরে পদোন্নতি একটু স্লো, তবে আমাদের দেশে এসপিই অনেক বড় কিছু, আর তাঁর উপরেরগুলোতো আছেই। মাঝে মাঝে আপনার ব্যক্তিগত কোন দোষ না থাকলেও সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীদের গালি সরাসরি শুনতে হতে পারে। তবে সেটা আপনার আড়ালে, সামনে পড়লে মোবাইল নাম্বারই নিয়ে নেবে। পুলিশের এএসপিদের অধীনে কনস্টেবল থেকে শুরু করে অনেক পুলিশ সদস্য থাকে, তাই দেশের যেখানেই যাবেন, লজিস্টিক সাপোর্ট থাকবে।

বিসিএস ক্যাডার

অডিটঃ অডিটে অবশ্য সব সময়ই অল্প ক’টা পোস্ট থাকে। আর যেহেতু পোস্ট অল্প, তাই পদোন্নতি দ্রুত। মোটামুটি বিভাগীয় শহরগুলিতেই পোস্টিং। অডিট হচ্ছে অন্যের ভুল, অনিয়ম এসব ধরা। তাই যে অফিসেই অডিট করবেন, বেশ সম্মানই পাবেন।

ইকনমিকঃ সচিবালয়ে বা পরিকল্পনা কমিশনে অফিস। তাই ঢাকায় পোস্টিং। ইকোনোমিক ক্যাডারের অফিসারগণ প্লানিংয়ের কাজ করেন। তাই যারা রিসার্চ রিলেটেক কাজে ইচ্ছুক, তাঁদের জন্য এটা ভাল চয়েস। হয়তো রিসার্চমুখী বলেই ইকনমিক ক্যাডারের অফিসারদের একটা বড় অংশ বিদেশে ডেপুটেশান বা শিক্ষাছুটিতে পড়াশুনা করে। আবার অনেকদিন ধরেই ইকনমিক ক্যাডারকে এডমিনের সাথে যুক্ত করে ফেলবে বলে আলোচনা হচ্ছে। মানে এটা হলে ইকনমিক ক্যাডাররা এডমিন হয়ে যাবে। তবে এটা দীর্ঘদিন ধরেই ঝুলে আছে। তাই এখন এসব জেনে লাভ নেই। কাজ প্রোজেক্টের প্লানিং। তবে উপরের দিকে পদন্নোতির সুযোগ একটু কম।

তথ্যঃ তথ্য ক্যাডারের অফিসারদের কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কাজের সুযোগ আসতে পারে। মন্ত্রণালয়ে মাননীয় মন্ত্রীগণের Public Relations officer (PRO), বিদেশে কয়েকটা দূতাবাসে তথ্য কর্মকর্তা, এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির অফিসেও তথ্য কর্মকর্তা হতে পারেন। তবে এগুলো সাধারণত স্বল্পকালীন হয়।

পররাষ্ট্রঃ এটাতে আমি চাকরি করি, তাই ঢাক পিটানো হয়ে যাবে কিনা ভাবছি। যাই হোক, ফরেনে চাকরি হলে আপনি সেগুন বাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দিবেন। শুধু বাসা থেকে অফিসে আসা আর ৫টায় অফিস থেকে বের হতে পারলে বাসায় ফেরা এ দুই সময় অফিসের মাইক্রো পাবেন। দুই বছর পূর্ণ হলে আপনি বিদেশে দূতাবাসে পোস্টিংয়ের জন্য উপযুক্ত বলে ধরা হয়। তবে পোস্টিং হতে ৩ বছরের মত লাগে। কেউ কেউ নিজেই দেরী করে বিদেশে পোস্টিং নেয়। এক্ষেত্রে আমার ব্যাচের অভিজ্ঞতা এরকম – অফিসার ১৩ জন। এর মধ্যে ২ জন যোগদানের দুই বছর পরেই পোস্টিংয়ে চলে গেছে। ৪ জন ডেপুটেশানে বিদেশে পড়ছে (১ জন যুক্তরাষ্ট্রে, ৩ জন অস্ট্রেলিয়ায়)। তিন বছরের কাছাকাছি সময়ে আরো ৪ জন পোস্টিংয়ে গেছে। বাকি ৩ জন নিজেরা পোস্টিংয়ে যায়নি, তাঁদের সুযোগ এসেছিল। বিদেশে পোস্টিং হলে ফরেন ভাতা পাবেন। যা পাওয়া যায়, তাতে বিদেশে বিলাসিতা করা যায়না, সংসার চলে। পদোন্নতির সাথে সাথে এলাউন্স বাড়বে। পোস্টিংয়ে থাকা কালে মোটা দাগে বললে বাসা ভাড়া, ২ জন ছেলেমেয়ের পড়াশুনার খরচ, পরিবারের চিকিৎসার ৯০% খরচ সরকার বহন করে। পোস্টিংয়ে থাকা অবস্থায় যে কোন দেশের ডিপ্লোমেটরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি কিনতে পারে। তবে গাড়ি দেশে আনতে হলে ট্যাক্স দিতে হবে। অফিসার অল্প, তাই কাজের অনেক চাপ। আবার চাকরিই যেহেতু ফরেনে, তাই অনেক বিদেশে ঘুরতে পারবেন। পোস্টিংয়ের আগেও ট্রেনিং, কনফারেন্স ইত্যাদিতে বিদেশে যাবার সুযোগ আসবে অনেকের। তবে পরিবার ফেলে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা কষ্টকরও বটে। আবার এক দেশে পোস্টিং ৩ বছরের জন্য, এরপর অন্য দেশে ৩ বছর, পরের ৩ বছর ঢাকায়। এটা জেনারেল পোস্টিং প্যাটার্ন। তাই এই ঘন ঘন চেঞ্জ নিজের এবং ছেলেমেয়ের জন্য ঝামেলার। অন্যদিকে ফরেনে অফিসার অল্প বলে পদোন্নতির সুযোগ অন্য চাকরি থেকে ভাল। আমি নিজেই দেখেছি যে, একই বিসিএসের ফরেনের অফিসার জয়েন সেক্রেটারি আর অন্য ক্যাডারের অফিসার সিনিয়র এসিট্যান্ট সেক্রেটারি ছিল। এতদিন এটা প্রচলিত ছিল যে ফরেনে জয়েন করলে সে Ambassador হয়ই। ভবিষ্যতে কি হবে জানি না। তবে এখন পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি অফিসারই সময় হলে Ambassador হয়েছে। রাষ্ট্রদূত দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে, তাই সম্মান মনে হয় একটু পাবেন। বেশ হোমরা-চোমরা লোকজনের সাথে মাঝেই দেখা বা মিটিং সিটিং হবে। তবে দেশে রাস্তাঘাটে আপনাকে কেউ চিনবে না।

ক’দিন আগে কয়েকজন তরুণ সাহিত্যিক কয়েকটা লেখা দিয়ে সমালোচনা করতে বলল। কিন্তু সমালোচনা করার পরে তাঁরা আমার উপর ক্ষেপে গেল। আমি নাকি সবাইরে প্রশংসা করে গেছি। আমার মন্তব্য থেকে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। কী আর করা – খারাপ বলতে মনে হয় একটু বেশি সাহস লাগে। যাই হোক, সেই বিষয়টা মাথায় রেখে, এখানে আমি একজন বিসিএস পরীক্ষার্থী যেভাবে ভাবে, সেভাবেই বিভিন্ন ক্যাডারের কিছু বিষয় দিতে চেষ্টা করলাম। এগুলো শুধুই তথ্য। অন্যদের কথাও শুনুন। এরপর নিজের বিচার দিয়ে ভাবুন – কোন কাজটা আপনি করতে চান। কোনটায় আনন্দ পাবেন। সেভাবেই চয়েস দিন। জব এনজয় না করতে পারলে ক্যারিয়ারকে ভালবাসতে পারবেন না। তাই আনন্দ খুঁজে পাওয়াই হোক চয়েসের ভিত্তি। এবার দুটা প্রশ্ন, যেগুলো মেসেজে অনেকবার এসেছে –

 

সুজন দেবনাথ
২৮ তম বিসিএস, বিসিএস(পররাষ্ট্র)
সহকারী সচিব,বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

Best Electronics
Best Electronics