জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়সূচি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪২৭,   ১১ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়সূচি

প্রিয়ম হাসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৪ ২ এপ্রিল ২০২০  

‘সালাত’ এর আভিধানিক অর্থ দোয়া, রহমত, ক্ষমা প্রার্থনা করা ইত্যাদি - ছবি: সংগৃহীত

‘সালাত’ এর আভিধানিক অর্থ দোয়া, রহমত, ক্ষমা প্রার্থনা করা ইত্যাদি - ছবি: সংগৃহীত

নামায, নামাজ (ফার্সি: نَماز‎‎) বা সালাত হলো ইসলাম ধর্মের প্রধান উপাসনাকর্ম। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত (নির্দিষ্ট নামাযের নির্দিষ্ট সময়) নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক বা ফরজ। নামাজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। ঈমান বা বিশ্বাসের পর নামাজই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

নামাজ শব্দটি ফার্সি ভাষা থেকে উদ্ভূত (ফার্সি: نماز‎‎) এবং বাংলা ভাষায় পরিগৃহীত একটি শব্দ যা আরবি ভাষার সালাত শব্দের (আরবি: صلاة‎‎, কোরআনিক আরবি: صلاة,) প্রতিশব্দ। বাংলা ভাষায় ‘সালাত’ এর পরিবর্তে সচরাচর ‘নামাজ’ শব্দটিই ব্যবহৃত হয়। 

ফার্সি, উর্দু, হিন্দি, তুর্কী এবং বাংলা ভাষায় একে নামাজ (ফার্সি ভাষা থেকে উদ্ভূত) বলা হয়। কিন্তু এর মূল আরবি নাম সালাত (একবচন) বা সালাওয়াত (বহুবচন)।

‘সালাত’ এর আভিধানিক অর্থ দোয়া, রহমত, ক্ষমা প্রার্থনা করা ইত্যাদি। পারিভাষিক অর্থ: শরীয়াত নির্দেশিত ক্রিয়া-পদ্ধতির মাধ্যমে আল্লাহর নিকটে বান্দার ক্ষমা ভিক্ষা ও প্রার্থনা নিবেদনের শ্রেষ্ঠতম ইবাদতকে ‘সালাত’ বলা হয়, যা তাকবীরে তাহরীমা দ্বারা শুরু হয় ও সালাম দ্বারা শেষ হয়’।

সালাত বা নামাজ ফরজ হওয়ার একটি শর্ত হলো নামাজের সময় হওয়া। প্রতিটি মুমিন মুসলমানের ওপর সময়তো নামাজ আদায় করা ফরজ।

পবিত্র কোরআনুল কারিমে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন,

فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلَاةَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِكُمْ فَإِذَا اطْمَأْنَنْتُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا

অর্থ : অতঃপর যখন তোমরা সালাত আদায় করে ফেলবে, তখন আল্লাহকে (সর্বাস্থায়) স্মরণ করবে- দাঁড়িয়ে বসে ও শোয়া অবস্থায়ও। অতঃপর যখন (শত্রুর দিক থেকে) নিরাপদবোধ করবে, তখন সালাত যথারীতি আদায় করবে। নিশ্চয়ই সালাত মুসলিমদের এক অবশ্য পালনীয় (ফরজ) কাজ নির্ধারিত সময়ে। (সূরা: আন নিসা, আয়াত: ১০৩)।

ইসলামের প্রাক যুগে ঘড়ির ব্যবস্থা ছিল না। সময় নির্ধারণ করার কোনো ছিল না। তারা সূর্য, চাঁদ ও দিনের আলোর অবস্থা দেখে সময় বুঝে নিতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সূর্য, চাঁদ ও দিনের ওপর ভিত্তি করে নামাজের সময় নির্ধারণ করে দিলেন। ঋতুর পরিবর্তন হলে নামাজের সময়ের পরিবর্তনের বিষয়টিও সুন্দর করে বর্ণনা করে দিলেন। 

আজকের অধুনা পৃথিবীতে নামাজের সময় নির্ধারণ করার যত যন্ত্র আছে, সবগুলো ওই হাদিসের বর্ণনা দ্বারাকে সামনে রেখে তৈরি হয়েছে। রাষুল (সা.) প্রতিটি নামাজের ওয়াক্ত পৃথকভাবে বর্ণনা করেছেন। আমরা হাদিসের পাতা থেকে সেই সময়গুলো জানতে পারি।

ফজরের নামাজের সময়:

সুবহে সাদিকের পর থেকে নিয়ে সূর্যোদয় হওয়া পর্যন্ত ফজরের নামাজের সময়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই ফজরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়। ফজরের এই সময়টুকু দুই ভাগে ভাগ করা যায়। শরীয়তের পরিভাষায় প্রথম ভাগকে ‘গালাস’ আর দ্বিতীয় ভাগকে ‘ইসফার’ বলে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় দ্বিতীয় অংশ তথা ইসফারে ফজরের নামাজ আদায় করতেন। ফিকাহবিদরা বলেন, প্রথম ভাগ তথা ‘গালাস’ এর সময় নারীদের আর দ্বিতীয় ভাগ তথা ‘ইসফার’ এর পুরুষদের ফজর নামাজ আদায় করা উত্তম। (সহিত বুখারী, হাদিস নম্বর : ৫১৪, দুররুল মুখতার ০১/২৬৩, আল বাহরুর রায়েক ০১/২৪৪)।

ফজরের নামাজের সময়ের হাদিস :

হাদিস ০১ :

عن أبي بُرزَة رضي الله عنه قال كان النبي صلي الله عليه وسلم يُصَلّْى الصُّبْحَ وأحدُنا يُعْرفُ جَلِيْسَه ويَقْرَأُ فيها مَا بَين السِّتين ألي المائة، رواه البخاري والمسلم

অর্থ : হজরত আবু বারযাহ রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সময় ফজর নামাজ আদায় করতেন; যখন আমাদের একজন তার পাশের লোকটিকে চিনতে পারতো আর এই নামাজে তিনি ষাট থেকে একশ আয়াত পর্যন্ত তেলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারী, হাদিস নম্বর : ৫১৪)।

হাদিস ০২ :

عن رافع ابن خديج رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم : أسفرو بالفجر، فإنه أعظم للأجر، رواه البخاري والمسلم

অর্থ : হজরত রাফি ইবনে খাদিজ রাযিআল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা ফজরের নামাজ ফর্সা (ইসফার) করে আদায় করো, কেননা এর সওয়াব অনেক বেশি।’ (তিরমিযি ০১/২২)।

যোহরের নামাজের সময় :

ঠিক দ্বিপ্রহরের পর সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার পর যোহরের নামাজের সময় শুরু হয়। প্রত্যেক জিনিসের ছায়ায়ে আছলি তথা মূল ছায়া ব্যতীত ওই জিনিসের দ্বিগুণ ছায়া হওয়া পর্যন্ত যোহরের নামাজের সময় বাকী থাকে। এই সময় নির্ধারণ করার একটি সহজ পদ্ধতি হলো মাটিতে কোনো লাঠি পুঁতে রেখে তার ছায়ার দিকে লক্ষ করা। যতক্ষণ পর্যন্ত দ্বিগুণ হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত যোহরের সময় থাকবে। (সহিহ বুখারী, হাদিস নম্বর : ৫১১, শরহে বেকায়া ০১/২৮)।

যোহরের নামাজের সময়ের হাদিস :

হাদিস ০১ :

عن أبي بُرزَة رضي الله عنه قال كان النبي صلي الله عليه وسلم يُصَلّْى الصُّبْحَ وأحدُنا يُعْرفُ جَلِيْسَه ويَقْرَأُ فيها مَا بَين السِّتين ألي المائة، رواه البخاري والمسلم

অর্থ : হজরত আনাস রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামাজের নিয়ম ছিল : গরমের মৌসুমে গরম তীব্র হয়ে হ্রাস পাওয়ার পর যোহরের নামাজ আদায় করতেন। শীত কালে আগে আগে আদায় করতেন। (নাসায়ি শরিফ ০১/৫৮)।

হাদিস ০২ :

عن رافع ابن خديج رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم : أسفرو بالفجر، فإنه أعظم للأجر، رواه البخاري والمسلم

অর্থ : হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাফি রাযিআল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি হজরত আবু হুরায়রা রাযিআল্লাহ আনহুকে নামাজের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। হজরত আবু হুরায়রা রাযিআল্লাহু আনহু বলেন, হ্যাঁ, আমি এ সম্পর্কে তোমাকে বলবো। তুমি যোহরের নামাজ আদায় করবে যখন তোমার ছায়া তোমার সমান হয়। তারপর ছায়া যখন তোমার দ্বিগুণ হবে তখন আসরের নামাজ আদায় করবে। (মুয়াত্ত মালেক ০৩)।

আসরের নামাজের সময় :

যোহরের নামাজের সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আসরের নামাজের সময় শুরু হয়ে যায়। অর্থাৎ প্রত্যেক জিনিসের মূল ছায়া বাদ দিয়ে যখন ছায়া দ্বিগুণ হয়, তখনই আসরের নামাজের সময় শুরু হয়ে যায়। অতঃপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত আসরের নামাজের সময় থাকে। তবে সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করার পর আসরের নামাজ আদায় করা মাকরুহ। (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি, ০১/৫১, দুররুল মুখতার ০১/২৬৪)।

আসরের নামাজের সময়ের হাদিস :

হাদিস ০১ :

عن عبد الله بن رافع أنه سأل أبا هُرَيْرَةَ رَضَي اللهُ عنه عن وَقْتِ الصلاةِ، فَقَالَ اَبُوْ هُرَيرَةَ : أَنا أخْبِرُكَ، صلِّ الظهرَ اذا كان ظلك مثلك، والعصرَ اذا كان ظلُّكَ مِثْلَيْكَ،

অর্থ : হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাফি রাযিআল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি হজরত আবু হুরায়রা রাযিআল্লাহ আনহুকে নামাজের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। হজরত আবু হুরায়রা রাযিআল্লাহ আনহু বলেন, হ্যাঁ, আমি এ সম্পর্কে তোমাকে বলবো। তুমি যোহরের নামাজ আদায় করবে যখন তোমার ছায়া তোমার সমান হয়। তারপর ছায়া যখন তোমার দ্বিগুণ হবে তখন আসরের নামাজ আদায় করবে। (মুয়াত্ত মালেক ০৩)।

হাদিস ০২ :

عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال : كُنا نُصَلّي العَصْرَ ثُمَّ يَخْرُجُ الإنْسَانُ إلي بَنِي عَمَرِو بْنَ عَوْفِ فَيَجِدُهُمْ يُصلُّوْنَ العصرَ

অর্থ : হজরত আনাস ইবনে মালিক রাযিআল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে আসরের নামাজ আদায় করতাম। নামাজের পর লোকেরা আমর ইবনে আউফ গোত্রের মহল্লায় গিয়ে তাদেরকে নামাজ আদায় করা অবস্থায় পেতো। (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর : ৫২১)।

মাগরিবের নামাজের সময় :

সূর্য ডোবার পর থেকে মাগরিবের সময় শুরু। পশ্চিমাকাশে লাল রং দৃষ্টিগোচর হওয়া পর্যন্ত (সোয়া একঘণ্ট পর্যন্ত) সময় বাকি থাকে। মাগরিবের নামাজ বিলম্ব করা মাকরুহ।

বিঃ দ্রঃ মাগরিবের নামাজের আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আদায় করে নেয়া উত্তম। সাধারণভাবে দুই রাকাত নামাজ পড়তে যতক্ষণ সময় লাগে, বিনা ওজরে এর থেকে বেশি সময় ব্যয় করা মাকরুহ। (ইমদাদুল ফতোয়া ০১/১৫১, ফাতোয়ায়ে শামি ০১/৩৬৯)।

মাগরিবের নামাজের সময়ের হাদিস :

হাদিস ০১ :

عن سلمة رضي الله عنه قال : كنا نصلي مع النبي صلى الله عليه و سلم المغرب إذا توارت بالحجاب

অর্থ : হজরত সালামা রাযিআল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সূর্য পর্দার আড়াল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাগরিবের নামাজ আদায় করতাম। (সহিহ বুখারী, হাদিস নম্বর : ৫৩৪)।

হাদিস ০২ :

رافع بن خديج رضي الله عنه قال : كنا نصلي مع النبي صلى الله عليه و سلم فيَنْصَرِفُ أحدُنا وأنه لَيُبْصْرُ موَاقِعُ نبَلِه

অর্থ : হজরত রাফি ইবনে খাদিজ রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে মাগরিবের নামাজ আদায় করে এমন সময় ফিরে আসতাম যে, আমাদের কেউ (তীর নিক্ষেপ করলে) নিক্ষিপ্ত তীর পতিত হওয়ার স্থান দেখতে পেতাম। (সহিহ বুখারী, হাদিস নম্বর ৫৩২)।

এশার নামাজের সময় :

মাগরিবের নামাজের সময় শেষ হওয়ার পরই এশার নামাজের সময় শুরু হয়। অতঃপর সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত এশার নামাজের সময় বাকি থাকে। তবে রাতের একতৃতীয়াংশ দেরি করে এশার নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব। আর বিনা ওজরে অর্ধ রাতের পর এশার নামাজ আদায় করা মাকরুহ। (ফতোয়ায়ে দারুল উলুম ০২/৫২, আহসানুল ফতোয়া ০২/১৩০, আল বাহরুর রায়েক ০১/২৪৬)।

এশার নামাজের সময় হাদিস :

হাদিস ০১ :

عَنْ أبِيْ هريرة رضي الله عنه قال قال ورسول الله صلي الله عليه وسلم : لوْلاَ أن أشقَّ عَلي أمَّتِيْ لأمَرْتُهُم أي يُؤخِّرُوْ العْشَاءَ إلي ثُلُثِ اللَيْلِ أوْ نِصْفَهُ

অর্থ : হজরত আবু হুরায়রা রাযিআল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি উম্মতের কষ্ট হবে’ আমার মাঝে এই আশঙ্কা না থাকতো, তাহলে আমি অবশ্যই তাদেরকে এশার নামাজ রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্ব করতে নির্দেশ দিতাম (তিরমিযি ০১/২৩)।

হাদিস ০২ :

عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو - وَهُوَ ابْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِىِّ بْنِ أَبِى طَالِبٍ - قَالَ - سَأَلْنَا جَابِرًا عَنْ وَقْتِ صَلاَةِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ كَانَ يُصَلِّى الظُّهْرَ بِالْهَاجِرَةِ وَالْعَصْرَ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ وَالْمَغْرِبَ إِذَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَالْعِشَاءَ إِذَا كَثُرَ النَّاسُ عَجَّلَ وَإِذَا قَلُّوا أَخَّرَ

অর্থ : হজরত মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে হাসান ইবনে আলী রাযিআল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা জাবির রাযিআল্লাহ আনহুকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাস করলাম। তিনি বললেন মধ্যাহ্ন গড়ালেই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের নামাজ আদায় করতেন, সূর্য সতেজ থাকতেই আসরের নামাজ আদায় করতেন, সূর্য অস্ত গেলেই মাগরিবের নামাজ আদায় করতেন, লোক বেশি হলে এশার নামাজ আগে আগে আদায় করতেন আর কম হলে বিলম্বে আদায় করতেন। (সহিহ বুখারী হাদিস নম্বর ৫৮, আবু দাউদ শরিফ হাদিস নম্বর : ৩৯৭)।

প্রিয় পাঠক, যদি আমাদের সামনে হাদিসে বর্ণিত সময়গুলো থাকে, তাহলে কখনো সময় নির্ধারক যন্ত্র না থাকলেও সঠিক সময়ের নামাজ আদায় করতে পারবো। আর একজন মুমিন বান্দার জন্য অবশ্যক হলো নামাজের সময় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা।

মহান রাব্বুল আলামিনন আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সূত্র : উইকিপিডিয়া 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে