Alexa জেএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

ঢাকা, বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ২ ১৪২৬,   ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪০

জেএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

সুরাইয়া আফরিন মুন    ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩৫ ২৫ মার্চ ২০১৯   আপডেট: ২৩:০০ ২৫ মার্চ ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

প্রিয় জেএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে আমাদের এই ধারাবাহিক আয়োজন। আশা করি তোমারা উপকৃত হবে। আজকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ২য় অধ্যায় (কম্পিউটার ও নেটওয়ার্ক) থেকে ৮টি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হলো : 

১।  রিং টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধা কি ? 

উত্তর :  রিং টপোলজির সুবিধা হলো - 

★ প্রতিটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কে সমানভাবে প্রবেশের সুযোগ পায় । 
★ নেটওয়ার্কে কম্পিউটারের সংখ্যা বেশি হলে নেটওয়ার্কের পারফরম্যান্স হ্রাসের যে প্রবনতা দেখা যায় তা সবাই সমানভাবে ভোগ করে। 

   রিং টপোলজির অসুবিধা হলো : 

★রিংয়ের একটি কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেলে পুরো নেটওয়ার্ক অকোজো হয়ে যায় । 
★ রিং নেটওয়ার্কে  কোনো সমস্যা হলে ত্রুটি খুঁজে বের করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। 
★ নেটওয়ার্কে রিং থেকে কোন কম্পিউটার সরিয়ে নিলে কিংবা তাতে নতুন কোন কম্পিউটার যোগ করলে নেটওয়ার্কের  কাজ বিঘ্নিত হয়। 

২। স্যাটেলাইট ও অপটিক্যাল ফাইবার কি ? 

উত্তর : স্যাটেলাইট  হলো উপগ্রহভিত্তিক যোগাযোগের জন্য একটি মাধ্যম। এটি  পৃথিবী থেকে ৩৫,৭৮৪ কিলোমিটার উপরে জিওসিক্রোনাস কক্ষে পৃথিবীর সমান গতিতে ঘুরতে থাকে। 
 
অপটিক্যাল ফাইবার হলো অত্যন্ত সরু কাচের তন্তু যা নেটওয়ার্ক মিডিয়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি ইলেকট্রনিক সিগন্যালের পরির্বতে আলোক সাইন্যাল ট্রান্সমিট করে। 

৩।  টপোলজি  কি ? স্টার টপোলজি বর্ণনা দাও। 

উত্তর : নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলো পরস্পরের সাথে সংযুক্ত  হওয়ার পদ্ধতিই হলো নেটওয়ার্ক টপোলজি।  

স্টার টপোলজি : এ টপোলজি  প্রত্যেকটি নোড একটি সেন্টাল  ডিবাইস যেমন সুইচ বা হাব এর সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে এ টপোলজি সুবিধাজনক কারণ ক্যাবল হাব এর সংখ্যা বাড়িয়েই নেটওয়ার্ককে অনেক বড় করা যায়। এখানে কোন নোড প্যাকেট পাঠালে তা প্রথমে সেন্টাল ডিবাইসে যায়।  সেন্টাল নোডটি  হাব হলে প্যাকেট হাবের সাথে যুক্ত সবকটি নোডই পৌঁছাবে, নেটওয়ার্কের  কোনো একটি কম্পিউটার বিকল হলে তা নেটওয়ার্কের  উপর কোন প্রভাব ফেলে না,  কিন্তু সেন্টাল ডিবাইস বিকল হলে পুরো নেটওয়ার্ক অকোজো হয়ে যায়।      

৪।  সাবমেরিন ক্যাবল কি ?  কম্পিউটার অবস্থানের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে কি কি ভাগে ভাগ করা যায় ? 

উত্তর :  আলোক সিগন্যাল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত অপটিক্যাল ফাইবার পৃথিবীর এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে নেওয়ার সময় সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে নেওয়া হয়। এই ফাইবারকে সাবমেরিন ক্যাবল বলে।  

কম্পিউটারের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে চারটি ভাগে ভাগ করা যায় যথা : 
★ পার্সোনাল  এরিয়া নেটওয়ার্ক (PAN)
★লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN)
★ মেট্রাোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক  (MAN)
★ওয়াইড এরিয়া  নেটওয়ার্ক (WAN)।   

৫। ক্লাউড কম্পিউটিং - এর একটি ব্যবহার লেখ।  টপোলজি সম্পর্কে বর্ণনা  দাও। 

উত্তর : নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত সম্পদ ভাগাভাগি করে নেওয়ার কাজটিকে ক্লাউড কম্পিউটিং বলে। পরিচিত কাউকে Hotmail. বা yahoo কিংবা gmail ব্যবহার করে ই-মেইল  পাঠানোই হলো ক্লাউড কম্পিউটিং এর ব্যবহার । 
টপোলজিতে একটি মূল ব্যাকবোন বা মূল লাইনের সাথে সবগুলো কম্পিউটারকে জুড়ে দেওয়া হয়। বাস টপোলজিতে কোন একটি কম্পিউটার যদি অন্য কোন কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করতে চায়, তাহলে সব কম্পিউটারের কাছেই সেই তথ্য পৌঁছে যায়, তবে যার সাথে যোগাযোগ করার কথা কেবল সেই কম্পিউটারটি  তথ্যটা গ্রহণ করে অন্যসব কম্পিউটার তথ্যগুলোকে উপেক্ষা করে। মূল বাস / ব্যাকবোন নষ্ট হয়ে গেলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক অকোজো হয়ে যায়। 

৬।  হাব ও সুইচের মধ্যে পার্থক্য  নিরুপন কর। 

উত্তর : হাব  : 
★ নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির মধ্যে সবচেয়ে কম দামি । 
★ হাব OSI রেফারেন্স মডেলের ফিজিক্যাল লেয়ারে কাজ করে । 
★ হাব কাজ করে ইলেকট্রিক সিগনাল নিয়ে। 
★ হাব নিদিষ্ট ঠিকানা অনুযায়ী তথ্য পাঠাতে পারে না। 
★ হাব তার মধ্যে দিয়ে পরিচালিত কোন তথ্য বা উপাত্ত পড়তে পারে না। 
★ সাইনাল প্রতিটি   নিকট পাঠায়।  
সুইচ : 
★ সুইচ হাবের চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি দামি। 
★ সুইচ OSI রেফারেন্স ডাটালিংক লেয়ারে কাজ করে । 
★ সুইচ কাজ করে ডাটা প্যাকেট নিয়ে। 
★ সুইচ MAC address ব্যবহার করে নিদিষ্ট  ঠিকানায় তথ্য পাঠাতে পারে। 
★সুইচ তার মধ্যে দিয়ে গত কোন তথ্য বা উপাত্ত পড়তে পারে। 
★ ডেটা প্যাকেট শুধুমাত্র নিদিষ্ট ওয়াকস্টাোশনের   নিকট পাঠায়।      

৭।  প্রটোকল ও মডেম কি ? 

উত্তর : প্রটোকল  :  নেটওয়ার্ককের একটি কম্পিউটার অন্য আর একটি কম্পিউটারের সাথে যার মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে তাকে প্রটোকল বলে।  
মডেম : মডেম হলো ডিজিটাল থেকে এনালগ এবং এনালগ থেকে ডিজিটাল সংকেত পরিবর্তনকারি একটি যন্ত্র।  ইন্টারনেট  সংযোগের  জন্য মডেম একটি অতি প্রয়োজনীয় ডিভাইস।  

৮।  আউটসোর্সিং বলতে কি বোঝায় ? 

উত্তর : আউটসোসিং (Outsourching) হচ্ছে  একটি প্রতিষ্ঠানের কাজ নিজেরা না করে বাইরের কোন প্রতিষ্ঠানের বা ব্যাক্তির সাহায্য করিয়ে নেয়া।  এ কাজ হতে পারে কোন প্রকল্পের অংশ বিশেষ অথবা সমগ্র প্রকল্প। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের নিজেদের অনেক কাজ,  যেমন - ওয়েবসাইটে উন্নয়ন,  রক্ষণাবেক্ষন, মাসিক বেতন -ভাতার বিল প্রস্তুতকরণ, ওয়েবসাইটে তথ্য যোগ করা, সফটওয়্যার তৈরি ইত্যাদি অন্য দেশের কর্মীর মাধ্যমে সম্পন্ন করে থাকে । আউটসোসিং এর কাজ যেসব ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় তাদের মধ্যে অন্যতম হলো ওডেক্স (www.odesk.com). ইত্যাদি।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ