Alexa জেএমবি’র নতুন অপারেশন ‘শহীদ খালিদ সাইফুল্লাহ ব্রিগেডে’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৭ ১৪২৬,   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

জেএমবি’র নতুন অপারেশন ‘শহীদ খালিদ সাইফুল্লাহ ব্রিগেডে’

 প্রকাশিত: ০৬:৪৭ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ০৬:৪৭ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র (জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ) নতুন ‘শহীদ খালিদ সাইফুল্লাহ ব্রিগেড’ নামে একটি অপারেশন ইউনিটের সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দারা। 

এই ব্রিগেড দিয়ে জেএমবি শত্রু পক্ষের মোকাবিলা করবে বলে পরিকল্পনা করছে। তবে এই ব্রিগেডটি জেএমবি’র নতুন সম্প্রসারিত এলাকা ভারতে পরিচালিত হবে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত কোন তথ্য পায়নি গোয়েন্দারা। 

ইতিমধ্যে খালিদ সাইফুল্লাহ ব্রিগেডের একটি সফল অভিযান পরিচালনা করার দায় স্বীকার করেছে ইন্টারনেট প্রচারনায়। 

সহম-আল-হিন্দ ও মিল্লাত-ই-ইব্রাহিম নামে দুইটি ওয়েবপেজে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ ঘোষণা দিয়েছে এ ব্রিগেড। ২০০০ সালে জেএমবি’র আত্মপ্রকাশের পর থেকে এ পর্যন্ত নসরুল্লাহ ব্রিগেড ও হামজা ব্রিগেড নামে দুইটি ইউনিট দিয়ে শত্রু পক্ষের বিরুদ্ধে অপারেশন পরিচালনা করেছে তারা।

২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের প্রধান ফটক থেকে দুইশ’ গজ দূরে একটি ওষুধের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কারা সার্জেন্ট ইনস্ট্রাক্টর রুস্তম আলী হাওলাদারকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বত্তরা। রুস্তম আলী অবসকারকালীন ছুটিতে ছিলেন। ঘটনার পরদিন নিহত রুস্তম আলীর স্ত্রী নাসরিন আক্তার জয়দেবপুর থানায় বেসরকারি উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী হিমেল ও তার তিন সহযোগী আলতাফ, আকাশ ও সোহরাবের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত হিসেবে আরো চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। 

মামলার পরপরই পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি হিমেলকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে আসামীরা আদালত থেকে জামিন পেলেও মামলার এখনো অভিযোগ দেয়া হয়নি। 

এ ঘটনার পর জেএমবি ইন্টারনেটে তাদের দুটি ওয়েবপেজে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে পোষ্ট দেয়। সহম-আল-হিন্দ ও মিল্লাত-ই- ইব্রাহীম নামে ওয়েব সাইটে ‘জেএমবির যত অপারেশন সমূহ’ শীর্ষক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে কাশিমপুরের কারারক্ষী রুস্তম হাওলাদার হত্যার ঘটনাও উল্লেখ রয়েছে। 

ওয়েবপেজে বলা হয়েছে, ‘জামা’আতুল মুজাহিদীন’-এর খালিদ সাইফুল্লাহ বিগ্রেডের দুঃসাহসী মুজাহিদীনরা, ত্বাগুতের গোলাম শতশত মাজলুম বন্দির ওপর অকথ্য জুলুম-নির্যাতনকারী, বীর মুজাহিদ শাইখ আব্দুর রহমান মাদানী (রহিমাহুউল্লাহ)সহ অন্যান্য নেদার সেল পাহারাদারের তত্ত্বাবধানকারী, বন্দিদের হক আত্মসাৎকারী, লম্পট-চরিত্রহীন, তাগুতের আইন বাস্তবায়নের গোলাম। যে কিনা মানবরচিত আইনে ঈমানদারদের ফাঁসিসহ বিভিন্ন মেয়াদের যে সাজা দেয়া হয়, তা বাস্তবায়নের অন্যতম ভূমিকা পালন করে। সেই সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর রুস্তম হাওলাদারকে ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল বেলা ১১.৩০ টায় তার হৃদপিণ্ডে ঢুকে হত্যা করে আমাদের নিরাপদ ঘাঁটিতে ফিরে আসতে সক্ষম হয়!

পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলায় সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের গোয়ালতা গ্রামে জন্ম নেয়া খালিদ সাইফুলসহ ওরফে ফারুক ২০০০ সালে দিনাজপুরে জেএমবি’তে যোগ দেয়। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার সময় খালিদ সাইফুল্লাহ জেএমবি’র শূরা কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০৬ সালের ফেব্রয়ারি মাসে ঢাকা থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়। পরে ঝালকাঠিতে বোমা হামলায় দুই বিচারক নিহতের ঘটনার মামলায় জেএমবি’র শায়খ আব্দুর রহমান, বাংলা ভাই ও খালিদ সাইফুল্লাহসহ ৭ জনের ফাঁসি রায় দেয়া হয়। ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ খালিদ সাইফুল্লাহর ফাঁসি কার্যকর হয়। 

নসরুল্লাহ ব্রিগেড : ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশৈংকলের ওয়াজিউল্লাহর ছেলে নসরুল নাহার নামে জেএমবির এই ব্রিগেডের নাম করা হয়েছিল নসরুল নাহার ব্রিগেড। ২০০২ সালে রাঙ্গামাটির পাহাড়ি এলাকায় পেট্রোল বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে গিয়েই নসরুল নিহত হন। জেএমবির যে পেট্রোল বোমা ছিল, তার তৈরির কৌশল উল্লেখ করে ফাঁসি কার্যকর হওয়া সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই তার জবানবন্দিতে বলেন, একটি কাঁচের বোতলে ৯০ ভাগ পেট্রোল ও ১০ ভাগ সালফিউরিক এসিড দিয়ে ছিপি এঁটে দিতে হয়। 

এরপর একটি পলিথিনে ৫০ ভাগ পটাশিয়াম ক্লোরেট ও ৫০ ভাগ চিনি মিশিয়ে ঐ পলিথিনটি বোতলের চারদিকে জড়িয়ে টেপ দিয়ে এঁটে দিতে হবে। এরপর ছুঁড়ে মারা হলে তার বিস্ফোরণের মাত্রা হবে ভয়াবহ।

হামজা ব্রিগেড : ২০১৩ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামের ফয়স লেক এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে সভা করে জেএমবি’র শহীদ হামজা ব্রিগেড আত্মপ্রকাশ করে। সিরিয়া ভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন মোজাহিদীন গ্রুপের আদলে জেএমবির হামজা ব্রিগেড (এসএইচবি) নামে এই অপারেশন ইউনিটটি গঠন হয়। এর ৩টি সামরিক উইং রয়েছে। এগুলো হল সবুজ (গ্রীন), নীল (ব্লু) ও সাদা (হোয়াইট)। প্রত্যেক উইংয়ে সাতজন করে সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য ছিল। হামজা ব্রিগেডে অর্থ জোগান দেয়ার অভিযোগে ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা এবং তার দুই জুনিয়র হাসানুজ্জামান লিটন ও মাহফুজ চৌধুরী বাপনকে। তারা আদালতে জবানবন্দী দেয়ার পর র‌্যাব চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে হামজা ব্রিগেডের শতাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসবি/আরএ