Alexa জুমা আদায়ে ইজতেমার ময়দানে মুসল্লিদের স্রোত

ঢাকা, শুক্রবার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১৫ ১৪২৬,   ০৪ রজব ১৪৪১

Akash

জুমা আদায়ে ইজতেমার ময়দানে মুসল্লিদের স্রোত

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫৬ ১৭ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:২২ ১৭ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

টঙ্গীর তুরাগ তীরে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের উপস্থিতিতে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনে চলছে ঈমান ও আখলাকের উপর বয়ান।

শুক্রবার বাদ ফজর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এবারের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। এ পর্বে অংশ নিয়েছেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। আগামী রোববার আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার এ পর্ব।

দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমারও প্রথম দিন শুক্রবার হওয়ায় কয়েক লাখ মুসল্লি নিয়ে বৃহৎ জুমার নামাজ আদায় করা হবে। জুমার নামাজে গাজীপুর ও আশপাশের এলাকার বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেবেন।

ইজতেমার মাঠ ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে প্রচুর মানুষের সমাগম। সড়ক-মহাসড়কে লাইন ধরে হাঁটছেন মুসল্লিরা। কারো মাথায়, কারো কাঁধে আবার কারো হাতে একাধিক ব্যাগ, শুকনা খাবার। এর মধ্যে অনেকে ইজতেমা ময়দানে জায়গা না পেয়ে বা দলছুট হয়ে ঘোরাঘুরি করছেন এদিক-সেদিক। তবে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে শুনছিলেন মাইকে ভেসে আসা মুরুব্বিদের বয়ান। জুমার নামাজ আদায় করার জন্য মুসল্লিদের স্রোত ইজতেমার মাঠের দিকে।

রাজধানী ঢাকার উত্তরা কামারপাড়া, সুইচগেট, রানাবোলা এলাকায় দেখা যায়, সড়কের পাশে তাঁবু টানিয়ে অবস্থান করছেন ইজতেমায় আসা মুসল্লিরা। তাদের কেউ গাছের নিচে, কেউবা সড়কের পাশের ঢালু জায়গায় অবস্থান করছেন। 

৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের সমন্বয়ক হাজী মুনির হোসেন জানান, মঙ্গলবার থেকে অনেক মুসল্লি ইজতেমা ময়দানে আসায় বৃস্পতিবার বাদ ফজর থেকে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে প্রাক বয়ান চলতে থাকে। বাদ ফজর প্রাক বয়ান করেন ভারতের মাওলানা মুফতি শেহজাত, বয়ানের অনুবাদ করেন বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের ইমাম মুফতি আজিম উদ্দিন, বাদ জোহর বয়ান পেশ করেন ভূপাল মুরব্বি ইকবাল হাফিজ। বয়ানের তরজমা করেন, কাকরাইলের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা মনির ইউছুফ, বাদ আসর বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, বাদ মাগরিব মূল আমবয়ান করেন ভারতের মাওলানা শামীম তার বয়ান বাংলায় তরজমা করেন মাওলানা জিয়া বিন কাসেম।

শুক্রবার বাদ ফজর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা চেরাগ আলী। তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা আশরাফ আলী।

তিনি জানান, এরইমধ্যে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, ইরাক, তুরস্ক থেকে শুরু করে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে মেহমানসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইজতেমা স্থলে হাজির হয়েছেন। এ পর্বের ইজতেমায় আগত মানুষের ঢল অব্যাহত থাকবে রোববার আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত।

এ পর্বেও মুসল্লিদের জন্য থাকছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া অসুস্থ মুসল্লিদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আমির ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসেফুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভি এ ইজতেমায় আসবেন না। তবে নিজামুদ্দিনের পক্ষ থেকে তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বি ও আলেমসহ ৩২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এরইমধ্যে বিশ্ব ইজতেমায় এসে পৌঁছেছেন। তাদের তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হবে বিশ্ব ইজতেমা। এ ছাড়া বাংলাদেশের ৬৪ জেলা থেকে দ্বিতীয় পর্বের এ ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে আসছেন মুসল্লিরা। তারা জেলা ভিত্তিক নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন।

কথা হলো পাবনার বেড়া থেকে আসা তাবলিগ জামাতের সাথি রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, মাঠের ভেতরে জায়গা না পেয়ে চট বিছিয়ে রাস্তার পাশে রাত যাপন করেছেন। 

সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি থেকে আসা বেলাল  হোসেন বলেন, ভেতরে অনেক ভিড়। তাই বাধ্য হয়ে বাইরে চলে আসছি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/এমআরকে/এস