.ঢাকা, সোমবার   ২২ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৮ ১৪২৬,   ১৬ শা'বান ১৪৪০

জুমার খুতবায় ইমামদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা...

 প্রকাশিত: ১৯:০৫ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৯:১৩ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জুমার গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফজিলত প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, 

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

‘মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ।’ (সূরা: আল জুমুয়ার, আয়াতে: ৯)

রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে জুমার দিনটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনের মতো শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনটি আল্লাহর কাছে অতি মর্যাদাসম্পন্ন।’ (ইবনে মাজাহ: ১০৮৪)।

এই দিনে পাঁচটি ঘটনা ঘটেছে। এই দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা হজরত আদম (আ:)-কে সৃষ্টি করেছেন। এই দিনেই তাকে জমিনে নামিয়েছেন এবং এই দিনেই তাকে মৃত্যু দিয়েছেন। এই দিনে এমন এক মুহূর্ত আছে, যে মুহূর্তে বান্দা মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে যা চাইবে রাব্বুল আলামিন আল্লাহ অবশ্যই তাকে তা দেবেন। এই দিনে কেয়ামত সংঘটিত হবে। সেজন্য সব নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা, আসমান-জমিন, পাহাড়-সমুদ্র, আলো-বাতাস সবাই জুমার দিনকে ভয় করে।

বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ (সা:) আরো বলেন, হে মুসলমানগণ, জুমার দিনকে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য (সাপ্তাহিক) ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তোমরা এ দিন মিসওয়াক করো, গোসল করো ও সুগন্ধি লাগাও।’ (মুওয়াত্তা, ইবনে মাজাহ, মিশকাত; হাদিস নম্বর-১৩৯৮, ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘পরিচ্ছন্নতা অর্জন ও সকাল সকাল মসজিদে গমন’ অনুচ্ছেদ-৪৪)।

হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা:) থেকে বর্ণিত, এক ইহুদি তাকে বলল, ‘হে আমিরুল মুমিনিন! আপনাদের কিতাবে একটি আয়াত আছে, যা আপনারা পাঠ করে থাকেন, তা যদি আমাদের ইহুদি জাতির ওপর অবতীর্ণ হতো, তবে অবশ্যই আমরা সেই দিনকে ঈদ হিসেবে পালন করতাম।’ তিনি বললেন, ‘কোন আয়াত?’ সে বলল, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম। তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।’ ( সূরা মায়েদা: ৩)।

হজরত ওমর (রা:) বললেন, ‘এটি যে দিনে এবং যে স্থানে রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল তা আমরা জানি; তিনি যেদিন আরাফার ময়দানে গিয়েছিলেন আর সেটা ছিল জুমার দিন।’ (সহি বুখারি; হাদিস নম্বর-৪৩, ৪৪০৭, ৪৬০৬, ৭২৬৮; সহি মুসলিম ৪৩/১, হাদিস নম্বর-৩০১৭।

জুমার দিনের ফজিলত ও নির্দেশনা প্রসঙ্গে হজরত আবু লুবাবা ইবনে আবুল মুনজির (রা:) বর্ণনা করেন, আমি বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মাদ (সা:)-কে বলতে শুনেছি, জুমার দিন সপ্তাহের সব দিনের সরদার, মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে অন্য সব দিনের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত দিন। এই দিন আল্লাহ তায়ালার কাছে ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা অপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান।

হজরত আউস ইবনে সাকাফি (রা:) বলেন, আমি রাসূল (সা:)-কে বলতে শুনেছি, যে মুসলমান জুমার দিনে উত্তমরূপে গোসল করে অতি প্রত্যুষে মসজিদে হেঁটে যায়, ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসে এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনে, খুতবার সময় কোনো কথা না বলে; তবে সে জুমার জন্য যত কদম হেঁটে আসে তার প্রতিটি কদমের জন্য সে এক বছর রোজা রাখার সাওয়াব এবং এক বছর রাতে ইবাদত করার সাওয়াব পাবে।

উল্লেখিত তাৎপর্যপূর্ণ ও ফজিলতময় এই জুমাবারের প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের বর্ণনা ও ব্যাখ্যা আমাদের জীবনে ও চলমান সমাজে বাস্তবায়ন করতে ইমামদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তা প্রতিপালনে অবদান রাখতে হবে। ঈমান ও ইসলামের খালেস মন নিয়ে ইমামতি করতে হবে, তা যেন শুধু চাকরির জন্য না হয়।

ঈমান ও ইবাদতের খাতিরে জুমার খুতবায় সমাজ পরিবর্তনের সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে। একজন ঈমানদার মুসলমান হিসেবে সত্যের পক্ষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইমামকেই প্রথম সারিতে এগিয়ে আসতে হবে। ইমাম হিসেবে এ কাজ আপনার জন্য সহজ।

ইমামগণ একটু কৌশলী হয়ে পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর খেদমতে সমাজ ও রাষ্ট্রের অসঙ্গতি-বিচ্যুতি বিপথগামী মুসলমাদের সামনে তুলে ধরুন ও পবিত্র কোরআনের পথে আসতে উদ্বুদ্ধ করুন। আলোকিত সত্য সুন্দর মানুষ তৈরিতে অবদান রাখুন।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা সমস্ত মুসল্লিম উম্মাহকে সাপ্তাহিক ঈদ জুমার দিনের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফজিলত সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।​

আরো পড়ুন>>> সহজে আমলযোগ্য কয়েকটি দোয়া

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে