জীবন সংগ্রামে বিজয়ী এক মা

ঢাকা, রোববার   ৩১ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭,   ০৭ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

জীবন সংগ্রামে বিজয়ী এক মা

সুজন কুমার কর্মকার, কুষ্টিয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৩ ১০ মে ২০২০   আপডেট: ১৪:৫৬ ১০ মে ২০২০

রশিদা খানম ডলি

রশিদা খানম ডলি

বিশ্ব মা দিবস। মা দিবসে তুলে ধরা হয়েছে, জীবন সংগ্রামে বিজয়ী হওয়া এক মহীয়সী নারীর জীবন সংগ্রামে জয়ী হবার বাস্তব চিত্র। তিনি হলেন,  কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুরের বাসিন্দা রশিদা খানম ডলি। 

কুষ্টিয়ার রশিদা খানম ডলির স্বামী মুক্তিযোদ্ধা এফতিয়ার রহমান খান। স্বামীকে হারিয়ে তিনি ১৭ বছর বয়সে সন্তানকে নিয়ে মোকাবিলা করতে হয়েছে এক কঠিন পরিস্থিতির। শুরু হয় তার জীবনের এক নিষ্ঠুর অধ্যায়। জীবন সংগ্রামের লড়াইয়ে টিকে থাকতে একজন নারী হয়েও এক কঠিন কর্মযুদ্ধে অবতীর্ণ হন তিনি। জীবিকা নির্বাহের জন্য বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে প্রাইভেট পড়ান। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে আবার দর্জির কাজ শুরু করেন। এভাবেই কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যমে সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়ে সুশিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন।     

আত্মত্যাগের পরিচয় দেয়ার কারণে মানুষের ভালোবাসাও পেয়েছেন তিনি । প্রায় ২২ বছর কুষ্টিয়া মজমপুর ইউপির নারী মেম্বার এবং প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও বেশ কিছুদিন কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালে জয়িতা সম্মানেও ভূর্ষিত হয়েছেন রশিদা খানম ডলি। 

রশিদা খানম ডলির ছেলে ইবির জনসংযোগ অফিসের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. রাশিদুজ্জামান খান টুটুল জানান, জীবন সংগ্রামে বিজয়ী এক মহীয়সী নারী আমার মা। আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা এফতিয়ার রহমান খান আমাকে শিশু বয়সে রেখে মারা যান। বাবার স্নেহ, ভালোবাসা আমি পাইনি। আমার মায়ের বয়স তখন ১৭ বছর। আমার মা রশিদা খানম ডলি আমাকে নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন কঠিন এক জীবন সংগ্রামের পথ। আমাদের দু'জনের জীবিকা নির্বাহের জন্য বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে প্রাইভেট পড়ানো আর বাড়ি ফিরে দর্জির কাজ। মায়ের সেই কঠোর পরিশ্রমের কথা এখন ভাবতে গেলে মনে হয় পাগল হয়ে যাবো। তবে আমি মনে করি আমার মা জীবন সংগ্রামে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি আমাকে মানুষ করতে পেরেছেন। বিশ্ব মা দিবসের এই দিনে আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন।

রশিদা খানম ডলি বলেন, ইচ্ছা আর চেষ্টা করলে ভালো কিছু করা সম্ভব। মাত্র ১৭ বছর বয়সে স্বামীকে হারিয়ে প্রাইভেট পড়ানো আর বাড়ি ফিরে দর্জির কাজ করে সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়েছি। সন্তানকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলেছি। মানুষের সেবা করেছি। জীবন সংগ্রামে জয়ী হতে পেরেছি। আজকের এই দিনে সব মায়েদের প্রতি শুভকামনা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ