জীবনের শেষ ভরসা বয়স্ক ভাতা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

জীবনের শেষ ভরসা বয়স্ক ভাতা

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৪:৫৮ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৪:৫৮ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজা মিয়া। যৌবনে পরিশ্রম করে যা আয় করতেন তা দিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভালোভাবেই সংসার চলে যেত। এখন ছেলেরা বড় হয়ে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। বৃদ্ধ বয়সে স্বামী-স্ত্রী একা হয়ে অভাবের মধ্যে পরে যায়। সংসারে আসে দুঃখ। সেই দুঃখ মুছে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিবছরে বয়স্ক ভাতা হিসেবে ১৬ হাজার ৮শ’ টাকা পান রাজা মিয়া।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অবদানে ছেলে মেয়েদের ওপর আর নির্ভর করতে হয় না। আল্লাহ শেখ হাসিনাকে দীর্ঘায়ু করুক।

শুধু রাজা মিয়া নয়, এমন কথা জানিয়েছেন বয়স্ক ভাতা পাওয়া নওশা মিয়া, আনোয়ারা বেগম, আয়েশা বেগম, বিধবা রেনুয়ারা, প্রতিবন্ধী কামাল হোসেন, মিছকাবুল হাবিব। সরকারি ভাতায় তাদের পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে বলে জানান। দুমুঠো ভাত খেয়ে বাঁচতে পারছেন।

পেকুয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা হামিদুল্লাহ মিয়ার দেয়া তথ্যমতে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে বয়স্কভাতা পাচ্ছেন ৬৩৭৭ জন, বিধবা ভাতা পাচ্ছেন ১৭০৪ জন, প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন ১৬৮৫ জন, প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি পাচ্ছেন ৩০৭জন, দলিত-জেলে ভাতা পাচ্ছেন ৪৬ জন, হিজড়া ভাতা পাচ্ছেন ২ জন, ১১টি এতিম খানার ১৭১ জন এতিম শিশু প্রতিমাসে ১ হাজার টাকাসহ সব সুবিধা ভোগ করছেন। এছাড়াও উপজেলার ২২জন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রতিমাসে পাচ্ছেন ১০ হাজার টাকাসহ বোনাস।

মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের কার্যালয়ের মাধ্যমে গর্ভবতী মহিলাদের দেয়া হচ্ছে মাতৃত্বকালীন ভাতা। রোগী কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে অস্বচ্ছল রোগীর কল্যাণে প্রতিবছর ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়। এছাড়াও কম সুদে ২ টি মাতৃকেন্দ্রে ১ লাখ, এসিডদগ্ধ ১২ লাখ ৭১ হাজার ৫শ, আর.এস.এস এর মাধ্যমে ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ওসমাণ গণি বলেন, উপজেলায় ৬০টির অধিক সমবায় সমিতি কার্যকর রয়েছে। যেখানে ১২ হাজারেরও অধিক লোকজন উপকার পাচ্ছে। ৬টি আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৬শ ঘর হারা পরিবারকে বাড়ি করে সব সুবিধা দেয়া হচ্ছে।
এছাড়াও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মাধ্যমে ৬৩ টি সমিতি আর ৩য় পর্যায়ের ৫৪টি গ্রাম সমিতির মাধ্যমে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি স্থানীয় লোকজন উপকার পাচ্ছেন। প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা স্থানীয় জনগণকে কম সুদে ঋণ দিয়ে এ কার্যক্রম চালু রয়েছে।

কক্সবাজার-১ আসনের এমপি জাফর আলম বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জনগণের ভাগ্য ফিরিয়ে আনতে পেকুয়াবাসী সব ভাতা ও সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। অনাগ্রসর লোকজন এখন পরিবারের বোঝা নয়। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ও সমবায় সমিতির মাধ্যমে হাজার হাজার সাধারণ জনগণ উপকার ভোগী হচ্ছেন। এছাড়াও পেকুয়ায় শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া সব প্রকল্প দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে সাধারণ জনগণ যা কল্পনাও করতে পারেনি সেই সব সুবিধা এখন হাতের নাগালে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ