Alexa জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুদিন

ঢাকা, সোমবার   ১৮ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৩ ১৪২৬,   ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুদিন

মাসউদ আহমাদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৬ ২২ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

হেমন্ত ছিল কবি জীবনানন্দ দাশের প্রিয় ঋতু। ১৯৫৪ সালে, হেমন্তের এক রাতে তিনি জীবনের ওপারে পাড়ি দিয়েছিলেন। আজ বাংলা ভাষার এই মহান কবির মৃত্যুদিন। 

যে-কোনো কবি ও শিল্পীর প্রকৃত জীবন শুরু হয় তার মৃত্যুর পর থেকে। শিল্পচর্চার সঙ্গে নানা ধরনের ভাব ও বুদ্বুদ মিশে থাকে। জীবদ্দশায় শিল্পীরা হয়ত বিশেষ কোনো ঘোর, প্রভাব ও বলয় তৈরি করে চলেন। কিন্তু মৃত্যুর পর, সমস্ত রকম সাহিত্যিক দাপট আলগা হয়ে গেলে বোঝা যায়, কে ছিলেন তিনি। কী তার শিল্পবিভা। শেষ পর্যন্ত শিল্প ও তার সৌরভই টিকে থাকে সময়ের হাত ধরে, মানুষের মনের ভেতর।

জীবিত থাকতে যে মানুষটি ভালো চাকরি পাননি, বউয়ের ভালোবাসা পাননি, কবিতাই ছিল যার আরাধ্য, তবু কবিতা লিখেও খুব একটা সুবিধা বা সমাদর পাননি; অনেক সময় তার পাঠানো কবিতা ফেরতও এসেছে; একধরনের ব্যর্থ কিন্তু অর্থবহ জীবন তিনি যাপন করে গেছেন; মানুষ, সময় ও সমাজ তাকে হয়ত বুঝতেই পারেনি; সেই মানুষটিই বরিশালের ধুতি পরা মোট চালের ভাত খাওয়া শ্যামলা জীবনানন্দ দাশ।

মৃত্যুর পর, তার পরিচিতি ও খ্যাতি ছড়িয়ে পড়তে থাকে, বেঁচে থাকতে যা কল্পনাও করা যায়নি। আর তুতেন খামেনের মতো তার কালো ট্রাংক থেকে বেরিয়েছে কবিতার পাশাপাশি অজস্র গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধ-ডায়েরি-লিটার‌্যারি নোটস, চিঠি লিখে গেছেন। লোকচক্ষুর প্রায়-অগোচরে নির্বাসিত থাকা সে-লেখার সমস্তই উৎকৃষ্ট, তা নয়; কিন্তু উৎকৃষ্ট করে তোলার অবকাশ পেয়ে উঠলে, এটা তো কিংবদন্তি, যে, জীবনানন্দ তার যে-কোনো লেখা একাধিকবার কাটাকুটি ও সংশোধন করতেন; পত্রিকার দপ্তরে লেখা পাঠিয়েও তার সংশোধন-প্রক্রিয়া থেমে থাকেনি, চিঠি লিখে জানিয়েছেন, অমুক কবিতায় ওই শব্দটি এমন হবে; বা এই কবিতাটি আপাতত ছাপতে চাইছি না। কিন্তু গল্প বা উপন্যাসে সামান্যতর কাটাকুটি ও সংশোধনের সুযোগ তিনি পাননি বা সুযোগ নেননি; খাতার পর খাতা ভরিয়ে তুলেছেন বহু গল্প এবং উপন্যাসে; কবিতায় যেমন তিনি একটানা মায়াবী ও আচ্ছন্ন করা সুর গেঁথে দিয়েছেন, গল্প বা উপন্যাসেও জীবনের বহু স্তর-অনুভূতি ও বিবেচনাকে স্পর্শ করতে চেয়েছেন। কোথাও কোথাও তিনি গল্পকার বা ঔপন্যাসিক হিসেবে ছুঁয়ে আছেন প্রাতিস্বিকতা ও দক্ষতার শিখর। অন্ধকারেও তাঁর শিল্পস্বরের বিভা টের পাওয়া যায়। বর্তমান জীবনের কথাই যেন লিখছেন তিনি : আমাদের সমসাময়িক জীবনভাবনার অনন্য রূপকার জীবনানন্দ দাশ।

রবীন্দ্রনাথের পর, রবীন্দ্রনাথকে পাশে রেখেও জীবনানন্দ দাশই বড় এবং গভীর বোধের কবি। যিনি কেবল কবিতা দিয়েই বাংলা ভাষাভাষি মানুষের অন্তর্জগত অধিকার করে রেখেছেন, দিনের পর দিন। এক হিসেবে বলা যায়, জীবনানন্দ মানেই একটা ঘোর; কখনো এডিকশানও। কী লেখায় ও তার জীবনের ব্যর্থ-তিক্ত গল্প... সবকিছুতেই পাঠক তাঁকে মুগ্ধবিস্ময়ে খুঁজে ফেরেন, ভালোবাসেন।

তার প্রয়াণ দিবসে হৃদয়ভরে তাকে স্মরণ করি। আমাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা তার বিদেহী আত্মার প্রতি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর