জিলকদ মাসের তাৎপর্য ও আমল
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=118048 LIMIT 1

ঢাকা, সোমবার   ১০ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৬ ১৪২৭,   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

জিলকদ মাসের তাৎপর্য ও আমল

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২২ ৯ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৫:২৮ ৯ জুলাই ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

আরবি হিজরি ক্যালেন্ডারের এগারোতম মাস জিলকদ। এ মাসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে নিষিদ্ধ যে ৪ মাস রয়েছে তার মধ্যে একটি এ জিলকদ মাস।

জিলকদ শব্দের অর্থ স্থির হওয়া বা বিশ্রাম নেয়া। জিলকদ মাসকে বিশ্রামের মাস বলা হয়, কেননা এ মাসের আগের চার মাস ও পরের দুই মাস ইবাদতে ব্যস্ত থাকতে হয়। এ কারণে জিলকদ মাসে মুসল্লিরা বিশ্রামের সুযোগ পায়। জিলকদের মাসেরও বেশ কিছু আমল রয়েছে।

আরো পড়ুন>>> হজের বিশেষ আমলসমূহ

ইসলামের ইতিহাসে বিভিন্ন কারণে এ মাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনে যে কয়টি ওমরা করেছেন তার সব কটি করেছে এ জিলকদ মাসে। এ মাসেই সংঘঠিত হয়েছিল হুদায়বিয়ার সন্ধি ও বাইয়াতে রিদওয়ান।

রমজান পরবর্তী ঈদের মাস শাওয়াল ও হজের মাস জিলহজের আগের মাস হওয়ায় জিলকদ মাসটি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ।

জিলকদ মাসটির প্রকৃত নাম হলো জুল-আল-কাআদাহ। আর এর অর্থ হলো বসা বা স্থিত হওয়া এবং বিশ্রাম নেয়া। রজব থেকে শাওয়াল মাস পর্যন্ত ৪টি মাস মুমিন মুসলমান ধারাবাহিক ইবাদতে ব্যস্ত সময় পার করে।

এ ৪ মাসের ব্যাখ্যা এসেছে এভাবে-
> রজব হলো আল্লাহর মাস, বেশি বেশি নফল ইবাদতের মাস।
> শাবান হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাস, ইবাদতের বীজ বপনের মাস; নিসফ শাবান বা শবে বরাত এবং সর্বাধিক নফল রোজা ও নফল ইবাদতের মাস।
> রমজান হলো উম্মতের মাস, ফসল তোলার মাস, ফরজ রোজা, তারাবির নামাজ, কিয়ামুল্লাইল; কোরআন নাজিলের মাস এবং ইবাদত–তেলাওয়াতে মশগুল থাকার মাস।
> শাওয়াল হলো ঈদুল ফিতর, সদকাতুল ফিতর ও নির্ধারিত সুন্নাত গুরুত্বপূর্ণ ছয় রোজার মাস।
> আর জিলকদ মাস হলো বিশ্রাম গ্রহণের মাস। কেননা এ মাসে নির্দিষ্ট কোনো ফরজ ওয়াজিব ও সুন্নাত কোনো আমল নেই বিধায় এ মাসে মুমিন মুসলমান বিশ্রাম নেয়। আর এ মাসে যাতে মুমিন কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহ তথা বাদানুবাদ থেকে বিরত থাকতে পারে, তাইতো এ মাসে সব ধরনের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ নিষিদ্ধ।

আরো পড়ুন>>> যেসব আমলে অকল্পনীয় উৎস থেকে রিজিক আসে

এই মাসে আরবের লোকজন বাণিজ্য থেকে ফিরে আসত, যুদ্ধ থেকে ফিরে আসত, তাই এই মাস বিশ্রামের মাস। ঋতুর পরিবর্তনে এই সময়টায় স্থানীয় আরবের লোকজনের হাতে তেমন কোনো কাজ থাকত না। আরব সংস্কৃতি অনুযায়ী তারা এই মাসে যুদ্ধবিগ্রহ থেকে বিরত থাকত এবং অন্যায়–অপরাধ (মদ্যপান) থেকেও নিবৃত্ত থাকত। এসব কারণেও এই মাসের নাম জিলকদ। (লিসানুল আরব, ইবনে মানজুর)।

ইবাদতের শক্তি অর্জনের মাস:
রজব ও শাবান মাসে নফল রোজা পালন, রমজান মাসজুড়ে রোজা ও রাতে তারাবি আদায় শাওয়ালে ৬ রোজা রাখার পর জিলহজ মাসে পুনরায় ইবাদতের প্রস্তুতিতে নিজেকে প্রাণবন্ত করার মাস হলো জিলকদ। এ মাসের শক্তি সঞ্চার করে জিলহজ মাসের প্রথম ৯টি রোজা এবং মহররমের ১০টি নফল রোজা ও ইবাদতে অতিবাহিত করবে মুমিন।

জিলকদ মাসের আমল:
জিলকদ মাসের বিশ্রামের পাশাপাশি কিছু আমল করা যেতে পারে আর তাহলো-

আরো পড়ুন>>> পবিত্রতা অর্জনের গুরুত্ব

> এ মাসের ১, ১০, ২০, ২৯ ও ৩০ তারিখ রোজা পালন করা।
> ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ আইয়ামের বিজের রোজা পালন করা।
> সোম ও বৃহস্পতিবারের সাপ্তাহিক সুন্নাত রোজা পালন করা।
> বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত ও সালাতুত তাসবিহ নামাজ আদায় করা।
> সম্ভব হলে ওমরা পালন করা।
> হজের পরিপূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
> কোরবানির প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

ইসলামে ইতিহাসে এ মাসের স্মরণীয় ঘটনা:
> এটি যেকোনো যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধের মাস।
> ১ জিলকদ : হুদায়বিয়ার সন্ধি সংঘটিত হয়।
> এ মাসেই বাইয়াতে রেদওয়ান অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
> ৮ জিলকদ : মুসলমানদের জন্য জীবনে একবার হজ পালনকে ফরজ করা হয়েছে।
> ২৫ জিলকদ : হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ও হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্ম।
> ২৫ জিলকদ : পবিত্র কাবা শরিফ পৃথিবীতে প্রথম ভিত্তি স্থাপিত হয় বলে জানা যায়।
> ৭ম হিজরির জিলকদ মাসে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম ওমরা পালন করেছিলেন।
> এ মাসেই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনের সব ওমরাহ পালন করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে