Alexa জিডিপিতে কাঙ্খিত অর্জনের পূর্বাভাস

ঢাকা, সোমবার   ১৮ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৩ ১৪২৬,   ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

জিডিপিতে কাঙ্খিত অর্জনের পূর্বাভাস

 প্রকাশিত: ১৬:০৪ ১১ অক্টোবর ২০১৯  

দৃশ্যত পরিচয়ে সাহাদাৎ রানাকে সাংবাদিক হিসেবেই চেনে সবাই। তবে শুধু সাংবাদিক তিনি নন। গল্প, কবিতা লেখা, সাংগঠনিক দক্ষতাসহ তার রয়েছে নানা গুণ। বর্তমানে বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজে কর্মরত রয়েছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য এই সাংবাদিক।

বাংলাদেশ ধীরে ধীরে কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। যা সম্ভব হচ্ছে বর্তমান সরকারের আন্তরিক ইচ্ছেয়। 

আওয়ামী লীগ সরকার টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। মূলত ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্যই এটা সম্ভব হচ্ছে। ফলে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তার কাঙ্খিত লক্ষ্যের দিকে। প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে। এর বড় প্রমাণ বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার বাড়ছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নিজেদের দফতরে এশিয়া মহাদেশের পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, প্যাসিফিক অঞ্চল ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জিডিপির প্রবৃদ্ধির হালনাগাদ তথ্যের ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয় বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ২০১৯ সালে দাঁড়াবে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। এটা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিক সাফল্যের ফলাফল। এটা সত্যিই সবার জন্য আনন্দের। পাশাপাশি আরো ভালো লাগার খবর হলো চীন, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশকে পেছনে ফেলে ২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বাংলাদেশ। যা উঠে এসেছে এডিবির প্রতিবেদনে। 

জিডিপি কী? এই বিষয়টা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ খুব একটা অবগত নয়। তাই এখন স্বাভাবিক ভাবে জানা প্রয়োজন জিডিপি বলতে আমরা কী বুঝি। সহজ কথায় ‘একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষ করে এক বছরে একটি দেশের অভ্যন্তরে বা ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন বলে। এর মানে হলো কোনো একটি দেশ উন্নয়নের তাগিদে তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া। যা সম্ভব হয় উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে। অবশ্য জিডিপি বলতে অর্থনীতিতে অনেকগুলি ফ্যাক্টর একসঙ্গে কাজ করে। যেখানে মূলত সেই দেশে এক বছরের মোট চাহিদার পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধিকে বোঝায়। আবার অর্থনৈতিক উন্নয়নও একে কেন্দ্র করেই হয়ে থাকে। অর্থাৎ জিডিপি বলতে মূলত দেশের উন্নয়নের অন্যতম নির্দেশককে, নির্দেশ করে। যার সঙ্গে জড়িত থাকে প্রায় সকল কর্মকাণ্ড।

আবার আমরা ফিরে যাই এডিবির প্রতিবেদন প্রসঙ্গে। যেখানে এশিয়ার দেশগুলোর জিডিপির সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে বাংলাদেশের বিষয়ে। ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০১৯ আপডেট’ নামের এই প্রতিবেদনে এশিয়ার দেশগুলোর জিডিপির সার্বিক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে ইতিবাচক হিসেবে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এশিয়ায় বাংলাদেশকে বলা হচ্ছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। মূলত এমনটা বলা হয়েছে কারণ, বর্তমান সরকার পরিকল্পিত উন্নয়নের ধারায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে উন্মোচিত হয়েছে সম্ভাবনার নতুন নতুন দ্বার। এখানে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার বেড়েই চলছে। এমন সাফল্যের পেছনে অবশ্য অনেকগুলো বিষয় কাজ করছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক ইচ্ছে এখানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

আমাদের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে তৈরি পোশাক শিল্প। আমাদের দেশে এখন রপ্তানির পণ্যের সবচেয়ে বড় খাতও তৈরি পোশাক শিল্প। দিনদিন এর বাজার বাড়ছে। এছাড়া রয়েছে রফতানি পণ্য বিশেষ করে ওষুধ শিল্প ও চামড়া শিল্প। এখানে আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে, তা হলো প্রবাসীদের রেমিট্যান্স। বিপুল সংখ্যক কর্মজীবী মানুষ প্রবাসে বসবাস করছে। তারা যা আয় করে তার একটা বড় অংশ দেশে পাঠান। মূলত প্রবাসীদের রেমিট্যান্স এ প্রবৃদ্ধিতে রাখছে অগ্রণী ভূমিকা। যা আমাদের অর্থনীতির চাকাকে প্রতিনিয়ত আরও গতিশীল করছে। 

অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ার অনেক দেশেরই প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। তবে আমাদের জন্য বাড়তি আনন্দের জায়গা হলো গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে আমাদের এই হার বাড়ছে। এখানে যেটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো ধারাবাহিকতা। এটা মূলত সম্ভব হয়েছে সরকারের সাহসী উদ্যোগের কারণে। 

তবে এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি হলেও মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। চ্যালেঞ্জ গুলো হলো- রফতানি বহুমুখীকরণ, শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্য কমিয়ে আনা, বেসরকারি বিনিয়োগে আরও ব্যাপক পরিবেশ সৃষ্টি করা, মানব সম্পদ উন্নয়ন ও ভ্যাট আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। অবশ্য এই চ্যালেঞ্জগুলো সামনে রেখে ইতোমধ্যে কাজ করছে সরকার। বিশেষ করে রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে আরও ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্য যেটা রয়েছে সেটাও কমিয়ে আনার চেষ্টা চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি বিনিয়োগের আরও ব্যাপক পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যাতে ব্যবসায়ীরা আরও উৎসাহ পান এক্ষেত্রে। আর মানব সম্পদ উন্নয়ন ও ভ্যাট আইনের যথাযথ প্রয়োগ ঘটাতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। তবে এ বিষয়গুলো শুধু সরকারের একার পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এর জন্য সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। রাখতে হবে ভূমিকা। তবে আমরা আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারবো।    

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর
 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর