জাহাঙ্গীরনগরের এমন দৃশ্য দেখেনি কেউ!

ঢাকা, রোববার   ০৭ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২৪ ১৪২৭,   ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

জাহাঙ্গীরনগরের এমন দৃশ্য দেখেনি কেউ!

ফারুক রহমান, জাবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৮ ৭ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৬:৪৯ ৭ এপ্রিল ২০২০

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে ফুটেছে জাপানি ক্যাসিয়া রেনিজেরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে ফুটেছে জাপানি ক্যাসিয়া রেনিজেরা

বটতলার সেই অপ্রতিরোধ্য জনসমাগম, টিএসসিতে (ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র) সৃজনশীলতার চর্চা, সেন্ট্রাল ফিল্ডের কোলাহল কিংবা মুরাদ চত্বরে চায়ের কাপের আড্ডা, সবই আজ হারিয়ে গেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণার বিপরীতে একাডেমিক ভবনগুলোতেও সুনশান নীরবতা। কোনো উৎসব কিংবা আন্দোলন-অবরোধের ছুটি নয়, নয় শীতকালীন-গ্রীষ্মকালীন কিংবা পরীক্ষা শেষের অবকাশ; তবু করোনাভাইরাস  আতঙ্কে ক্যাম্পাস পুরো ফাঁকা।

নানা কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের অনেকেই রয়ে যেত। বন্ধ হতো না ক্যাম্পাসে আসা দর্শনার্থীদের ভিড়। তবে এবার যেন পুরো ভিন্ন রূপে ক্যাম্পাস। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৯৭ একর আজ নিস্তব্ধ। কদিন আগের ব্যস্ততম স্থানগুলোতে পা রাখলেও মনে পড়ে যাবে হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’ এর কথা।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ করার ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। তার পর থেকেই কার্যত ফাঁকা হয়ে পড়েছে জাহাঙ্গীরনগরের সবুজ ক্যাম্পাস। সেই কোলাহলপূর্ণ ক্যাম্পাসে আজ ভর করছে শুণ্যতার হাহাকার।

প্রথম দফায় দুই ২ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হলেও চীনের উহান প্রদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। তাই দ্বিতীয় দফায় ছুটি বাড়িয়ে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে। এই ছুটি আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাই ক্যাম্পাসের সেই দুরন্ত তরুণ যারা সন্ধ্যা কিংবা বিকেলে গিটারের সুরে মাতিয়ে রাখত বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, কিংবা রাতের ফাঁকা রাস্তায় গলা ছেড়ে গান গাওয়া সেই তরুণদের অপেক্ষার প্রহর বাড়ছে।

ক্যাম্পাসপ্রেমীদের এবারই হয়ত প্রথমবারের মতো অসময়ে এতটা সময় দূরে থাকতে হচ্ছে। মন না মানলেও থাকতে হচ্ছে ক্যাম্পাস ছেড়ে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, করোনার কালো মেঘ অচিরেই দূর হোক। যাতে করে সবাই নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারেন। ফলে শিক্ষার্থীরাও তাদের ক্যাম্পাসে ফিরতে পারবেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আবারো মুখর হয়ে উঠবে ক্যাম্পাস। প্রাণ ফিরে পাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি স্থান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আবির মাহমুদ খবির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দিনগুলোতে খুব দ্রুতই ফিরে যেতে চাই। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের অপেক্ষা বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিগুলো এখন খুব মনে পড়ছে। কিছু কাজ ছিল যেগুলো প্রতিদিনই করতে হতো। বিকেলে হলের ক্যান্টিনে নাস্তা, টং দোকানে আড্ডা দেয়াসহ বন্ধু, সিনিয়র, জুনিয়র সবাইকে মিস করছি। এছাড়া নিজের বিভাগের ক্লাস করা, বটতলা কিংবা শহীদ মিনারের পাশের মহুয়া তলার আড্ডাটা না করতে পারা এখন মনটাকে ভোগাচ্ছে। ক্যাম্পাস থেকে দূরে থাকাটা তো কষ্টের; এখন নিয়ম মেনে নিজের ঘরে অবস্থান করছি। বই পড়ে, সিনেমা দেখে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থেকে সময় কাটছে। এছাড়া চেষ্টা করছি দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে নজর রাখার।

পরিসংখ্যান বিভাগের ফরিদ আহমেদ জয় বলেন, বর্তমানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ রয়েছে। এই বন্ধে বলতে গেলে অনেক কিছুই মিস করছি। এসবের মধ্যে প্রতিদিন সকালে উঠে ক্লাস করতে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়া, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি, বন্ধুদের সঙ্গে খাওয়া, রাতের হলের ছাদের আড্ডাটা উল্লেখ করার মতো। 

এখনতো সারাক্ষণই ঘরবন্দি। রুমে বসে বই পড়া, সিনেমা দেখা, ইন্টারনেটে ব্রাউজিং ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুবান্ধবসহ সবার খোঁজ-খবর রাখার মাধ্যমেই সময় পার হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী বিপ্লব কান্তি সরকার বলেন, ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। এ সময়ে একাডেমিক ক্ষতির পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত এই বন্ধে টিউশনি হারিয়ে অনেকের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তবে করোনাভাইরাস থেকে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পরিবার ও প্রতিবেশীদের খোঁজ-খবর রাখতে হবে। তবে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আশা করছি, শিগগিরই এই সংকট কাটিয় আমরা যার যার গন্তব্যে ফিরে যাব। আবার সেই চিরচেনা ক্যাম্পাসে বিচরণ করতে পারব। জাহাঙ্গীরনগর আবারো তার চিরচেনা রূপ ফিরে পাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম