Alexa জাপানে অ্যানিমেশন স্টুডিওতে আগুনে নিহত বেড়ে ৩৩

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

জাপানে অ্যানিমেশন স্টুডিওতে আগুনে নিহত বেড়ে ৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫৫ ১৯ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৩:৫৩ ১৯ জুলাই ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

জাপানের কিয়োটো শহরের ‘কিয়োটো অ্যানিমেশন’ নামে একটি প্রডাকশন প্রতিষ্ঠানের স্টুডিওতে সন্দেহভাজন অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জন হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে অন্তত ৩৫ জন। 

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, অ্যানিমেশন স্টুডিওতে ঢুকে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় এক ব্যক্তি। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন তিনতলা ভবনটির অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। 

অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আটক ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সন্দেহভাজন সেই ব্যক্তিকে আগুন লাগাতে এবং ‘মর মর’ বলে চিৎকার করতে দেখা গিয়েছিলো।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা এএফপিকে জানান, বেশির ভাগই ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা যায়। অন্তত ১১ জনকে পাওয়া গেছে, যাদের শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলেন, অগ্নিদগ্ধ ৩৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আগুন লাগার সময় ভবনটিতে অন্তত ৭০ জন অবস্থান করছিল বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

টিভি ফুটেজে দেখা যায়, আগুন লাগার পর তিনতলা ভবনটির জানালা দিয়ে ঘন সাদা ধোঁয়া বের হচ্ছে। ভবনটির প্রধান ফটকের সামনে আগুন ধরে যাওয়ায় মানুষ আটকে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের সময় তারা প্রথম কিয়োটা অ্যানিমেশনে আগুন লাগার সংবাদ পায়। খবর প্রদানকারী ব্যক্তি জানাচ্ছিল, ভবনটির নিচতলায় বড় বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে এবং ঘন ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে।

কিয়োটো পুলিশ বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, এক ব্যক্তি হঠাৎ স্টুডিওতে ঢুকে পড়ে এবং তরল পদার্থ ছুড়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে কয়েকটি ছুরিও পাওয়া গেছে। তবে ওই ব্যক্তির সঙ্গে স্টুডিওটিওর কোনো সম্পর্ক আছে কি না জানা যায়নি। এছাড়া সে সেখানকার সাবেক কর্মী ছিল না বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি স্টুডিও ভবনটিতে গ্যাসোলিনজাতীয় পদার্থ ছুড়েছে বলে জানা গেছে। তাকে ভবনটির চারদিকে তরল ছিটাতে দেখা গেছে। তবে আগুন লাগানোর কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জাপানি গণমাধ্যম এনএইচকেকে বলেছে, তারা টানা কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তারপর কম্বলে পেঁচিয়ে লোকজনকে বের করে আনা হচ্ছে, এমনটি দেখেছেন। তবে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় স্টুডিও কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

স্টুডিওটি অ্যানিমেশন ফিল্ম ও গ্রাফিক উপন্যাস তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটি ভক্তদের কাছে এর মানসম্পন্ন কাজের জন্য বিখ্যাত। তাদের দুটি আলোচিত অ্যানিমেশন সিরিজ হচ্ছে ‘দ্য মেলাংকোলি অব হারুহি সুজুমিয়া’ ও ‘কে-অন’। এ ছাড়া আরো জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিরিজ ও ফিল্ম তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। 

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির উজি সিটির সদর দফতরে ফোন করা হলে এক নারী বলেন, ‘কী ঘটছে আমরা তা জানার প্রক্রিয়ায় আছি।’ 

অপরাধের হার কম থাকার জন্য জাপান বিখ্যাত। বিশেষ করে দেশটিতে সহিংস অপরাধ খুবই দুর্লভ ঘটনা। জাপানে অগ্নিসংযোগকে বড় ধরনের অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। এর আগে ২০০৮ সালে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ১৬ জনকে হত্যার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে। 

সূত্র : এএফপি, বিবিসি, দ্য জাপান টাইমস।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী
 

Best Electronics
Best Electronics