জানেন কি, গুরুত্বপূর্ণ এই জিনিসগুলো ভুলবশত আবিষ্কৃত হয়েছে?
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=133751 LIMIT 1

ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৩ ১৪২৭,   ২৯ মুহররম ১৪৪২

Beximco LPG Gas

জানেন কি, গুরুত্বপূর্ণ এই জিনিসগুলো ভুলবশত আবিষ্কৃত হয়েছে?

জুনায়েদ হোসেন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:২২ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১১:২৫ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের গল্প অনেকেরই জানা। তবে আপনি কি জানেন, কলম্বাস ভুলবশত আমেরিকা আবিষ্কার করেছেন? উদ্দেশ্যহীনভাবে ১৪৯২ সালে জাহাজ নিয়ে বের হন তিনি। বাতাসের দিক পরিবর্তন হয়ে ভুল করে তিনি পৌঁছে যান আমেরিকায়। যেখানে সে সময় সভ্য সমাজের উৎপত্তি হয়নি, সবাই ছিল আদিবাসী। ঠিক এমনভাবেই পৃথিবীতে ভুলবশত অনেক কিছুই উদ্ভাবন হয়ে আসছে। 

মজার ব্যাপার হচ্ছে, বিজ্ঞানের ইতিহাসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আবিষ্কৃত হয়েছে যেগুলো আবিষ্কারের পিছনে বিজ্ঞানীর বেশি কষ্ট করতে হয়নি। যা হওয়ার তা হয়েছে নিতান্ত দুর্ঘটনা বা ভুলবশত। আজকে আপনাদের সামনে তুলে ধরবো এমন কিছু আবিষ্কার আর তার পেছনের মজার সব ঘটনা।

কোকাকোলা

কোকাকোলাড.জন স্মিথ পেমবার্টন ছিলেন একজন ফার্মাসিস্ট। তার তৈরি করা ওষুধ তিনি ফেরি করে বিক্রি করতেন। আর অবসরে আবিষ্কারের নেশায় মেতে থাকতেন। সালটি ছিল ১৮৮৬, তিনি জ্বর এবং সর্দি কাশির জন্য এক প্রকার সিরাপ তৈরির কাজ করছিলেন। এই সিরাপটি তৈরীর জন্য অ্যালকোহল এর সঙ্গে সামান্য কোকের মিশ্রণ করতে হতো। 

তবে আটলান্টায় সে সময় অ্যালকোহল নিষিদ্ধ ছিল। তাই এই সিরাপে তিনি অ্যালকোহল এর পরিবর্তে কার্বোনেটেড ওয়াটার যোগ করেন। প্রথমদিকে সেটি ঠাণ্ডা পানির সঙ্গে মিশিয়ে প্রতি গ্লাস ৫ সেন্ট করে বিক্রয় করা হতো। এর স্বাদ মানুষের কাছে পছন্দ হওয়ায় শারীরিক কোনো সমস্যা না থাকা সত্বেও মানুষ এটি কিনে খেতে। তখন পেমবার্টনের মাথায় আইডিয়া এলো এই পানীয়টি বাজারজাত করার।

এক্স-রে মেশিন

এক্স-রে মেশিন১৮৯৫ সালে বিজ্ঞানী রন্টজেন তড়িৎক্ষরণ নলে পারদ চাপে বায়ুর মধ্যে তড়িৎ রক্ষণের পরীক্ষা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি লক্ষ্য করেন যে, নল থেকে কিছু দূরে অবস্থিত বেরিয়াম প্লাটিনোসায়ানাইড আবৃত পর্দায় এক ধরনের রশ্মির সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি পর্দার আবৃত এর বিশেষ ধরনের রশ্মির উপরে হঠাৎ করেই হাত রাখেন। এবার ঘটলো সব থেকে মজার ঘটনা, তিনি পর্দায় হাত রাখার পর দেখতে পান সেখানে তার হাতের পরিবর্তে তার হাতের শুধুমাত্র হাড় গুলো দেখা যাচ্ছে। 

তিনি এই রশ্মির নাম রাখেন এক্স-রে রশ্মি বা এক্সরশ্মি। এক্স-রে উচ্চ ভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন। এক্স-রে আয়ন সৃষ্টিকারী বিকিরণ গ্যাসের মধ্য দিয়ে যাবার সময় গ্যাসকে আয়নিত করে, কিন্তু সাধারণ আলো তা করে না। আর এভাবেই ১৮৯৫ সালের 8 ই নভেম্বর হঠাৎ করে আবিষ্কার হয় চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি অতিপ্রয়োজনীয় মেশিন, এক্স-রে মেশিন।

ডায়নামাইট

ডায়নামাইটসময়টা ১৮৮৮। আলফ্রেড নোবেল ছিলেন ভ্রমণরত অবস্থায়। হঠাৎ করেই সেদিন পত্রিকায় তার নজর পরে। পত্রিকায় একটি শোক সংবাদ এর শিরোনাম দেখে তিনি আঁতকে ওঠেন। শিরোনামটি ছিল এরকম  ‘দ্রুততম উপায়ে মানুষ মারার পদ্ধতি আবিষ্কার করে যিনি ধনকুবের পরিণত হয়েছিলেন, সেই আলফ্রেড নোবেল মারা গেছেন’। তার মাথার ভেতর তালগোল পাকিয়ে যায়। মহা চিন্তায় পড়ে যান আলফ্রেড নোবেল। ল্যাব-বিষ্ফোরণে মারা গিয়েছিলেন তার বড় ভাই লুডভিগ নোবেলসহ আরও পনেরো জন! হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন, নিজের অজান্তেই করা লাব এক্সপেরিমেন্টে মারা যান আলফ্রেড নোবেল ভাই সহ আরো ১৫ জন। 

ইউরোপের আধুনিক রাস্তাঘাট নির্মাণ, রেল কোম্পানীর লাইন বসাতে পাহাড় ধসে কিংবা নানা পদের খননকাজে ডাইনামাইট ছিল মহান আবিষ্কার। তাই পারিবারিক গবেষণাগারে তখন তিনি চেষ্টা চালান নাইট্রোগ্লিসারিনকে কীভাবে আরও নিরাপদ, উন্নত এবং শক্তিশালী বিস্ফোরকে উন্নীত করা যায় তাই নিয়ে। যখন কিরে নাইট্রোগ্লিসারিন কে কিসেলগুড়ের সঙ্গে যোগ করেন তখন ঘটে যায় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ। এই বিস্ফোরণে মারা যায় তার ভাইসহ আরো ১৫ জন সহকর্মী। আর তার এই ভুলের মধ্য দিয়ে জন্ম হয়েছিল ডায়নামাইটের।

সেফটিপিন

সেফটিপিনযখনই আমাদের ব্যাগের চেইন নষ্ট হয়ে যায় তখনই আমাদের সেফটিপিন এর প্রয়োজন দেখা দেয়। আর মেয়েদের নিত্যদিনের সঙ্গী তো সেফটিপিন। এখন মনে প্রশ্ন আসতে পারে এই ছোট্ট প্রয়োজনীয় জিনিসটি কীভাবে আবিষ্কার হল? বেল ওয়াল্টার হান্ট একদিন ঘরে বসে ভাবতে থাকেন কীভাবে তার দেনায় থাকা অর্থগুলো পরিশোধ করা যায়। 

তখন তার হাতে ছিল একটি ছোট ধাতুর তার, আর তখন তিনি নিজের অজান্তেই ধাতুর তারটি নিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকেন। হঠাৎ তিনি লক্ষ্য করলেন, তারটিকে বেকিয়ে এ ছেড়ে দেয়ার পর সেটি পুনরায় নিচের আকারে ফিরে যাচ্ছে। আর তারাই সিম্পল মেকানিজমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় সেফটিপিন।

পটেটো চিপস

পটেটো চিপস১৮৫৩ সালের কথা জর্জ ক্রাম নামে এক শেফ কাজ করতেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের মুন্স লেক নামে এক রেস্তোরাঁয়। রেস্তোরাঁটি বিখ্যাত ছিল সেখানকার ফ্রেন্স ফ্রাই এর জন্য। কিন্তু একদিন হঠাৎ করে এক বিক্রেতা অভিযোগ করলেন জর্জ ক্রাম যে আলুগুলো দিয়ে ফ্রেন্স ফ্রাই তৈরি করেন তা খুব মোটা হয়। তাই তাকে বারবার রান্না করে যেতে হচ্ছিল পুনরায় ফ্রেন্স ফ্রাই তৈরি করার জন্য। বিরক্ত হয়ে আলুর টুকরাগুলোকে একদম পাতলা করে কাগজের মত করে ফেলেন। 

তারপর সেটাকে মচমচে করে ভেজে বেশি করে লবণ মাখিয়ে ক্রেতার সামনে পরিবেশন করেন। এবার ট্রাম্পকে অবাক করে দিয়ে গ্রাহক সেগুলো খুব পছন্দ করে খেলেন। এখান থেকে পটেটো চিপস এর যাত্রা শুরু হয়। পটেটো চিপস কতটা জনপ্রিয় সেটা জানতে হলে একটি তথ্যই যথেষ্ট। আমেরিকার মানুষ মোটা হয়ে যাওয়ার পিছনে প্রধান কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা দায়ী করেন পটেটো চিপসকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস