Alexa জাতীয় দলের প্রতি হঠাৎ অনাগ্রহ সুজনের

ঢাকা, সোমবার   ১৪ অক্টোবর ২০১৯,   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬,   ১৪ সফর ১৪৪১

Akash

জাতীয় দলের প্রতি হঠাৎ অনাগ্রহ সুজনের

 প্রকাশিত: ২১:০২ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮  

খালেদ মাহমুদ সুজন

খালেদ মাহমুদ সুজন

চন্ডিকা হাথুরুসিংহে প্রধান কোচের পদ থেকে ইস্তফা দেয়ার পর জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব কাঁধে চেপেছিল খালেদ মাহমুদ সুজনের। তবে শ্রীলংকার সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজের ট্রফি হাতছাড়া হওয়ার পর টেস্ট সিরিজও খুইয়েছে বাংলাদেশ।

ঘরের মাঠে টাইগারদের ব্যর্থতার জন্য অনেকেই দায় দেখছেন খালেদ মাহমুদ সুজনের। আর তাই জাতীয় দলের সঙ্গে আর কাজ করতে চান না বলে জানিয়েছে তিনি।

প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে না থাকায় ত্রিদেশীয় ও শ্রীলংকা সিরিজে টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের আদলে দল পরিচালনার দায়িত্ব পান খালেদ মাহমুদ সুজন। ঘরের মাঠে ফেভারিট থেকেও ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলাদেশ। হেরে যায় শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজও।

সোমবার টি-টোয়েন্টি দলের অনুশীলনের শুরুর দিন কথা বলতে এসে বিভিন্ন সব ইস্যু নিয়ে আবেগী হয়ে যান জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। মাঠের বাইরের ইস্যুতে তাকে নিয়ে গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা উঠায় ক্ষোভ ও আবেগ মিশ্রিত সুরে তিনি আর বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে কাজ করার অনাগ্রহের কথাও জানিয়েছেন।

শ্রীলংকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে দুই ইনিংসেই ব্যাটিং ধস নামে বাংলাদেশের। দুই ইনিংস মিলিয়েই দল খেলতে পারেনি ৮০ ওভারও। ত্রিদেশীয় কাপেও লঙ্কানদের বিপক্ষে একশো রানের নিচে অলআউট হয়েছিল। ফাইনালে ২২২ রান তাড়া করতেও জিততে পারেনি। সব মিলিয়ে ব্যর্থতার সিরিজের পর কি তিনি আর দায়িত্বে থাকবেন?

এমন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদের ভাষ্য,‘ব্যক্তিগতভাবে আমি আর আগ্রহী না। আমার আসলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গেই কাজ করতে ইচ্ছে করছে না। আমার আসলে নোংরা লাগছে সত্যি কথা বলতে গেলে। এতবছর বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে কাজ করছি, বাংলাদেশের উন্নতির জন্যই কাজ করছি। এখানে আমার কোনো স্বার্থ নাই।

মিডিয়া সন্দেহবাতিকগ্রস্ত উল্লেখ করে সুজন গণমাধ্যমের কারণে দেশের ক্রিকেট আটকে আছে কিনা তাও ভেবে দেখতে বলেছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নোংরা বলতে গেলে- মিডিয়াতে যেভাবে লেখা হয়। আমাদের ক্রিকেটের বড় অন্তরায় হচ্ছে...মিডিয়ারও একটা ব্যাপার আছে যে, আমরা এত ফিশি হয়ে যাচ্ছি আসলে। এখন মিডিয়াফিশি। মিডিয়ার কারণে আমাদের ক্রিকেট আটকে আছে কিনা সেটাও দেখতে হবে।

চট্টগ্রাম টেস্টে ৫৩ বলে ৮ রান করে দলের ড্র করায় ভূমিকা রেখেছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ঢাকায় তাকে না রেখে খেলানো হয় সাব্বির রহমানকে। টেস্ট চলাকালীন স্কোয়াডে থাকলেও তিন ক্রিকেটার মোসাদ্দেক, কামরুল ইসলাম ও নাঈম হাসানকে প্রিমিয়ার লিগ খেলার জন্য ছেড়ে দেয়া হয়। কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রশ্ন উঠে আবাহনীর হয়ে খেলানোর জন্যই নাকি ঢাকা টেস্টে রাখা হয়নি মোসাদ্দেককে।

এই প্রসঙ্গ টেনে এনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা খালেদ মাহমুদ এমন গুরুতর অভিযোগে আহতও হওয়ার কথা জানান।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টেকনিক্যাল হয়ত খারাপ হতে পারি। কিন্তু অন্য বিষয় নিয়ে যখন কথা বলে তখন এটা আমাকে খুবই আহত করে। আমি আবাহনীর হেড কোচ। আমি মোসাদ্দেককে খেলাই নাই এই কারণে যে আবাহনীতে খেলার জন্য। যখন ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট নিয়ে কথা বলে তখনই এটা খুবই আহত করে। আমি মনে করি না বাংলাদেশের থেকে আবাহনী বা অন্য কিছু আমাকে টাচ করতে পারে। এগুলো জীবনেও ছুঁতে পারবে না, এমনকি এখনও ছুঁতেও পারেনি।

সিরিজের দ্বিতীয় অর্থৎ ঢাকা টেস্টে শ্রীলংকার কাছে লজ্জার হারের পর সংবাদ মাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তামিম, মাহমুদউল্লাহদের মুন্ডুপাত চলছে। বাদ যাচ্ছেন না দলের দলের কোচ, নির্বাচকেরাও।

টিম ম্যানেজমেন্ট দলকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারেনি বলেই নাকি স্বাগতিকদের হোম অব ক্রিকেটে এমন হাতাশার হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। ঘরের মাঠে টাইগারদের বাজে পারফরম্যান্স দেখে ভক্তকুল তাদের ফেইসবুকে নাকি বাংলাদেশ দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদকে লাঞ্ছিত করার অভিপ্রায়ও ব্যক্ত করেছে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমার পিছে যদি কেউ লেগে থাকে আমি ভালো করলেও কোনদিনও ভালো হবে না। আমি সুজন এতকিছু করছি কোনও দিন শুনি নাই ভালো কিছু করছি। খারাপই করছি। সোশ্যাল মিডিয়ার বলেন, মিডিয়া বলেন। আমি এও শুনেছি রাস্তায় গেলে আমাকে মারও খেতে হতে পারে। ক্রিকেট খেলার জন্য রাস্তায় গিয়ে মার খেতে হয় এটা খুবই অকওয়ার্ড একটা ব্যাপার।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই