.ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৫ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪০

জাতিসংঘে হামাসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নাকচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০:০৭ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২০:০৭ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রকেট হামলা চালানোর অভিযোগে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে  যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দাপ্রস্তাবটি নাকচ হয়েছে।

প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট পড়ে ৮৭টি। আর বিপক্ষে পড়ে ৫৭টি। এতে ৩৩টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি পাশ হওয়ার জন্য দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন দরকার ছিল।

জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেছিলেন, এই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘ঐতিহাসিক ভুল’ সংশোধন করা। কেননা, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ইতিহাসে এ পর্যন্ত হামাসের বিরুদ্ধে কোনো নিন্দাপ্রস্তাবই পাশ হওয়ার কোনো নজির নেই।

তবে হামাসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সাধারণ পরিষদের এই ভোট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের মুখে একটা ‘চপেটাঘাত’।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করছেন, প্রস্তাবের পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট না পড়লেও এই প্রথম সাধারণ পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হামাসের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে।

তবে সাধারণ পরিষদে পাশ হওয়া প্রস্তাবের রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে। কিন্তু তা মানার ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলেও উল্লেখ করেন এই নেতা।

জানা গেছে, ১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘরে সাধারণ পরিষদে এই প্রথম হামাসের নিন্দা করে এ ধরনের একটি প্রস্তাব আনা হয়েছিল। যাতে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ব্রিটেন হামাস ও এর সামরিক শাখাকে একটি সন্ত্রাসবাদী দল বলে গণ্য করেছিল।

হামাসের সমর্থকরা মনে করেন, এটি ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে একটি ন্যায্য এবং বৈধ প্রতিরোধ আন্দোলন। তারা বিশ্বাস করে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অধিকার তাদের রয়েছে। সর্বোপরি ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনের নির্বাচনে হামাস জয়ী হয়।

হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জাহরি এক টুইটার পোস্টে লেখেন, “জাতিসংঘে মার্কিনীদের এই চেষ্টা যে বিফল হলো, তা দেশটির প্রশাসনের গালে একটা চপেটাঘাত এবং আমাদের প্রতিরোধ আন্দোলন যে বৈধ, সেটাই প্রমাণ করলো।”

এদিকে জাতিসংঘে ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূত এসাগ আল হাবিব বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলে এই সংঘাতের মূল কারণ থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করছে।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে এ পর্যন্ত তিনবার যুদ্ধ হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের বলিষ্ঠ সমর্থক। ট্রাম্প প্রশাসন এরইমধ্যে জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই সঙ্গে চলতি বছর তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুসালেমেও সরিয়ে এনেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী/এসআইএস