Alexa জলপাইগুড়ি নাট্যোৎসবে বটতলা’র ‘খনা’

ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৪ ১৪২৬,   ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪০

জলপাইগুড়ি নাট্যোৎসবে বটতলা’র ‘খনা’

বিনোদন প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ১০:১০ ১০ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১০:১০ ১০ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

জলপাইগুড়ি কলাকুশলী নাট্যোৎসব ২০১৯ শুরু হচ্ছে আগামীকাল থেকে। তিন দিনের এই নাট্যোৎসবে এবার বাংলাদেশের নাটকের দল বটতলা’র নাটক ‘খনা’ মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হবে। 

নাটকটি দেখা যাবে ঐ দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে। ‘খনা’ নাটকের ৬৬তম এই প্রদর্শনী ও উৎসবে অংশ নিতে গতকাল (বুধবার) বটতলা’র ১৮ সদস্যের একটি টিম বাংলাদেশ ছেড়েছেন। 

‘খনা’ নাটকটি ইতিমধ্যেই দেশ এবং দেশের বাইরের বিভিন্ন জায়গায় মঞ্চস্থ হয়েছে এবং দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। নাটকটি রচনা করেছেন সামিনা লুৎফা নিত্রা ও নির্দেশনা দিয়েছেন মোহাম্মদ আলী হায়দার।

‘খনা’ নাটকে দেখা যাবে, এক বিদুষী ‘খনা’ যার অন্য নাম লীলাবতী। তার গল্পটা অনেক পুরোনো, কিংবদন্তীর ঘেরাটোপে বন্দী। তবু যেটুকুর তল খুঁজে পাওয়া যায় তাতে বোধ হয় তিনি এক বিদুষী জ্যোতিষী, স্বামী মিহিরও একই বৃত্তিধারী। শ্বশুর যশস্বী জ্যোতিষী বরাহ মিহির। পুত্রজায়ার যশ, খ্যাতি ও বিদ্যার প্রভাব দর্শনে বরাহের হীনমন্যতা ও ঈর্ষা। শ্বশুরের নির্দেশে লীলাবতীর জিহ্বা কর্তন ও তার ‘খনা’ হয়ে ওঠার গল্প পেরিয়েছে প্রজন্মের সীমানা। 

খনার বচনের মাঝে টিকে থাকা শত বছরের আগের জল, মাটি, ফসল আর মানুষের গন্ধ মাখা জ্ঞান আর সত্যটুকু কি সত্যি লীলাবতীর? নাকি এ সত্য-তথ্য সবই এ ভূ-খন্ডের বৃষ্টি, পলি, আর জল হাওয়ার সঙ্গে মিশে থাকা যুগান্তরের সামষ্ঠিক জ্ঞানের সংকলন? 

এদিকে, লীলাবতী শুধুই কি একজন নারী বলে তার পরিণতি নির্মম, নাকি তিনি নারী হয়ে মিশেছিলেন চাষাভুষোর সনে; সেই তার কাল? পুরুষতন্ত্র না শ্রেণী কাঠামো; নাকি উভয় দাঁড়ায় লীলাবতীর বিপ্রতীপে? মিহির বা প্রাকৃত লোকালয় কারোর পরোয়া না করা জীবন ত্যাগী নেশার ঘোর তাকে নিয়ে যায় দিগন্তের ওপার। খনার সত্য শুধু থেকে যায় কৃষকের মুখে। তবু প্রশ্ন থাকে, খনার সত্যই কি একক সত্য? নাকি আজকে নির্ভুল যা কাল তা হতে পারে অসত্য? শুধু সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর যে মৃত্যুনেশা তার সে নেশা কি এক রোখা জেদ? খনা নিজেই নিজেকে করেন সম্মুখীন প্রশ্নের। 

খনা’য় সুর ও সঙ্গীতে আছেন- শারমিন ইতি, হুমায়ূন আজম রেওয়াজ, শেউতি শা’গুফতা, লোচন পলাশ। খনায় অভিনয় করছেন- সামিনা লুৎফা নিত্রা, ইমরান খান মুন্না, কাজী রোকসানা রুমা প্রমুখ। নেপথ্যে মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা- আবু আউদ আশরাফী। সুর ও সংঙ্গীত পরিকল্পনা- ব্রাত্য আমিন, শারমিন ইতি ও জিয়াউল আবেদীন রাখাল। পোষাক পরিকল্পনা-: তাহমিনা সুলতানা মৌ ও তৌফিক হাসান ভূঁইয়া। কোরিওগ্রাফি- মোহাম্মদ রাফি ও নাসির উদ্দিন নাদিম।

উল্লেখ্য, ভারতের জলপাইগুড়ি সফর থেকে ফিরে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে খনা’র ৬৭তম প্রদর্শনী করবে বটতলা। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএস/টিএএস