Alexa জরাজীর্ণ তিতুমীর কলেজ চিকিৎসাকেন্দ্র, নেই চিকিৎসার ব্যবস্থা

ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৩ ১৪২৬,   ১৯ সফর ১৪৪১

Akash

জরাজীর্ণ তিতুমীর কলেজ চিকিৎসাকেন্দ্র, নেই চিকিৎসার ব্যবস্থা

সরকারি তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৮ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সরকারি তিতুমীর কলেজের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী  নুর ইসলাম। তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন।  শ্রেণিকক্ষে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়লে সহপাঠীরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রে নিতে চাইলে জানা যায়, কলেজের প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রটি বহুদিন ধরে অকার্যকর। চিকিৎসার উপকরণ বা ডাক্তার কিছুই নেই সেখানে। অকোজো হয়ে পড়ে থাকায় তাকে দ্রুত নেয়া হয় ‘হেলথ লাইন’ হাসপাতালে।

বিষয়টি বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কামরুন নাহার মায়াকে জানালে তিনি দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে নূরকে চিকিৎসা দেন। তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজে বর্তমানে ৫৮ হাজার শিক্ষার্থী আছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে একটি সুবিশাল চিকিৎসা কেন্দ্র। কিন্তু এই সুবিশাল চিকিৎসা কেন্দ্রে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার মত কোনো উপকরণই নেই। যা আছে তাও অকোজো হয়ে পড়ে আছে। কলেজটিতে  নানান সমস্যা চিহ্নিত করে তার প্রতিকারের ব্যবস্থা নিচ্ছে কলেজ প্রশাসন। এরইমধ্যে কলেজে নতুন ভবন নির্মাণ, পুরাতন ভবন সংস্করণ, ব্রেস্ট ফিডিং রুম নির্মাণ, অডিটোরিয়াম সংস্করণ, শ্রেণিকক্ষে টাইলস লাগানোসহ বেশ কিছু কার্যক্রম করলেও বিষয়টি নিয়ে ভাবছে না কেউ।

এবিষয়ে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী আহমেদ ফেরদাউস খান বলেন, আমি গত ছয় বছর যাবত এ কলেজে পড়াশুনা করছি। অথচ কখনও আমি কলেজে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রের নাম শুনিনি। শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হলে প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়াই খুব দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় প্রাথমিক চিকিৎসা না দেয়ার কারণে সমস্যায় পড়তে। বিষয়টিতে এখনই কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া দরকার। যাতে শিক্ষার্থীরা সমস্যায় না পড়ে।

এছাড়া বর্তমানে ঢাবির অধিভুক্ত হওয়ায় কলেজে উপস্থিতির সংখ্যা বেড়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে প্রাথমিক চিকিৎসালয়ের বিকল্প নেই বলে দাবী করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে টনক নড়ে তাদের। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রটি সচল করার আশ্বাস দেন।
বিষয়টি নিয়ে সরকারি তিতুমীর কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোসা. আবেদা সুলতানা বলেন, আমাদের কোনো অফিসিয়াল চিকিৎসাকেন্দ্র নেই। যেটা ছিল সেটা এখন অকেজো, কার্যক্রম নেই। ডাক্তার না থাকায় কোনো কাজ হয় না সেখানে। তবে আমার কক্ষে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কিছু উপকরণ আছে। যা আমরা শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ট্রিটমেন্ট দিতে ব্যবহার করি। কলেজের আশপাশে অনেক হাসপাতাল আছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের কম খরচে চিকিৎসা দেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, এরইমধ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য প্রত্যেক বিভাগের প্রধানকে বলেছি। কলেজে আসার পর কেও অসুস্থ হলে যাতে আমাদের দ্রুত জানায়। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের সচেতন করার জন্যও বিভাগে জানিয়েছি।

ঘটনাটি জানার পর তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি মো. রিপন মিয়া নূর ইসলামের ডাক্তারের ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম