Alexa জমে ওঠেছে শিশু পোশাকের ঈদ বাজার

ঢাকা, শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ১০ ১৪২৬,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

জমে ওঠেছে শিশু পোশাকের ঈদ বাজার

 প্রকাশিত: ১৫:৪৯ ৮ জুন ২০১৮   আপডেট: ১৮:২১ ৮ জুন ২০১৮

ঈদ মানে অনাবিল আনন্দ। ঈদ মানে বাধাহীন দৌড়োদৌড়ি আর এ বাড়ি ও বাড়ি ঘোরে বেড়ানো। ঈদ মানে শিশুদের কোলাহল আর রংবেরঙয়ের পোশাকের বাহার। তাই ঈদ আসলে সবার আগে চাই ছোট্ট শোনামনিটির জন্য রঙ্গিন পোশাক। সঙ্গে মানানসই জুতা। এ ভাবনা থেকে বিচ্যুত নয় ব্যবসায়ীরাও।

রাজধানীর গাউসিয়া, নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা, যমুনা ফিউচার পার্ক, মিরপুরের ফ্যাশনপল্লী, বা উত্তরার রাজলক্ষীসহ বিভিন্ন অভিজাত মার্কেট ও শপিংমলে রয়েছে ছোটদের পোশাকের আলাদা দোকান। কিন্তু কম দামে রুচিশীল সুন্দর ও রকমারি শিশু পোশাকের জন্য অন্যতম- নয়াপলটনের গাজী শপিং সেন্টার। যেন এক শিশু পোশাক পল্লী। দোকানে দোকানে রংবেরঙয়ের পোশাক। ভিন্ন ভিন্ন নামে বাহারি পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন দোকানিরা।

শিশুদের রেডিমেড পোশাকের জন্য সুখ্যাতি থাকলেও, এখানে আছে নারী-পুরুষ সব বয়সীদের পোশাক। শপিং সেন্টারের ঢুকতেই প্রথম, দ্বিতীয় তলা জুড়ে থরথরে সাজানো ছোটদের বাহারি ডিজাইনের পোশাকে চোখ কাড়বে যে কেউর। তৃতীয় তলায় ছোটদের জুতা।

রকমারি ডিজাইনের শিশু পোশাকগুলোর অধিকাংশই ভারতীয়। চীন থেকেও আসে কিছু পোশাক। ডিজাইনে উভয় দেশের পোশাকগুলো প্রায় একই রকম হলেও, মানে রয়েছে বেশ তফাত। দামেও তেমন। ৬`শ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে নামিদামি শিশু পোশাক। ছেলেমেয়ে সবার চাহিদা মত কাপড় পাওয়া যায় এখানে।

চতুর্থতলায় মেয়েদের পার্টস ও ব্যাগ, ছোটদের স্কুল ব্যাগ, মেয়েদের থ্রী পিস, ট্রলিসহ বাহারি ডিজাইনের ব্যাগ। মূলত এখানে পাইকারি বেচাকেনা হয় বেশি। তবে ঈদ পার্বনে খুচরায় থাকে বিশেষ আয়োজন। আর সারা বছর তো আছেই। নগরীর সব বড় বড় দোকানিরাও ঝকঝকে মনকাড়া রেডিমেড শিশু পোশাক সংগ্রহ করেন গাজী শপিং সেন্টার থেকে।

এখানে ছোটদের বিকিং জিন্সপ্যান্ট ২ হাজার থেকে ২৫শ টাকা, টিস্যু জিন্স প্যান্ট ১ হাজার থেকে ১৫শ টাকা, জেএসটি জিন্স প্যান্ট ১২শ থেকে ১৪শ টাকা, লুচিং কটন প্যান্ট ১৫শ থেকে ১৮শ টাকা, কিউ এ্যান্ড জি কটন প্যান্ট ১২শ থেকে ১৫শ টাকা। আর গিফিনি হাফ গেঞ্জি ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা, কিউ অ্যান্ড জি হাফ গেঞ্জি ২ হাজার থেকে ২৫শ টাকা, বিভিন্ন ডিজাইনের হাফ গেঞ্জি ৯শ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। এছাড়া সাধারণ ব্রান্ডের বিভিন্ন ধরনের হাফ গেঞ্জি ৬শ থেখে ৭৫০ টাকা এবং জিন্সপ্যান্ট ৯শ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।

আর ছোট মেয়েদের পোশাকে রয়েছে বাহারি রং ও রকমারি ডিজাইন। বর্নিল রংয়ে গাউন, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, ফ্লোর টাচ, কিরণমালা, পাখি, বর্ণমালা, ঝিনুকমালা ও মুচকান পাওয়া যাচ্ছে। এসব পোশাকের মূল্য ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। এছাড়া শিশুদের ফ্রক ও টপস ৬শ থেকে ৯শ টাকা।

শান্তিনগর থেকে ঈদ শপিংয়ে আসা বেসরকারি এক ব্যাংক কর্মকর্তা ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, বহু বছর থেকেই ছোটদের পোশাকের জন্য গাজীর সুখ্যাতি আছে। ঈদ ছাড়াও সারাবছরই এখান থেকেই বাচ্চাদের জন্য কেনাকাটা করি।

মগবাজার থেকে আসা সুমি নামের এক মহিলা বলেন, বাচ্চাদের অনেক ভালো ভালো পোশাক আছে। কিন্তু এখনকার পোশাক গুলো খুবই আধুনিক। দামও সস্তা। তাই একটু দূর হলেও বাচ্চাদের প্রয়োজনে এখানেই আসি।

শিশু পোশাক কিনতে মতিঝিল থেকে এসেছেন রাবেয়া সুলতানা। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদে স্বল্প খরচে ভালো মান ও আধুনিক পোশাক পেতে এখানে আসা। আর এখানকার ব্যবসায়ীরাও অনেক সস্তায় উন্নত ও বিদেশি পোশাক বিক্রি করেন।

গাজী ভবন শপিং সেন্টারের দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানান, আর সাত আট দিন পর ঈদ। কিন্তু এবার পাইকারি বিক্রি হয়েছে অনেক কম। এখন খুচরা বিক্রি হচ্ছে বেশি।

এম কে এন্টারপ্রাইজ দোকানি জানায়, মূলত এটি পাইকারি মার্কেট। পাইকারি কেনবেচাও শেষের দিকে। এখন খুরচা বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্য বারের তুলনায় এ বছর বিক্রি কম বলেও দাবি তাদের।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/এলকে

Best Electronics
Best Electronics