জমে উঠছে রাজধানীর ফুটপাতের বিকিকিনি

ঢাকা, রোববার   ১৯ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৬,   ১৪ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

জমে উঠছে রাজধানীর ফুটপাতের বিকিকিনি

আব্দুল্লাহ আল মামুন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫৫ ১৫ মে ২০১৯   আপডেট: ২২:৪৫ ১৫ মে ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঈদুল ফিতরকে ঘিরে রাজধানীর ফুটপাতগুলোতে জমে উঠতে শুরু করেছে ক্রেতাদের আনাগোনা। দিন যতই এগিয়ে আসছে ফুটপাতের বিকিকিনিও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।  নগরীর প্রায় অর্ধশত স্থানে গড়ে ওঠেছে এসব ফুটপাত।

ঈদুল ফিতরকে ঘিরে এরই মধ্যে জমে উঠেছে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর-পশ্চিম গেটের সামনে, দৈনিক বাংলা মোড়, মতিঝিল জনতা ব্যাংকের সামনে, মতিঝিল শাপলা চত্বরের চারদিকের ফুটপাত, ফকিরাপুল এলাকা, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ হকার্স সমিতি মার্কেট, গুলিস্তান মোড়ের চারপাশের ফুটপাত, নয়াপল্টনের ভিআইপি সড়কের ফুটপাত, গোলাপ শাহ মাজার সংলগ্ন ফুটপাত, বঙ্গবাজার, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, ঢাকা কলেজের সামনে, গাউছিয়া, ইডেন কলেজের সামনে ও মিরপুর এলাকায় চাঁদনীচকের ফুটপাত।

বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছে ফুটপাতের দোকানদাররা। ক্রেতাদের উপস্থিতিও তেমনভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে না। বিছিন্নভাবে ক্রেতারা ফুটপাতে ভিড় জমাতে শুরু করেছে। 

ফুটপাতের দোকানগুলোতে কী নেই? শার্ট, প্যান্ট, জুতা, সালোয়ার, কামিজ, রং-বেরংয়ের থ্রি-পিস, গেঞ্জি, পাজামা-পাঞ্জাবি, কসমেটিকস্, টুপি, সব কিছুই রয়েছে ফুটপাতের দোকানে। দামও রয়েছে নাগালের মধ্যেই। কেউ কর্মস্থলে যাওয়ার সময় কেউবা ফেরার সময় পছন্দ মতো নিজেদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারছেন।

এদিকে ফুটপাতে পোশাকের দাম তুলনামূলক কম হলেও মান নিম্ন, এমন ভাববার কোনো কারণ নেই। ফুটপাতে দোকান ভাড়া কম লাগে বলেই তারা মার্কেটের পণ্য থেকে কমমূল্যে বিক্রি করতে পারছেন বলে জানান ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। 

মার্কেট ভেদে ছেলেদের শার্ট বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়, জিন্স প্যান্ট ৩৫০ থেকে সাড়ে ৭০০ টাকায়, টি-শার্ট ১৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, মেয়েদের  থ্রি-পিস ৩০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা, শাড়ি ৪০০ থেকে ২০০০ হাজার টাকা, বাচ্চাদের থ্রি-কোয়াটার জিন্স প্যান্ট ৩০০ টাকা, গেঞ্জির সেট ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, ফ্রক ও টপস ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য হাতাকাটা গেঞ্জি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা।

ঈদ বাজারের কেনাকাটা সম্পর্কে জানতে চাইলে ফুটপাতের এক বিক্রেতা ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, রমজানের প্রথম দিকে তেমন জমজমাট ছিল না কিন্তু এখন দিন দিন ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে।
 
তিনি জানান, ক্রেতারা প্রতিদিনই আসছেন, তবে জমজমাটভাবে এখনো শুরু হয়নি। মূল কেনাবেচা শুরু হবে ১৫ রমজানের পর থেকে। ঈদের সময় যতো কাছে আসছে বেচাকেনাও তত বাড়তে থাকবে। 

মিরপুর ১৩ নম্বর ফুটপাতে বিভিন্ন প্রকারের ব্যাগ বিক্রয় করেন সুমন হাসান। তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এখনো ঈদের মূল কেনাকাটা শুরু হয়নি। ১৫ রমজান থেকে তা শুরু হবে।

নিউমার্কেটের সামনে ফুটপাতের পোশাক বিক্রেতা রায়হান কবীর ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, কোনো রকম ভাবে বেচাকেনা চলছে। তবে আশা করি, আগামী ১৫ রমজানের পর থেকে বেচাকেনা শুরু হবে।

তিনি বলেন, এখন ক্রেতারা আসছেন, পণ্য দেখছেন, কিন্তু কিনছেন না। প্রতি বছরই ১৫ রমজানের পর থেকে বেচাকেনা শুরু হয়, আশা করছি, এবারো ১৫ রমজানের পর থেকে মূল বেচাকেনা শুরু হবে।

নিউমার্কেটের ফুটপাত থেকে মেয়ের জন্য গাউন কিনেছেন ফারাহ রহমান। পোশাকের মান ও দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা সাধ্যের মধ্যে সেরাটা খুঁজে নেয়ার জায়গা হল ফুটপাত। পোশাকের মান ভালো ও দাম, দুটোই হাতের নাগালে।

স্কুল পড়ুয়া মেয়ের জন্য পোশাক কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী লিয়াকত আলী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, জাঁমজমকপূর্ণ আলো ঝলমলে মার্কেটে পোশাকের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় আমাদের মত নিম্ন আয়ের মানুষদের একমাত্র ভরসা এই ফুটপাত।

তিনি বলেন, নামীদামী শপিংমলে কেনাকাটার ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্য না থাকায় পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের কেনাকাটা ফুটপাত থেকেই করতে হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর

Best Electronics