জবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ-গুলি, আহত ৩০

.ঢাকা, বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১০ ১৪২৬,   ১৮ শা'বান ১৪৪০

জবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ-গুলি, আহত ৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:২৩ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় উভয়পক্ষ গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার ছাত্রলীগের কমিটিবিহীন ক্যাম্পাসটিতে আধিপত্য ও শক্তির মহড়া দেখাতে গিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ বাধে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুর ১২টা থেকে নতুন কমিটি প্রত্যাশীদের সঙ্গে স্থগিত কমিটির সভাপতি-সম্পাদক তরিকুল-রাসেল গ্রুপের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর তারা দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে নতুন কমিটি প্রত্যাশী কর্মীরা বাহাদুর শাহ পার্কের দিকে এবং তরিকুল-রাসেলের কর্মীরা মূল ফটকের কাছে অবস্থান নেন। তরিকুল-রাসেলের কর্মীরা এ সময় এলোপাতাড়ি কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, নতুন পদ প্রত্যাশী‌দের শতাধিক শিক্ষার্থী হামলায় অংশ নেন।  তা‌দের হা‌তেও লা‌ঠি সোটা ও রড দেখা যায়। ত‌বে তারা মূল ক্যাম্পা‌সে ঢুক‌তে পা‌রেননি।

শিক্ষার্থীরা জানান, তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তরিকুল ওরফে দাদা গ্রুপের কর্মীরা রামদা দিয়ে দৈনিক সংবাদের সাংবাদিক রাকিবুল ইসলামের মাথায় আঘাত করে। এছাড়াও উভয় গ্রুপের হামলায় মাথায় আঘাতের শিকার হন দৈনিক সমকালের লতিফুল ইসলাম, বিডি ২৪ রিপোর্ট ডটকমের সানাউল্লাহ ফাহাদ, জয়নুল আবেদীনসহ সাতজন সাংবাদিক।

হামলায় আরো আহত হন স্থগিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আফসার, ওনি, সাবেক সহ সম্পাদক টুটুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাউসার, সাদেক, এমরান, হাসান মোট ৩০ জন।

নতুন পদ প্রত্যাশী জবি শাখা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল টিটন বলেন, বিগত কয়েকদিন ধরে আমরা ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলাম। সোমবার বেলা ১২টার পর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। অনেকেই গুরুত্বর আহত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আমাদের দাবি দ্রুত চাঁদাবাজ নেই এমন নেতৃত্ব রেখে কমিটি দেয়া হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জবি ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল বলেন, ক্যাম্পাসে কী হচ্ছে তা আমরা জানি না। এটা জানার কথা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের। কারা কী করছে সেটার দায় আমাদের ওপর এখন বর্তায় না।

এ প্রসঙ্গে সহকারী প্রক্টর মহিউদ্দিন মাহী বলেন, কয়েকদিন ধরেই সংঘর্ষ হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টা সমাধান হওয়া দরকার। আজকের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রেজয়ানুল হক শোভন বলেন, সাংবাদিকদের ওপর আঘাত অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ব্যাপারে তদন্ত করে কঠিন থেকে কঠিনতর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই