জন বার্ডিন: নোবেল ইতিহাসের নক্ষত্র
SELECT bn_content_arch.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content_arch INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content_arch.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content_arch.ContentID WHERE bn_content_arch.Deletable=1 AND bn_content_arch.ShowContent=1 AND bn_content_arch.ContentID=75261 LIMIT 1

ঢাকা, সোমবার   ১০ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৬ ১৪২৭,   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

জন বার্ডিন: নোবেল ইতিহাসের নক্ষত্র

হাসিব শাহ আমান

 প্রকাশিত: ১৩:০২ ১০ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৩:০২ ১০ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নোবেল পুরষ্কার জয়ের বিরল সম্মান অর্জনের সুযোগ অল্প কয়েকজন মানুষেরই হয়েছে। কিন্তু এই নোবেল বিজয়ীদের মাঝেও একজনকে সহজেই আলাদা করা যায়। তিনি জন বার্ডিন। তিনি ছিলেন একজন মার্কিন পদার্থবিদ। পৃথিবীর একমাত্র পদার্থবিদ হিসেবে তিনিই একই বিষয়ে ২বার নোবেল পুরষ্কার জয়ের বিরল গৌরব অর্জন করেন।

১৯৫৬ সালে প্রথমবার তিনি নোবেল পুরষ্কার অর্জন করেন ট্রানজিস্টর আবিষ্কারে তার অবদানের জন্য। এই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক্স শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে তিনি ‘সুপারকন্ডাকটিভিটি থিওরি’ থিওরি উদ্ভাবনে অবদানের জন্য ১৯৭২ সালে পদার্থবিজ্ঞানে পুনঃরায় নোবেল অর্জন করেন। ১৯৫৬ সালে জন বার্ডিনের সঙ্গে উইলিয়াম শকলে এবং ওয়াল্টার ব্রাটাইনও পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল অর্জন করেন। এবং ১৯৭২ সালে লিওন কুপার ও জন শ্রিফার তার সঙ্গে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।

মার্কিন ডাকটিকিটে জন বার্ডিন

জন্ম ও বেড়ে ওঠা

জন বার্ডিন ১৯০৮ সালের ২৩ মে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের ম্যাডিসনে জনগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ইউনিভার্সিটি অফ উইসকনসিন-এর মেডিকেল স্কুলের ডিন, চার্লস বার্ডিন এবং শিল্প ঐতিহাসিক এলথিয়া বার্ডিনের ৫ সন্তানের মাঝে দ্বিতীয়। তার বয়স যখন প্রায় ৯ বছর, তখন তিনি একসাথে ৩টি ক্লাস না পড়ে সরাসরি ৭ম গ্রেডে পড়াশুনা শুরু করেন। এরপরের বছরই তিনি হাইস্কুলে ক্লাস শুরু করেন। হাইস্কুলের পাঠ চুকিয়ে তিনি ইউনিভার্সিটি অফ উইসকিনসনে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। তখন তিনি প্রফেসর জন ভ্যান ভ্লেক-এর কাছে প্রথম কোয়ান্টাম মেকানিক্স বিষয়ে জ্ঞান লাভ করেন। ১৯২৮ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অফ উইসকিনসন থেকে ব্যাচেলর অফ সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সেখানেই লেখাপড়া চালিয়ে যান। ১৯২৯ সালে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন।

নোবেল হাতে জন বার্ডিন

কর্মজীবনের শুরু

বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষা শেষ করে বার্ডিন তার প্রফেসর লিও পিটারস-এর অনুসরণে গালফ রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন-এ যোগ দেন। সেখানে তিনি তেল সন্ধান বিষয়ে পড়ালেখার সুযোগ পেয়ে যান। বার্ডিন সেখানে ম্যাগনেটিক সার্ভে থেকে ভূ-তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যার এক অভিনব পদ্ধতি উদ্ভাবনে সহায়তা করেন। এই পদ্ধতি এতোই কার্যকারী ছিলো যে, কোম্পানিটি বহুদিন যাবৎ তাদের এই আবিষ্কার পেটেন্ট না করে গোপন রেখে দেয়। কেননা তাদের ভয় ছিলো, পেটেন্টের পর অন্য কোম্পানিগুলো এই পদ্ধতিটির আদ্যপান্ত জেনে গেলে বাজারের প্রতিযোগীতা বহুগুণে বেড়ে যাবে। আবিষ্কারের বহু বছর পরে ১৯৪৯ সালে কোম্পানিটি এই উদ্ভাবন নিজেদের নামে পেটেন্ট করিয়ে নেয়।

১৯৩৩ সালে জন বার্ডিন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে গাণিতিক পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যয়নের জন্য গালফ ছেড়ে চলে যান। তিনি প্রিন্সটনে প্রফেসর ই.পি উইগনার-এর অধীনে সলিড স্টেট ফিজিক্সে পড়াশোনা চালাতে থাকেন। এরপর ১৯৩৬ সালে তিনি প্রিন্সটন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। যদিও তিনি এর মাঝেই ১৯৩৫ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সোসাইটি অফ ফেলোস-এর সদস্য নির্বাচিত হন এবং পুনরায় প্রফেসর জন ভ্যান ভ্লেক-এর সঙ্গে ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত সলিড স্টেট ফিজিক্সের উপরই কাজ করে যান।

জন বার্ডিনের অটোগ্রাফ

১৯৩৮ সালে জন বার্ডিন ইউনিভার্সিটি অফ মিনেসোটা’য় সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। সেখানে তিনি ‘সুপারকন্ডাক্টিভিটি’ নিয়ে পড়াশোনা করেন। এর মূল বিষয়টি ছিল, পরম তাপমাত্রায় ধাতু বৈদ্যুতিক সহনীয়তা শূণ্যে নেমে আসে। কিন্তু এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে তিনি ১৯৪১ সালে ওয়াশিংটন ডিসি’তে অবস্থিত ‘ন্যাভাল অর্ডন্যান্স ল্যাবরেটরি’তে মাইন এবং জাহাজ সনাক্তকরণ বিষয়ে কাজ শুরু করেন।

স্ত্রীর সঙ্গে জন বার্ডিন
বেল ল্যাবস এবং ট্রানজিস্টর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে, ১৯৪৫ সালে জন বার্ডিন বেল ল্যাবে গবেষণার কাজ শুরু করেন। তিনি কঠিন অবস্থার ইলেক্ট্রনিক্স নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। বিশেষত অর্ধপরিবাহীরা যেভাবে ইলেক্ট্রন পরিবরহণ করে, সেটি নিয়ে। এই তাত্ত্বিক কাজটি সে সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলোকে বুঝতে সাহায্য করেছিলো। ট্রানজিস্টর উদ্ভাবন সম্ভব হয় একটি ইলেকট্রনিক উপাদানের মাধ্যমে। যেটি ইলেক্ট্রনিক সংকেতকে পরিবর্তন বা বর্ধন করতে সক্ষম ছিলো। এটি আজকের আধুনিক ইলেক্ট্রনিকের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বার্ডিন এবং তার সহকর্মী গবেষকদ্বয় উইলিয়াম শকলে ও ওয়াল্টার ব্রাটান ১৯৫৬ সালে ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের কৃতিত্বে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল লাভ করেন।

বার্ডিন ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়েস-এর ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে ১৯৫১ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি এমিরেটাস অধ্যাপক হিসেবে কাজ করতে থাকেন। তিনি পুরো ১৯৮০ দশন পর্যন্ত তার গবেষণা চালিয়ে যান এবং তার গবেষণাগুলো ১৯৯১ সালে মৃত্যুর আগের বছর পর্যন্ত বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশ করে যান।

গবেষণাগারে জন বার্ডিন

সুপারকন্ডাক্টিভিটি রিসার্চ

১৯৩০ সালে সুপারকন্ডাক্টিভিটি নিয়ে পড়াশোনা করার পর পরবর্তীতে ১৯৫০ এর দশকে বার্ডিন পুনরায় তার সুপারকন্ডাক্টিভিটি বিষয়ক গবেষণা শুরু করেন। প্রফেসর জন শ্রিফার এবং লিওন কুপারের সাথে বার্ডিন সুপারকন্ডাক্টিভিটির প্রচলিত থিওরি বিকাশ ও সম্প্রসারণে গবেষণার কাজ শুরু করেন, যা পরবর্তীতে বার্ডিন-কুপার-শ্রিফার (বিসিএস) থিওরি নামে পরিচয় পায়। এই কাজের জন্য তারা ৩ জন একত্রে ১৯৭২ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল লাভ করেন। এর মাধ্যমে জন বার্ডিন একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে একই ক্ষেত্রে (পদার্থবিজ্ঞানে) ২ বার নোবেল জয়ের গৌরব অর্জন করেন।

জন বার্ডিন ১৯৯১ সালের ৩০ জানুয়ারি ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮২ বছর বয়সে ইহকাল ত্যাগ করেন। পদার্থবিজ্ঞানে তার অবদান ও গবেষণার প্রভাব আজকের দিনেও বিদ্যমান। পদার্থবিজ্ঞানে দুইবার নোবেল জয় ছাড়াও বিসিএস থিওরি সম্প্রসারণ এবং ট্রানজিস্টর আবিষ্কারে তার থিওরিটিক্যাল কাজের জন্য আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় তাকে। ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার পুরো ইলেক্ট্রনিক জগতে বিপ্লব এনে দেয়, যা প্রাচীন ধর্মী বিশাল আকারের ভ্যাকুয়াম টিউবের স্থান দখন করে নেয় এবং ইলেক্ট্রনিক পণ্যের ক্ষুদ্রাতিকরণের মাধ্যমে সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে সাহায্য করে।

ডেইলিবাংলাদেশ/এনকে