জনশূন্য ঢাকা: মাস্কের আড়ালে চুরির আতঙ্ক!

ঢাকা, শুক্রবার   ২৯ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৭,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

জনশূন্য ঢাকা: মাস্কের আড়ালে চুরির আতঙ্ক!

মো: ইদ্রিস আলম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫২ ২৮ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৮:৪৯ ২৮ মার্চ ২০২০

জনশূন্য ঢাকা। ছবি: সংগৃহীত

জনশূন্য ঢাকা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনা প্রতরোধে ছুটি ঘোষণা করে জনগণকে বাড়িতে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। রাজধানী ঢাকার মানুষ তাই নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। ফলে এ জনবহুল মহানগর এখন অনেকটাই ফাঁকা।

এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মানুষকে মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এই জনশূন্য ঢাকায় মাস্ক ব্যবহারের সুবিধা নিয়ে অপরাধ বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা নগরবাসীর। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা  রয়েছেন চুরি আতঙ্কে।

শুক্রবার রাজধানীর তুরাগ,উত্তরা, মিরপুরসহ বেশকিছু এলাকা ঘুরে দেখা মিলে এমন জনশূন্য চিত্র।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলেছে, রাজধানীতে সার্বক্ষণিক পুলিশ টহলে রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় কর্মরত নিরাপত্তাকর্মী ও নাইট গার্ডদের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। এই কয়েকদিনে অপরাধ প্রবণতাও হ্রাস পেয়েছে বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। 

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গত দু'দিন ধরে রাজধানী ঢাকা মূলত অচল। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জুড়ে নীরবতা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বের হতে দেখা যায়নি। কেউ বের হলেও তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। এমন জনশূন্য ঢাকায় অপরাধী ও মাদকসেবীরা বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি-ডাকাতি করতে পারে বলে আশঙ্কা। দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি হওয়ার আশঙ্কা করেছেন অনেক ব্যবসায়ী।

তুরাগের বাউনিয়া বটতলা এলাকায় স্টেশনারি ও মৌসুমি ল্যাইব্রেরি ব্যবসায়ী কামাল হোসেন, বলেন, আমার দোকানে কোটি টাকার মালামাল রয়েছে। এই এলাকায় চোরের সংখ্যাও কম না। এমনিতেই চুরির ঘটনা ঘটে দিনে- রাতে। এখন সব কিছু ফাঁকা পেয়ে যেকোনো সময় চুরির ঘটনা ঘটাতে পারে। চোর শোনে না ধর্মের কথা। আর কোরনার কথা শুনবে কি করে।

উত্তরার ১৪নম্বর সেক্টর বেগম জহুরা মার্কেটে ইলেকট্রিক পণ্যের ব্যবসা করেন শাহিন আলম। একটি ছোট্ট দোকান আছে। তিনি বলেন, ‘দোকানে আমি একাই বসি। তবে গত ৩ দিন ধরে দোকান বন্ধ। সেখান থেকে এসে দিনে একবার দোকান দেখে যাই। সবার দোকানই বন্ধ। একজন নিরাপত্তাকর্মীও আছেন। তবে শহরের যে অবস্থা তাতে ভয় লাগে। তিনি বলেন, ‘এখন সবার মুখ আটকা। কে কখন কিভাবে চুরি করবে ঠিক নেই। মাদকসেবীরা দোকানের শাটার ভেঙে ফেলতে পারে যেকোনো সময়।’

মিরপুর পল্লবী থানায় এলাকায় মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন গাড়ির পার্টসের ব্যবসা করেন ইমরুল কায়েস। একটি দোকান আছে তার। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি দোকান বন্ধ রেখেছেন। তবে সড়কে মানুষ চলাচল না থাকায় তিনি চিন্তিত। দোকানে চুরি হয় কিনা সে আশঙ্কায় রয়েছেন। ইমরুল বলেন, এখন রাত দিন সবই সমান। সবাই নিজেদের জীবন নিয়ে চিন্তিত। কোথায় কী হচ্ছে তা কেউ খবর নেবে না। দোকান কেউ তুলে নিলেও মানুষ বাইরে বের হবে না।

এদিকে জনশূন্য রাজধানীতে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, সব এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশ টহলে রয়েছে। এরমধ্যে কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সুযোগ নেই। সন্দেহভাজন কাউকে মাস্ক পরা দেখলে তাদের জেরার মুখে পড়তে হবে।

ডিএমপির জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, রাজধানীতে গত কয়েকদিনে অপরাধ হ্রাস পেয়েছে। অপরাধ সংঘটিত হতে হলে ভিকটিম, স্থান ও সময় প্রয়োজন। বর্তমানে সেই পরিস্থিতি নেই। আমাদের পুলিশ ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। সুতরাং আপনারা নিরাপদে থাকুন। আপনাদের জানমালের নিরাপত্তা দিবে পুলিশ সদস্যরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এসএএম