.ঢাকা, বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১১ ১৪২৬,   ১৮ শা'বান ১৪৪০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন

জনগণকে বঞ্চনা থেকে মুক্ত করাই ‘আমার দায়িত্ব’

 প্রকাশিত: ১৬:৫৬ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৮:১৯ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আইডিইবি’র ২২তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি: পিআইডি)

আইডিইবি’র ২২তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি: পিআইডি)

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশকে সমৃদ্ধ করতে বঞ্চিত জনগণকে বঞ্চনার হাত থেকে মুক্ত করা আমার দায়িত্ব। 

শনিবার গণভবনে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) এর ২২তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, অনেক বছর আমাদের নষ্ট হয়েছে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এই ২১ বছরে প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের কোনো উন্নতিই হয়নি। উন্নয়ন হয়েছে কিছু মুষ্টিমেয় মানুষের। বাকি সাধারণ জনগণকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমার দায়িত্ব সেসব মানুষদের বঞ্চনার হাত থেকে মুক্ত করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বাংলাদেশের জনগণের জন্য রাজনীতি করেন। দেশের উন্নয়নের জন্য নিজের জীবনের প্রতিটি সেকেন্ড কাজে লাগাচ্ছেন। আমি আমার নিজের ভাগ্য গড়তে রাজনীতিতে আসিনি, আমি এখানে জনগণের ভাগ্য গড়ে দিতে এসেছি। যার ফলে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে।

সরকার প্রধান বলেন, রাজধানী ঢাকার ওপর অত্যাধিক চাপ কমানোর লক্ষ্যে সরকার দেশের গ্রামগুলোকে আরো উন্নত করে গড়ে তুলতে চায়।

এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার গ্রামাঞ্চলের জনগণের কাছে শহরের সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে চায়, যাতে তারা সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারে।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, আমরা শহরের মতো করে গ্রামগুলোকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এসব এলাকায় সব ধরনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করব। আমরা তার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। এটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

আওয়ামী লীগ সভাপতি আরো বলেন, সরকার গ্রামীণ এলাকাগুলোতে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে। যাতে এখানে বসবাসরত মানুষ তাদের পছন্দমতো বাড়ি নির্মাণ করতে পারে। তাদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। নানা কর্মসূচিও গ্রহণ করা হচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। দেশের বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়নের জন্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার সর্বদা বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভিত্তিক শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা যে শিক্ষা নীতি গ্রহণ করেছি তাতে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশকে আপনাদের গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুন্দর জীবন পেতে পারে। এ উদ্দেশে আপনাদের সবাইকে একান্তভাবে কাজ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন এবং মাঠ পর্যায়ে এগুলোর গুণগত মান বজায় রাখা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদেরই কর্তব্য।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার একটি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এরইমধ্যে ১০০টি কারিগরি স্কুল ও কলেজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে গেছে।

তিনি আরো উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৩টি বিশ্বমানের নতুন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কাজ করছে। 

আইডিইবি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি একেএমএ হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- আইডিইবি'র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান। 

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের নির্মিত একটি রোবট প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানায়। এর আগে, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে তিন দিনের সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/এমআরকে/আরআই