Alexa ছয়দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ১৭ জনের মৃত্যু

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯,   আশ্বিন ৩০ ১৪২৬,   ১৫ সফর ১৪৪১

Akash

ছয়দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ১৭ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪২ ১২ মার্চ ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ভেনেজুয়েলায় এখনো কাটেনি চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ বিদ্যুৎ বিভ্রাট টানা ষষ্ট দিনে এসে পড়লো। চলমান এ সঙ্কটের কারণে সোমবার থেকে দেশের সকল শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। এদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জনের প্রাণহানী ঘটেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির বিরোধী জোটের প্রধান ও স্বঘোষিত অন্তবর্তী প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদো। 

রোববার তিনি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো’র সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘মাদুরো সরকার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটানোর মাধ্যমে ১৭ জন নিরীহ লোককে হত্যা করেছে। বর্তমানে দেশের ১৬টি প্রদেশেই কোনো বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই। মাত্র ৬টি প্রদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ রয়েছে, তবে তাও আংশিক।’ - খবর সিএনএন ও রয়টার্সে’র

বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণ, কারখানা ইত্যাদি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বেসরকারি খাতে অন্তত ৪০০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া অন্ধকারের মধ্যে দুর্বৃত্তদের লুটপাটের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গুয়াইদো হুমকিঁ দিয়েছেন, যদি এ অবস্থা চলতে থাকে তবে তিনি দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন। বর্তমানে দেশটির ৭০ ভাগেরও বেশি স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে দেশটির হাসপাতালগুলো। 

ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক কাঠামো এবং বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এমনিতেই দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশটি খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট সেখানে ধ্বংস এবং হতাশা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সরকারপন্থি ‘মোটরসাইকেল গ্যাং’ অন্ধকার সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। স্থানীয়দের কাছে তারা ‘কালেক্টিভস’ নামে পরিচিত।

বন্দুকের মুখে তারা সাধারণ জনগণকে তাদের আদেশ মানতে বাধ্য করছে। চারপাশে চরম হতাশজনক পরিস্থিতির মধ্যে কোথাও কোথাও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। গেল ছয়দিন ধরে ভেনেজুয়েলা জুড়ে চলা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে প্রকৃত অবস্থা কী ছিল বা অন্ধকারে কী ঘটছে তা অনুমান করা কঠিন।

এখনো দেশের অনেকাংশ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। তারা কী পরিস্থিতির মধ্যে আছে তার পূর্ণ চিত্র পাওয়াও শক্ত। আর যেসব জায়গায় বিদ্যুৎ আসছে সেখানেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আবারও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।

গেল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ পরিস্থিতির কারণে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, ব্যাংক, ক্রেডিট-কার্ড মেশিন, ইলেক্ট্রিক কুকার বা এয়ার কন্ডিশনার ছাড়া সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন অতিবাহিত করাই এখন ভীষণ দায় হয়ে পড়েছে।

সুপারমার্কেটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাবারের যোগান পেতে স্থানীয়দের হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারাকাস উপকণ্ঠে একটি সুপারমার্কেটের বাইরে ক্ষোভে ফুসতে থাকা এক মা বলেন, আমার দুই বছরের একটি ছেলে আছে। আর গতকাল থেকে আমার ঘরে কোনো খাবার নেই।

তার বাড়ির কাছের একটি দোকান লুট হয়ে গেছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, তার এক প্রতিবেশী তাকে সামান্য ভাত দিয়েছে।

“আমি সেই ভাতে পানি ঢেলে সামান্য চিনি মিশিয়ে আমার ছেলেকে খাইয়েছি। কিন্তু আজ যখন সে আমার কাছে খাবার চাইবে, আমি তাকে কী দেব? প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ হিসেবে আমি ক্ষুধা সহ্য করতে পারি। আমার এক গ্লাস পানি হলেই হয়। কিন্তু একটি শিশু কী করবে?”

এই মা যখন কথা বলছিলেন ঠিক তার পেছনে একদল চরম হতাশ মা খাদ্য পণ্যের আশায় মরিয়া হয়ে বন্ধ সুপারমার্কেটের দরজায় আঘাত করছিলেন।

সুপারমার্কেটের ভেতরে ক্যাশ রেজিস্টার বা কার্ড মেশিন কাজ করছিল না। সুপারমার্কেটের কর্মীরা শুধুমাত্র মার্কিন ডলারের বিনিময়ে পণ্য দিচ্ছিলেন।

ক্ষুব্ধ মাজোরিয়ে বলেন, “আমরা দেশে মার্কিন ডলার ব্যবহার করি না। আমরা মার্কিন ডলারে বেতন পাই না। আমরা বলিভারে বেতন পাই।

“আমরা এই দোকান লুট করতে চাই না। আমরা সমস্যার কারণ হতে চাই না। আমরা খাবার চাই, আমরা ক্ষুধার্ত।”

সরকারের নির্দেশেই দেশজুড়ে এ বিদ্যুসঙ্কট চলছে বলে অভিযোগ করেছেন গুয়াইদো। তবে তার আনা এ অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন প্রেসিডেন্ট মাদুরো। তিনি পাল্টা অভিযোগ এনে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে হামলার ঘটনায়ই এ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী/টিআরএইচ