ছোট বড় সবার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করতে হয়?

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭,   ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ছোট বড় সবার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করতে হয়?

মুফতী শহীদুল ইসলাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪৭ ১৯ মে ২০২০   আপডেট: ১৪:৪৯ ১৯ মে ২০২০

কোনো বাচ্চা যদি ঈদের দিন সুবহে সাদিকের আগে জন্ম নেয় বা কোনো ব্যক্তি সুবহে সাদিকের আগে মারা গেলে তাদের ফিতরার বিধান জেনে নিন।

কোনো বাচ্চা যদি ঈদের দিন সুবহে সাদিকের আগে জন্ম নেয় বা কোনো ব্যক্তি সুবহে সাদিকের আগে মারা গেলে তাদের ফিতরার বিধান জেনে নিন।

প্রশ্ন : আমরা জানি রোজার শেষে ফিতরা দিতে হয়। জানতে চাচ্ছি, ফিতরা ছোট বড় সবার পক্ষ থেকে দিতে হবে? কোনো বাচ্চা যদি ঈদের দিন সুবহে সাদিকের আগে জন্ম নেয় বা কোনো ব্যক্তি সুবহে সাদিকের আগে মারা গেলে তাদের ফিতরার বিধান কি? জানালে উপকার হতো।

উত্তর : হজরত আমর ইবনে শুয়াইব একজন বিখ্যাত মুহাদ্দিস। তিনি তার পিতার সূত্রে, তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) রমজান মাসে একজন ঘোষক পাঠাতেন। সে পথে পথে ঘোষণা করতো, হে লোক সকল! সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব প্রত্যেক মুসলমানের ওপর পুরুষ বা নারী, স্বাধীন বা গোলাম, ছোট বা বড় যে ধরনের লোকই হোক না কেন। গম বা অন্য কিছুতে দুই ‘মুদ’ পরিমান আর খাদ্য জাতীয় হলে এক ‘সা’ পরিমাণ ওয়াজিব। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস নম্বর-৬৭৪) মুদ ও সা হচ্ছে তৎকালিন আরবে প্রচলিত মাপের পরিমাণ বিশেষ। ইমাম তিরমিজি হাদিসের মান সম্পর্কে বলেছেন, হাদিসটি হাসান ও গরিব অর্থাৎ দলিলযোগ্য।

এই হাদিসের ভিত্তিতে ফকিহরা বলেন, ইদুল ফিতরের দিন, সুবহে সাদিকের সময়, যেসব স্বাধীন মুসলমানের কাছে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে তাদের ওপর ফেতরা আদায় করা ওয়াজিব হবে। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২১১, রদ্দুল মুহতার, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৩৬৭)। ফিতরা ও জাকাতের নেসাবের পরিমান এক। তবে জাকাতের ক্ষেত্রে মাল বর্ধনশীল তথা স্বর্ণ-রুপা, টাকা-পয়সা বা ব্যবসায়ী পণ্য হওয়া এবং নেসাব পরিমাণ মালের ওপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত। কিন্তু ফিতরার নেসাবের ক্ষেত্রে এসব শর্ত নেই।

নাবালেগ সন্তান যদি সম্পদশালী না হয়, তাহলে নেসাবের মালিক পিতার ওপর আবশ্যক হচ্ছে ওই সন্তানের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করা। তবে নাবালেগ সন্তান সম্পদশালী হলে, তার ব্যক্তিগত সম্পদ থেকেই তার ফিতরা আদায় করতে হবে। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৩৬৮, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২১১, ইমদাদুল ফতোয়া, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৮১)।

যেহেতু ফিতরা ইদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় ওয়াজিব হয়। তাই ওই দিন সুবহে সাদিকের পূর্বে কোনো সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তার পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করতে হবে। তবে ওই দিন সুবহে সাদিকের পূর্বে কেউ মারা গেলে তার পক্ষ থেকে ফেতর আদায় করতে হবে না। কোন বাচ্চা সুবহে সাদিকের পর জন্ম নিলে তার ফিতরা দিতে হবে না। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২১১, আলা মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা-৭২৩)।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে