Alexa ছেলে গেল নামাজে, লাশ কেন নদে?

ঢাকা, শনিবার   ২০ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৫ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪০

ছেলে গেল নামাজে, লাশ কেন নদে?

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:২২ ৮ জুলাই ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ত্রিশালের ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে উদ্ধার হওয়া কলেজছাত্র শামীম আফতাব বাপ্পীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার গৌরীপুর উপজেলার লামাপাড়ায় তার দাফন হয়।

বাপ্পীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেই মরদেহ ভাসিয়ে দেয়া হয় ব্রহ্মপুত্র নদে বলে দাবি নিহতের পরিবারের। এ ঘটনায় নিহতের মা শাম্মিয়ারা খানম বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় মামলা দায়ের করেন।

সোমবার হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তার খালা রৌশন আরা খানম।

তিনি গৌরীপুর স্বজন মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের বলেন, আমার বুকে নিঃসন্তানের কালিমা মুছে দিয়েছিল বাপ্পী। ২৯টি বছর ধরে বুকে জড়িয়ে ওরে বড় করেছিলাম। ওর কাঁধে আমি লাশ হয়ে কবরে যাবো। ওর লাশ আমার কাঁধে কেন?

সন্তানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার মূর্ছা যান তিনি। জিজ্ঞাসা করেন, আমার ছেলে গেল ময়মনসিংহের আকুয়া বড়বাড়ি মসজিদে নামাজ পড়তে। ত্রিশালের নদে ওর মরদেহ গেল কীভাবে? ওকে মেরে নদে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে।

বাপ্পী নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার আলমপুর গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। শাম্মিয়ারা খানমের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ায় এক বছর বয়স থেকেই বাপ্পী তার খালু মো. জয়নাল আবেদিন ওরফে জবান আলী ও রৌশন আরা খানমের কাছে থাকে।

ডৌহাখলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান জবান আলী গৌরীপুর উপজেলার আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকও ছিলেন। নিঃসন্তান হওয়ায় বাপ্পীই তাদের ছেলে হিসেবে বড় হন। তার পরীক্ষার সনদপত্রেও বাবা-মা হিসেবে তাদের নাম রয়েছে। তবে এখন থাকতো ময়মনসিংহের আকুয়া এলাকায়। নাসিরাবাদ কলেজের বাউবি শাখার বিএর শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন বাপ্পী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের আকুয়া হাজী বাড়ি মসজিদে জোহরের নামাজের কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে যান বাপ্পী। ওই দিন ৩টায় মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হয় মোবাইল ফোনে। তখন তিনি গাঙ্গীনারপাড়ে ওষুধ ক্রয় করছেন বলে জানান।

এরপর থেকে ফোন বন্ধ দেখায়। শনিবার তার মরদেহ ভেসে উঠে ব্রহ্মপুত্র নদের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া বিয়ারা এলাকায়।

ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার বিকেলে ডৌহাখলা ইউপির পায়রা গ্রামে প্রথম জানাজা হয়। এরপর উপজেলার মইলাকান্দা ইউপির লামাপাড়ায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার নানা আবদুল ওয়াদুদ খান ও নানি জুলেখা খানমের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন বাপ্পী।

ত্রিশাল থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর