ছেলেরা খোঁজ নেয়নি, ৩২ বছর পর মাকে মুক্ত করলেন ওসি

ঢাকা, রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২২ ১৪২৬,   ১১ শা'বান ১৪৪১

Akash

ছেলেরা খোঁজ নেয়নি, ৩২ বছর পর মাকে মুক্ত করলেন ওসি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:২২ ৩ মার্চ ২০২০  

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

দুই ছেলে ও এক মেয়ে নাবালক অবস্থায় মস্তিষ্কে বিকৃতি দেখা দেয় হবিবুন নেছার (৫৮)। আর তখন থেকেই তার লাঞ্চনা-গঞ্জনার জীবন শুরু। ৩২ বছর ধরে তিনি বয়ে বেরিয়েছেন শিকলবন্দী জীবন। খবর পেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীকে মুক্ত করেন বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিবুন নেছারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান ওসি ইয়াছিনুল হক। 

বড়লেখা সদর ইউনিয়নের জফরপুর গ্রামের মুহিবুর রহমান স্ত্রী হবিবুন নেছারের মস্তিষ্কে সমস্যা দেখা দিলে ২ ছেলে ও ১ মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে অন্য নারীকে বিয়ে করে পৃথক সংসার শুরু করেন। খোঁজ নেননি মানসিক রোগী স্ত্রীর। দুই ছেলে ও মেয়ে বড় হয়েও মানসিক রোগী মায়ের খোঁজখবর রাখেনি। প্রায় ৩২ বছর ধরে হবিবুন নেছার বড়ভাই ইসলাম উদ্দিন বোনের দেখাশুনা করছেন। পাকা বসতঘরের উত্তর দিকের একটি ছাপড়া ঘরে ময়লা-আবর্জনার মধ্যে পায়ে লোহার শিকল ও রশি দিয়ে তাকে বেঁধে রেখেছেন। কংকালসার হবিবুন নেছা শুধু ফেল ফেল করে তাকিয়েই থাকেন। কথা বলতে গিয়ে দুর্বল শরীরের কারণে কোনো কিছুই স্পষ্ট করতে পারেন না।

ইসলাম উদ্দিন জানান, বিয়ের ৫-৬ বছরের মধ্যেই ছোট বোনের মাথায় সমস্যা দেখা দেয়। অনেক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে, কিন্তু সুস্থ হয়নি। স্বামী ও ছেলে-মেয়েরা খোঁজ-খবর নেয় না। ভাগ্নে নাজিম উদ্দিন ও আলা উদ্দিন বিয়ে-সাদি করেছে। উত্তর চৌমুহনায় তাদের ফার্নিচারের ব্যবসা রয়েছে। অনেক অনুনয় বিনয় করা স্বত্তেও তারা মায়ের কোনো খোঁজই রাখে না। নোঙরা ছাপড়াঘরে ময়লা আবর্জনার মধ্যে একজন মানুষকে বেধে রাখা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, খুলে দিলে বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে গিয়ে ক্ষতি করায় এভাবে রেখেছেন।

বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক জানান, স্ত্রী কিংবা মা পাগল হলেও স্বামী ও সন্তানদের নৈতিক দায়িত্ব তার সুকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া। ভরণপোষণ ও সেবা শুশ্রুষা করা। ৩২ বছর ধরে একজন মানসিক রোগীকে নোঙরা স্থানে এভাবে বেধে রাখা অত্যন্ত অমানবিক, মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই