ছিনতাইকারী ধরে পুরস্কার পেলেন অন্তরা

.ঢাকা, শুক্রবার   ২৬ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১৩ ১৪২৬,   ২০ শা'বান ১৪৪০

ছিনতাইকারী ধরে পুরস্কার পেলেন অন্তরা

 প্রকাশিত: ১৯:৩৬ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২০:২২ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অন্তরা রহমান

অন্তরা রহমান

ঘটনাটা ১৭ অাগস্টের। বনশ্রীর বাসা থেকে যাত্রাবাড়ীতে আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন ঢাকার একটি ল ফার্মের কর্মী অন্তরা রহমান। রিক্সায় যাত্রাবাড়ী জনপদের মোড় পার হচ্ছিলেন। এ সময় একজন ছিনতাইকারী তার হাতের ব্যাগটি নিয়ে দৌঁড় দেয়।

ঢাকার রাস্তায় ছিনতাই নতুন ঘটনা নয়। অনেকেই এসব ঘটনায় সামনে এগোতে চান না। কিন্তু ভয় না পেয়ে অন্তরা রহমান সেই ছিনতাইকারীর পেছনে ধাওয়া করেন। কিছুদূর গিয়ে ছিনতাইকারী একটি চলন্ত বাসে উঠে পড়লে অন্তরাও পেছন পেছন সেই বাসটিতে উঠে পড়েন।

অন্তরা বলেন, ''পুরো বাসটি খালি ছিল। বাসে উঠে ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম এখানে একটি লোক উঠেছে কিনা। তারা বলে, আমাদের গাড়িতে ওঠে নাই, হয়তো পেছনের বাসে উঠেছে। কিন্তু পেছনের দিকে বসে থাকা একটি লোকের প্যান্ট দেখে সন্দেহ হলো। কাছে গিয়ে দেখি, সেই ছিনতাইকারী আমার ব্যাগের ওপর বসে আছে আর মোবাইলটা পায়ের নীচে রেখেছে। তাকে ধরে চিৎকার করলেও বাস চালক বাসটি চালিয়ে যাচ্ছিল। চিৎকার শুনে কয়েকজন ছেলে এগিয়ে এসে বাসটি থামায়।''

''সে সময় ছিনতাইকারী বলে আমাকে ছেড়ে দেন, আমি কালকেই কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছি। কিন্তু আমি মনে করলাম, গতকাল মুক্তি পেয়েই যে আজ অপরাধ করতে পারে, তাকে ছাড়লে সে আরো অপরাধ করবে। তখন সবার সহযোগিতায় তাকে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে গেলাম। সেখানে আমি নিজেই বাদী হয়ে একটি মামলাও করলাম।''  

ভয় না পেয়ে ছিনতাইকারী ধরার এই সাহসিকতার জন্য পুরস্কারও পেয়েছেন অন্তরা রহমান। মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক অপরাধ সভায় তাকে পুরস্কৃত করেছে পুলিশ। ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ছিনতাইকারী তার ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে গেলে তিনি নিশ্চুপ না থেকে অত্যন্ত সাহস নিয়ে ছিনতাইকারীকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আশা করি অন্তরার মত সকলে সাহসী হয়ে অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন।

ছিনতাইকারীর পেছনে ধাওয়া করার সময় তার কী কোন ভয় কাজ করেছিল? 

অন্তরা বলেন, ''তখন এসব বিষয় মাথায় আসেনি। তখন শুধু মনে হয়েছে, ওকে ধরতে হবে, পুলিশে দিতে হবে।''

ঢাকার বনশ্রীতেই মা, ভাই বোনের সঙ্গে বসবাস করেন অন্তরা। বাবা বিদেশে চাকরি করেন।

তিনি বলেছেন, ছোট বেলা থেকে তার ইচ্ছা ছিল পুলিশে চাকরি করার। কখনো সুযোগ পেলে করতেও রাজি। যখন পুলিশের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলো, তখনো তিনি জানেন না যে, কোন পুরস্কারের জন্য তাকে মনোনীত করা হয়েছে। ডিএমপি সদর দপ্তরে গিয়ে যখন পুরস্কার পাওয়ার কথা জানলেন, তিনি খুবই অবাক হন।

''আমার মনে হয়েছিল ছিনতাইকারীকে ধরে তাকে পুলিশে দিতে হবে। কিন্তু কখনো ভাবিনি, সেটা এতদূর যাবে। সবার ভালোবাসা দেখে ভেতরে অনেক খুশী কাজ করছে।'' বলেছেন অন্তরা রহমান।

তবে ছিনতাইকারীকে ধাওয়ার ঘটনায় বাসার লোকজন ভয় পেয়েছিল, যদি তার কোন ক্ষতি হয়ে যেতো। অন্তরা বলেছেন, ''কিন্তু আমি এরকমই। ছোট বেলা থেকেই আমাকে কেউ টিজ করলে আমি রুখে দাঁড়াতাম। অন্যায় দেখলে আবারো এভাবেই রুখে দাঁড়াবো।''

ডেইলি বাংলাদেশ/এসজেড/আরআই