Alexa ছাত্রীনিবাসে স্কুলছাত্রীর লাশ, গ্রেফতার ৩

ঢাকা, শনিবার   ২০ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৫ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪০

ছাত্রীনিবাসে স্কুলছাত্রীর লাশ, গ্রেফতার ৩

শেরপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:৫০ ৭ জুলাই ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

শেরপুর শহরের সজবরখিলা এলাকায় একটি ছাত্রীনিবাস থেকে আনুশকা আয়াত বন্ধন নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। ওই ঘটনায় শনিবার রাতে নিহতের বাবা আনোয়ার জাহিদ বাবু মৃধা বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে, মামলার পর পুলিশ প্রধান আসামি ওই স্কুলের পরিচালক আবু ত্বাহা সাদীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। অন্যরা হলেন- সাদীর স্ত্রী নাজনীন মোস্তারি নূপুর ও তার বড়ভাই শিবলী।

শেরপুর সদর থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ফৌজিয়া-মতিন পাবলিক স্কুলের ছাত্রী বন্ধনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি হত্যা মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। সে মামলায় ফৌজিয়া মতিন পাবলিক স্কুলের পরিচালক, তার স্ত্রী ও এক ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। ময়নাতদন্তের বিষয়ে এখনো চিকিৎসকের মতামত জানা যায়নি।

এদিকে স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন ওঠেছে, বন্ধনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। কিংবা ধর্ষণের শিকার হয়ে সে নিজেও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, কোনা মনোকষ্ঠের কারণে কিংবা আবেগতাড়িত হয়ে সে গলায় ফাঁস দিতে পারে।

অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় যেহেতু একটি হত্যা মামলা হয়েছে, তাই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া কিছু বলা সম্ভব নয়।

স্থানীয় সূত্র বলছে, ফৌজিয়া-মতিন পাবলিক স্কুলের পরিচালক আবু ত্বাহা সাদী জামায়াত সমর্থক। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও নাশকতার একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এর আগে শনিবার ৬ জুলাই দুপুরে জেলা হাসপাতাল থেকে পুলিশ আনুশকা আয়াত বন্ধনের মরদেহে উদ্ধার করে। ওমান প্রবাসী শ্রীবরদী উপজেলার পূর্ব ছনকান্দা গ্রামের আনোয়ার জাহিদ বাবুল মৃধার মেয়ে সে। শহরের সজবরখিলা এলাকার ফৌজিয়া মতিন পাবলিক স্কুলের ছাত্রীনিবাসে থেকে ওই স্কুলে পড়াশুনা করত। শনিবার সকালে বন্ধনকে নিজ কক্ষে ওড়না পেঁচিয়ে সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলে থাকতে দেখে এক ছাত্রী চিৎকার দিলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে পাঠায়। এসময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে দাবি করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

তবে পরিবারের লোকজন দাবি, তাকে (বন্ধনকে) হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম