ছাত্রীকে যৌন হয়রানির মামলায় শিক্ষক কারাগারে

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির মামলায় শিক্ষক কারাগারে

ফেনী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:৪৮ ১৩ জুন ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ফেনীতে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির মামলায় এক শিক্ষককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

বুধববার বিকেলে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচার মামুনুর রশিদ এ আদেশ দেন। আসামি মোশাররফ হোছাইন মুহাম্মদ কাজিরবাগ হাজী দোস্ত মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এএসএম আনোয়ারুল কবীর ফারুক জানান, আদালতে আসামি মুহাম্মদ মোশাররফ হোছাইনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে ২০১৭ সালের ১৮ মার্চ ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির কক্ষে ধর্মীয় শিক্ষক মোশাররফ হোছাইন এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করে প্রধান শিক্ষকের বরাবরে দরখাস্ত দেন। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই ছাত্রী ছাড়াও অনেক শিক্ষার্থীর উপর যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠে। পরদিন স্কুল ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক ও অভিভাবকদের যৌথ সভায় তদন্ত কমিটি গঠিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষক লিখিতভাবে দোষ স্বীকার করে। পরে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে তাকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়।

এ বিষয়ে শিক্ষাবোর্ডে লিখিতভাবে জানালে ফেনী সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক কামরুন নাহারকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির কাছে অভিযুক্ত শিক্ষক উপস্থিত না হলে তাকে চূড়ান্ত বহিষ্কার ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেন।

এদিকে, ওই প্রতিবেদন পেয়ে শিক্ষাবোর্ড মামলা দায়েরের নির্দেশনা দিলে শিক্ষক মোশাররফ মামলা না দিলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন বলে জানান। পরে ২৭ নভেম্বর ২০১৭ সালে প্রধান শিক্ষকের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে ৪ ডিসেম্বর জোরপূর্বক পদত্যাগপত্র নেয়া হয়েছে মর্মে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে প্রধান শিক্ষককে আসামি করে মামলা করেন। পরদিন ওই মামলা খারিজ করে দেন বিচারক। পরর্বতীতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আরেকটি মামলা করেন ওই শিক্ষক।

অন্যদিকে বোর্ডের নিদের্শনা ও ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর কাজিরবাগ হাজী দোস্ত মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার বাদী হয়ে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই শিক্ষককে আসামি করে মামলা করেন। পিবিআই এ মামলার তদন্ত শেষে মোশাররফকে অভিযুক্ত না করে প্রতিবেদন দিলে বাদী পক্ষ আদালতে নারাজি দেন। পরে আদালত ওই প্রতিবেদন বাতিল করে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে পুনরায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। ২৮ মার্চ শিক্ষক মোশাররফ হোসেনকে অভিযুক্ত করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন প্রতিবেদন দাখিল করেন। সে প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ১৭ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ