Alexa ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষকের চুমু, এলাকায় তোলপাড়

ঢাকা, সোমবার   ২১ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৫ ১৪২৬,   ২১ সফর ১৪৪১

Akash

ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষকের চুমু, এলাকায় তোলপাড়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:৪১ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২৩:৪২ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

পটুয়াখালীতে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক চুমু দেয়ার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। 

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবু সালেহ মোহাম্মদ ইছার বিচার দাবি করে মঙ্গলবার বিকেলে কলাপাড়ার কাংকুনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেছেন। 

স্কুল সংলগ্ন কুয়াকাটাগামী বিকল্প সড়কের চৌরাস্তায় এ বিক্ষোভ হয়। ভুক্তভোগীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবি করেন।

বালিয়াতলী ইউপির কাঙ্কুনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সালেহ ইছা সোমবার বেলা ১১টায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে একা অফিস রুমে ডেকে নিয়ে স্কুলে না আসার কথা জিজ্ঞেস করে এক পর্যায় শরীরে হাত দেয়। পরে ওই ছাত্রীকে চুমু দেয়।

ছাত্রীরা জানায়, ওই ছাত্রীকে চুমু দেয়ার পরে মুখ ধোয়ার জন্য অনুরোধসহ কাউকে ওই কথা না বলতে ক্লাশে ফার্স্ট বানানোর প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে।

প্রথমে ওই ছাত্রী তার এক বোনকে বিষয়টি বলে। ওই বোন ছাত্রীর বাবা মোস্তফা হাওলাদারকে খবর দেয়। স্কুলে পৌঁছে ছাত্রীর কাছ থেকে সব শুনে বিষয়টি নিয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. এনামুল হককে বলেন। 

তিনি জানান, প্রধান শিক্ষককে ডেকে তিনি জিজ্ঞেস করলে পা ধরে ক্ষমা চায়। এমনকি ছাত্রীর বাবার পা জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চান প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইছা। বর্তমানে এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। বর্তমানে ওই প্রধান শিক্ষকের অপসারণসহ বিচার দাবি করেন অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীরা।
 
এ ঘটনার পরে মঙ্গলবার প্রধান শিক্ষক মাওলানা আবু সালেহকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে তিনি একটি আবেদন ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের কাছে রেখে গেছেন। যেখানে শারীরিক অসুস্থতার কথা বলা হয়েছে।  অপরদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য মোটা অংকের টাকার বাজেট রাখার কথা বলছেন স্থানীয়রা। সবাইকে ম্যানেজ করে মূল বিষয় ধামাচাপা দিতে এমন টার্গেট নেয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবু সালেহ মোহাম্মদ ইছা এসব অস্বীকার করে বলেন, এটি ষড়যন্ত্র। তবে কারা ষড়যন্ত্র করছে তা বলেননি। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল বাশার জানান, তিনি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন। 

ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) অনুপ দাস জানান, শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছেন। মাত্র মাসখানেক আগে যৌন হয়রানির অভিযোগে কলাপাড়ার একজন প্রধান শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার পরে ফের এমন ন্যাক্কারজনক অভিযোগ ওঠায় অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ