ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৮ ১৪২৫,   ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০

ছাত্রজীবনে ক্যারিয়ার ভাবনা ও পরিকল্পনা

ইবি প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৭:৩২ ৫ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৭:৩২ ৫ ডিসেম্বর ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ক্যারিয়ার পরিকল্পনা শুরু হয় ছাত্রজীবন থেকেই। ক্যারিয়ার পরিকল্পনা একটি চলমান প্রক্রিয়া যা একই সাথে আপনাকে নতুন কিছু শিখতে এবং নিজেকে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

আমরা প্রতিটি কাজকে ভাগ্যের দোষ দিয়েই পার পাবার চেষ্টা করি। আসলে আমাদের শিক্ষাঙ্গন আর চাকুরি ক্ষেত্র সম্পূর্ণ আলাদা। তাই অনেকেই চাকুরি জীবনে এসে অসামঞ্জস্য ব্যবহার ও জীবনব্যবস্থার কারণে অনাকাংখিত হোঁচট খায়। একটু সতর্ক হলেই তা এড়ানো সম্ভব। আর এ সতর্কতাটাই হলো ক্যারিয়ার নিয়ে পরিকল্পনা করার ও নিজের দক্ষতা উন্নয়নের মধ্যে নিহিত। ক্যারিয়ার গড়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস নিয়ে আলোচনা করা হল-

পরিকল্পনা

ক্যারিয়ার পরিকল্পনা হলো নিজেকে ও নিজের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানা। এছাড়া কোন পেশায় স্বাচ্ছন্দ্য পাওয়া যায়, সেটি খুঁজে বের করে সেভাবে কাজ করা। এ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা মূলত চারটি বিষয়ের একটি সমন্বয়। প্রথমত, নিজের আগ্রহ, দক্ষতা এবং পছন্দের জায়গাগুলো খুঁজে বের করা। দ্বিতীয়ত, কাজ করা এবং শেখার যেসব সুযোগ রয়েছে, সেগুলো খুঁজে বের করা। তৃতীয়ত, যে কাজটি করছেন, সেটি যেন আপনার ব্যক্তিত্বের সাথে মানানসই হয়। আর চতুর্থত নিয়মিতভাবে নিজের কাজের মূল্যায়ন করা এবং সেভাবে নিজেকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

সময় সচেতনতা

ক্যারিয়ারের অন্যতম শর্ত হলো সময় সচেতনতা। প্রত্যেক মানুষেরই উচিত সময়ের সঠিক ব্যবহার করা। সময়ের কাজ সময়ে করতে পারলে যে কোনো ব্যক্তিই তার ক্যারিয়ারকে সফল স্থানে নিয়ে যেতে পারবে।

নিজেকে প্রস্তুত করা

সময়কে গুরুত্ব দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করুন। আপনার জীবন বৃত্তান্ত এখন থেকে প্রতিনিয়ত আপডেট করুন। কালকেই হয়তোবা আপনার হাতের কাছে ধরা দিতে পারে আপনার স্বপ্নের চাবি। তাই নিজেকে এবং নিজের জীবন বৃত্তান্ত যথোপযুক্তভাবে গড়ে তুলুন যাতে যে কোনো প্রতিষ্ঠান অনায়াসে আপনাকে নিয়োগ দেয়।

কাজে নেমে পড়া

নিজেকে প্রস্তুত করা হয়ে গেলে এবার আপনার কাজ শুরু করার পালা। এই ধাপে রয়েছে ক্যারিয়ারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ, যোগ্যতা অর্জন প্রভৃতি বিষয়। অধিকাংশ মানুষের ক্যারিয়ার গড়ার কারিগর সে নিজেই। কাজ করার অনাকাংক্ষিত এসব অভাব জয় করেই আমাদের স্বপ্নের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।

কাজকে গ্রহণ করা

শুধু কাজে নেমে পড়লেই হবে না। আপনার বর্তমান কাজ সাদরে গ্রহণ করতে শিখতে হবে। কাজ ভালো লাগলেই আপনার কাজের মূল্যায়ন এবং এ কাজের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সহজ হবে। এক্ষেত্রে আপনার ভেতরের চিন্তা-চেতনার পরিবর্তন হতেও পারে। তবে নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।

সাবধানে পা ফেলা

কাজকে গ্রহন করে করতে পারলেই সফলতা হাতছানি দিবে। আপনার কাজ সম্পর্কিত যে যে বিষয়ে সমস্যা অনুধাবন করবেন তা অন্যের সাথে শেয়ার করুন। এই পরিকল্পনা আপনাকে সামনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। মনে রাখবেন, সেতু দিয়ে যেমন সহজেই পথ পাড়ি দেওয়া যায়, তেমনি পরিকল্পনা থাকলে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।

বাংলায় একটা প্রবাদ- “ভালো জিনিস একটু দেরিতেই আসে।” কোনো কাজেই তাড়াহুড়া করাটা ভালো না। ত্বরিত যে কোনো কাজের মধ্যে ভুল হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তাই হতাশাগ্রস্থ ও সব ধরণের চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখে কাজ করুন। সেইসাথে তারাহুাড়া না করে মনোযোগ দিয়ে ভালো কাজের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ