Alexa চৌদ্দগ্রামে কাঁকড়ি নদীর বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রাম প্লাবিত

ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৪ ১৪২৬,   ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪০

চৌদ্দগ্রামে কাঁকড়ি নদীর বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রাম প্লাবিত

 প্রকাশিত: ২১:৫৯ ২২ অক্টোবর ২০১৭  

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

কুমিল্লা প্রতিনিধি: জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার সংলগ্ন কাঁকড়ি নদীর বাঁধ ভেঙে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভেঙে যাচ্ছে শত শত বাড়ি-ঘর। ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে হাজার হাজার একর ফসলি জমির। পানির স্রোত বেশি থাকায় আরো অসংখ্য গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

বাঁধ ভাঙার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা পাউবোর গাফিলতিকে দায়ী করলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. ইব্রাহিম খলিল জানিয়েছেন ইঁদুরের গর্তের কারণেই বাঁধ ভাঙার সূত্রপাত। বাঁধ ভাঙার খবরে উজিরপুর, কালিকাপুর ও কাশিনগর ইউনিয়নের জনগনের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গত দুই দিনের অব্যাহত বর্ষণে ও ব্যাপক পাহাড়ি ঢলের কারণে এমনিতেই কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাঁকড়ি নদীর পানি ও স্রোত ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি। ২নং উজিরপুর ইউনিয়নের ঘাসিগ্রাম উত্তর পাড়ার মসজিদ সংলগ্ন বাঁধ এলাকায় পূর্ব থেকেই একটি গর্ত ছিল। বৈরী আবহাওয়া দেখেও পাউবো এই গর্তটি মেরামত করার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি এই সময়ে। গর্তটিতে বেশ কয়েকদিন ধরেই পানি যাচ্ছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া জেনেও পাউবোর কোন কর্তৃপক্ষ এ সময় বাঁধটি পরিদর্শন করেনি। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর প্রবল স্রোতের বেগে ওই গর্তটিতে পানি প্রবেশ করে মুহূর্তেই বাঁধটি ভেঙে যায় এবং ঘাসিগ্রাম, মানিকপুর, দাতামা, সাতবাড়িয়া, বালুমুড়ি, যুগিরকান্দি, রামচন্দ্রপুর, শিবপুরসহ প্রায় ১০/১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। ধীরে ধীরে পানি প্রবেশ করতে থাকে নতুন নতুন এলাকায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে আশে পাশের এলাকাতে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুক্তিযোদ্ধার সাবেক কমান্ডার ও ঘাসি গ্রামের বাসিন্দা প্রমোদ রঞ্জন চক্রবর্তী জানান, শনিবার রাত আটটায় সীমান্তবর্তী ভারতের পাহাড়ি ঢলের পানির প্রবল স্রোতে ঘাসি গ্রামের ওই অংশটি ভেঙে যায়। এতে করে ঘাসি গ্রামসহ পাশ্ববর্তী শাহাপুর, পরানপুর, মানিকপুর ও রামচন্দ্রপুর গ্রামের পানি ঢুকে পড়ে। যার ফলে ওই এলাকার ফসলি জমিসহ রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, নদীর স্রোতে না কমলে আরো ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

২নং উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খোরশেদ আলম জানান, বাঁধ ভাঙার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমি ঘটনাস্থলে চলে আসি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত আছেন। এখন পর্যন্ত ১০/১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অসংখ্য বাড়ি ঘর ও ব্যাপক ফসলহানীর আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, ঘাসিগ্রাম এলাকার মসজিদ সংলগ্নস্থানে একটি ইঁদুরের গর্ত ছিল। এই গর্তটি দিয়ে অল্প অল্প করে পানি যেতে যেতে আজ এই ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি জানান।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নির্বাহী অফিসার মাঈন উদ্দিন বলেন, বাঁধ ভাঙার খবর শোনার সাথে সাথে আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হবে এই মুহূর্তে বলতে পারব না। আমরা এখন ব্যস্ত আছি কিভাবে এই মুহূর্তে ভাঙন রোধ করা যায়, ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক জাহাংগীর আলম জানান, কাঁকড়ি নদীর বাঁধ ভাঙার খবর শোনার সাথে সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে পাঠিয়েছি। তারা এখন বালুর বস্তা দিয়ে আপাতত ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরকে/টিআরএস/এসআই