Alexa চোখের সামনেই সব কিন্তু সবই অদেখা!

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স

চোখের সামনেই সব কিন্তু সবই অদেখা!

 প্রকাশিত: ১৪:৩২ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭   আপডেট: ১৪:০১ ২১ অক্টোবর ২০১৭

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ইন্টেলিজেন্স, একটি দেশের নিরাপত্তার দায়ভার তুলে নেয় নিজের কাঁধে, হতে পারে তা সরকার কর্তৃক সরাসরি নিয়ন্ত্রিত অথবা হতে পারে তা স্বায়ত্তশাসিত। ইন্টেলিজেন্স শব্দটি কিন্তু গোয়েন্দাগিরির সাথেও জড়িত। ইন্টেলিজেন্স বহু ধরনের হতে পারে, উদাহরনস্বরূপ ব্যবসায় প্রতিযোগী ও তার পন্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ কে কিন্তু বিজনেস বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্স বলে। অনেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্পায়োনেজও বলে থাকে।

যাই হোক কথা বলছিলাম রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষায় আন্তর্জাতিক ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি গুলো যে ধরনের ইন্টেলিজেন্স সোর্স ব্যবহার করে তার মাঝে রয়েছেঃ-
OSINT- ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স, যার তথ্যসমূহ সাধারনত সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, ফোরাম, ব্যাবসায়ীক ওয়েবসাইট, ব্লগ, ভিডিও, সংবাদপত্র, আন্ডারগ্রাউন্ড ফোরাম, ডীপ ওয়েব ব্ল্যাকমার্কেট হতে জোগাড় করা হয়
HMINT- হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স, সাধারনের সাথে ইন্টার্যাতকশনের মাধ্যমে যে তথ্য জোগাড় করা হয়
SIGINT- সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স, সেন্সরসমূহ হতে যে তথ্য জোগাড় করা হয়
GEOINT- জিওস্প্যাশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, স্যাটেলাইট হতে যে তথ্য জোগাড় করা হয়

রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় দুই ধরনের অপারেশন পরিচালিত হয়। এর মাঝে রয়েছেঃ-

  • অভার্ট অপারেশন
  • কভার্ট অপারেশন

আমরা কথা বলবো অভার্ট অপারেশন নিয়ে। আরও ভালোভাবে বলতে গেলে অভার্ট অপারেশন এর প্রধান হাতিয়ার OSINT বা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স নিয়ে।

ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স হচ্ছে মুক্ত তথ্যের সমাহার যা চোখের সামনে উন্মুক্ত। তথ্য তো রয়েছে দুনিয়াব্যাপী। কিন্তু কোন তথ্য সঠিক ও কার্যকর তা খুঁজে ব্যবহার করতে হলে আপনাকে যে কৌশল ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে তা কিন্তু জাদুকেও হার মানায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা সিআইএ ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স এর গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে উল্লেখ করেছে তারা এখন পাবলিক ওপেন সোর্স এনালিস্ট নিয়োগ দিচ্ছে। কারণ জনসাধারনের মতামত ও চিন্তা ধারা থেকে তারা ভবিষ্যতে কি ঘটতে পারে তার পূর্বাভাস নির্ধারণ করে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারছে।

সি আইএ এর ডিরেক্টর জন ব্রেনান জুলাই এর ১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় ও নিরাপত্তা গোয়েন্দা মূলক এক আলোচনা সভায় বলেন, আমরা এমন একটি যুগে বসবাস করছি যেখানে তথ্য ছড়িয়ে রয়েছে চোখের সামনেই তবে তার কার্যকর প্রয়োগ ও সঠিক মূল্যায়নের জন্য চাই ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সে বিশেষজ্ঞ। যাদের কাজ হবে ডিজিটাল এনভায়রনমেন্ট থেকে প্রয়োজনীয় টুলস ব্যবহার করে লিভারেজ ডেটা সংগ্রহ করা ও তার সত্যতা যাচাই করা। পরবর্তীতে ওপেন সোর্স ডেটা ও ক্লাসিফাইড ডেটার সমন্বয়ে এমন একটি তথ্য ভান্ডার সৃষ্টি হবে যা দেশের তথা বিশ্বের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। এর সাহায্যে আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ মিশনে সাফল্যের হার বৃদ্ধি পাবে ও তার পাশাপাশি সি আই এর ও আধুনিকায়ন ঘটবে। (সুত্রঃ নেক্সটগভ)

বিশ্বখ্যাত দৈনিক দ্যা ইকোনমিস্ট এর মতে, বর্তমান বিশ্বে তেলের চেয়েও উচ্চ মূল্যের পণ্য হচ্ছে তথ্য। বর্তমানে সবচেয়ে মূল্যবান ৫টি জায়ান্ট কোম্পানি, যাদের ব্যবসায় হচ্ছে তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপন- তাদের সম্পর্কে আপনারা নিশ্চয়ই জানেন। তারা হচ্ছে টাইটানস-বর্ণমালার alphabet (Google এর প্যারেন্ট কোম্পানি), আমাজন, অ্যাপল, ফেসবুক এবং মাইক্রোসফট। তারা যৌথভাবে ২০১৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে নেট মুনাফাতে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্জন করেছে। আমাজন আমেরিকাতে অনলাইনে খরচ করা অর্ধেকেরও বেশি ডলার নিয়েছেন। গুগল এবং ফেসবুক গত বছরের আমেরিকা ডিজিটাল বিজ্ঞাপন এর প্রায় সব রাজস্ব বৃদ্ধি দায়ী। আপনার কাছে যদি অপ্রকাশ্য তথ্যের ডেটাবেজ থাকে তার মূল্য পৃথিবীতে এখন সবচেয়ে বেশী।

আগামীর যুদ্ধ অস্ত্রের নয়, যুদ্ধ হবে তথ্যের ভিত্তিতে। যুদ্ধ হবে ডিজিটালি ও তাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স।

ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স এ বারে বারে উল্লেখ করার মত বিষয় হচ্ছে ওপেন সোর্স ডেটা। একে বিগ ডেটাও বলা যায়। এই ডেটার উৎস কোথায়? এই ডেটা আমরা কি পদ্ধতিতে সংগ্রহ করবো? অনেক প্রশ্নই তো মনে জাগছে? আসুন জানি ওপেন সোর্স ডেটার উৎস নিয়ে:-

ওপেন সোর্স ডেটা ও তার উৎসঃ
মিডিয়া (দৈনিক পত্রিকা, ম্যাগাজিন, রেডিও, এবং টেলিভিশনের মধ্যবর্তী এবং দেশগুলির মধ্যে)
ইন্টারনেট (যেমন- সেল ফোন ভিডিও এবং ব্যবহারকারী তৈরি সামগ্রী), ইউটিউব, এবং অন্যান্য সামাজিক মিডিয়া ওয়েবসাইটগুলি (যেমন- ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইত্যাদি)।
পাবলিক/সরকারী তথ্য ভাণ্ডার (সরকারী প্রতিবেদন, বাজেট, শুনানির, টেলিফোনের ডিরেক্টরি, প্রেস সম্মেলন, ওয়েবসাইট এবং বক্তৃতা।)
প্রফেশনাল ও একাডেমিক পাবলিকেশন( কাডেমিক প্রকাশনা, জার্নাল, কনফারেন্স, সিম্পোজিয়াম, একাডেমিক কাগজপত্র, গবেষণাগার এবং থিসিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য।)
বানিজ্যিক তথ্য (বাণিজ্যিক তথ্য, বাণিজ্যিক চিত্রাবলী, আর্থিক এবং শিল্প মূল্যায়ন এবং উপাত্ত।)
গ্রে লিটারেচার (কারিগরি রিপোর্ট, প্রি-প্রিন্ট, পেটেন্ট, কাজের কাগজপত্র, ব্যবসায়িক নথি, অপ্রকাশিত কাজ, বিতর্ক এবং নিউজলেটার।)



NRD সাইবার সিকিউরিটির মতে, গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা সংস্থা কিভাবে ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে উপকৃত হতে পারেঃ
জন মতামত জরিপ করে দেশের প্রতিটি জনগন সার্বভৌমত্ব রক্ষার হাতিয়ার, সমাজের অপরাধ তার যেভাবে দেখে তা আইন প্রতিনিধিরা দেখতে পারবে না সেই সকল তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে;
ফরেনসিক ডিজিটাল ও অন্যান্য টুলস ব্যবহার করে মৌলিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে;
ওপেন সোর্স পর্যবেক্ষণ এবং ক্লায়েন্ট দ্বারা নির্ধারিত বর্তমান ও উদীয়মান বিষয়গুলির উপর নিয়মিত প্রতিবেদন;
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর বা অন্য ভিআইপি সিকিউরিটি হ্রাস করতে পারে এমন আসন্ন ঘটনাগুলির নজরদারি, চিহ্নিতকরণ ও সতর্কতা;
সন্ত্রাস, সাইবার অপরাধ এবং পাবলিক অর্ডার সম্পর্কিত কার্যক্রমগুলি নজরদারি, শনাক্তকরণ এবং সতর্কতা;
ফৌজদারি তদন্ত কার্যক্রম সমর্থন তথ্য প্রদান;
কার্যসম্পাদন কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট অনুরোধ সম্পর্কে তথ্য প্রদান;
সরকারী কর্মচারীদের তদন্ত সংস্থা তথ্য প্রদান;
স্থানীয় এবং বিদেশী অনুভূতি বিশ্লেষণ প্রদান;
সামাজিক মিডিয়া যোগাযোগ প্রতিক্রিয়া এবং ব্যবস্থাপনা;
সামরিক এবং জাতীয় নিরাপত্তা বুদ্ধি সংগ্রহ;
ব্যবসা বুদ্ধিমত্তা সংগ্রহ করা;

বিভিন্ন দেশে OSINT নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে। বাংলাদেশে ক্রাইম রিসার্চ এন্ড এনালাইসিস ফাউন্ডেশন (ক্রাফ) এর সাইবারস্পেস সংক্রান্ত ইউনিট এ ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ক্রাফের মহাসচিব মিনহার মহসিন জানান, ‘আমাদের ফাউন্ডেশনের মুল কাজই হল ক্রাইম নিয়ে রিসার্চ এবং এনালাইসিস করা,সেক্ষেত্রে আমাদের নিজস্ব OSINT ল্যাবের বিকল্প নেই। সাইবারস্পেসের গতিবিধির উপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। আমরা OSINT এর মাধ্যমে যেমন আমাদের কাছে আসা ভিক্টিমদের সাপোর্ট দিতে পারি, একই সাথে ভবিষ্যতের বাংলাদেশে ক্রাইমের প্যাটার্ন কোনদিকে যাচ্ছে সে সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষনের জন্য আমরা আমাদের এনালিস্টের কাছে তথ্য সরবরাহ করে থাকি। যা পরবর্তিতে আমাদের জনসচেতনতামুলক কাজে অনেক বেশী উপকারে আসবে।’

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/এসআই

Best Electronics
Best Electronics