চেয়ারম্যানের দাপটে কোণঠাসা মেম্বাররা

ঢাকা, শুক্রবার   ২৯ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৭,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

চেয়ারম্যানের দাপটে কোণঠাসা মেম্বাররা

নাজমুল হাসান, গুরুদাসপুর (নাটোর) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১৮ ৭ এপ্রিল ২০২০  

সংবাদ সম্মেলনে মেম্বাররা (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

সংবাদ সম্মেলনে মেম্বাররা (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

নাটোরের গুরুদাসপুরে ২ নম্বর বিয়াঘাট ইউপির চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যানের দাপটে কোণঠাসা ওই ইউপির সব মেম্বার জোটবদ্ধ হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ওই অভিযোগ করেন।

ইউপি সদস্য মো. আব্দুল মালেকের বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বেলাল হোসেন।

প্যানেল চেয়ারম্যান সাংবাদিকেদের কাছে অভিযোগ করেন, ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক শুরু থেকেই ইউপি সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় না করেই তার মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়ে নানা রকম প্রকল্প তৈরি ও বাস্তবায়ন করেছেন। গৃহীত প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে মেম্বারদের নাম কাগজে কলমে রাখা হলেও প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করেন চেয়ারম্যানের নিজস্ব লোকজন। এ কারণে কম বেশি সব প্রকল্পেই অনিয়ম-দুর্নীতি দেখা গেছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত অন্য মেম্বার অভিযোগ করেন, নিজস্ব লোক দিয়ে কাজ করার কারণে গত অর্থবছরে শেষ হওয়া টিআর, কাবিখা, কাবিটা, এলজিএসপি প্রকল্পগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। সর্বশেষ হওয়া ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচিতে নির্ধারিত শ্রমিকের চেয়ে কম শ্রমিক দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করা হয়েছে। লাখ লাখ টাকা এসব প্রকল্প থেকে চেয়ারম্যান হাতিয়ে নিয়েছেন। 
সর্বশেষ একই ওয়ার্ড থেকে ছয়জন গ্রাম পুলিশ নিয়োগে বাণিজ্য করেছেন চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক। পাশাপাশি হতদরিদ্রদের ঘর দেয়ার নামে প্রত্যেকের থেকে ৫০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ভিজিএফ, ভিজিডি কার্ড দেয়ার নামে স্বজনপ্রীতি ও টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগের প্রতিবাদ করায় পরিষদের সব মেম্বারদের কোনো রকম কাজ দেয়া হচ্ছে না। তার দাপটের কারণে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন মেম্বাররা। এ কারণে স্থানীয় উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বিভিন্ন প্রকল্প করেছেন। একই সঙ্গে মেম্বারদের বেতন-ভাতা (পরিষদের অংশের) প্রদান না করে আত্মসাত করেছেন। এ কারণে মানববিক জীবন-যাপন করছেন তারা। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে  নিজ নিজ ওয়ার্ডের মানুষকে কোনো জবাবও দিতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবাদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সহযোগিতা কামনা করছেন সব মেম্বার। অবিলম্বে তদন্তপূর্বক চেয়ারম্যানের প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও অনিয়মের তদন্ত দাবি করে মেম্বারদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আবেদনও জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আব্দুল মালেক মণ্ডল, স্বপন আলী, সমজান আলী আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল মালেক প্রামানিক, আবুল করিম, মজনু প্রামানিক ও সংরক্ষিত আসনের মীনা পারভীন, আনোয়ারা বেগম ও সূর্য বেগম।

সংবাদ সম্মেলন ডেকে নানা অভিযোগ প্রসঙ্গে বিয়াঘাট ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক বলেন, সব নিয়ম মেনেই উন্নয়ন কাজগুলো শেষ করা হয়েছে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও কোনো অনিয়ম করা হয়নি। তবে মেম্বাররা সুবিধা আদায় করতে না পেরে জোটবদ্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

ইউএনও মো. তমাল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম