ঢাকা, বুধবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৭ ১৪২৫,   ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪০

টক শো’তে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সেনাপ্রধানকে হেয় করার অপচেষ্টা ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

নিজস্ব প্রতিবেদক :: staff-reporter

 প্রকাশিত: ১২:২২ ১২ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১২:৫৬ ১২ অক্টোবর ২০১৮

সময় টেলিভিশনের ওই টক শো’তে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবি ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী

সময় টেলিভিশনের ওই টক শো’তে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবি ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী

গত ৯ অক্টোবর বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবি ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী সময় টেলিভিশনের একটি টক শো’তে উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য উপস্থাপন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বিজিবিএমএস, পিবিজিএম, পিএসসি, জি কে হেয় করার অপচেষ্টা করে বক্তব্য প্রদান করেন। 

টক শো’টির ভিডিও পর্যবেক্ষন করে জানা যায় যে, ওই দিন রাত ১০টায় সময় টেলিভিশনের ‘সম্পাদকীয়’ নামক টক শো’তে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবি ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রদান করেন। উক্ত বক্তব্যে তিনি বলেন যে, বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান চট্টগ্রামের জিওসি বা কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োজিত থাকাকালীন সেখান থেকে ব্যাপক সংখ্যক সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদ হারিয়ে গিয়েছিলো, চুরি হয়েছিলো ও বিক্রি হয়ে গিয়েছিলো এবং এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শালও হয়েছিল। 

টক শো’টিতে আরো দুই আলোচক নূহ-উল-আলম লেনিন ও নাঈমুল ইসলাম খানের সঙ্গে ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী

ভিডিও ক্লিপ থেকে পাওয়া যায়, ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর উক্ত টক শো’তে প্রদত্ত বক্তব্যটি পুরোপুরি মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রনোদিত এবং বিভ্রান্তিমূলক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ কখনই চট্টগ্রামের জিওসি/কমান্ড্যান্ট, এমনকি আর্টিলারী সেন্টার এন্ড স্কুল, চট্টগ্রামের কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন না। তিনি সেপ্টেম্বর ২০১০ থেকে জুন ২০১১ পর্যন্ত সময়কালে কুমিল্লা সেনানিবাসে ৩৩ আর্টিলারী ব্রিগেডের কমান্ডার, জুন ২০১১ থেকে মে ২০১২ সময়কালে মিরপুর ৬ স্বতন্ত্র এ ডি এ ব্রিগেডের কমান্ডার, মে ২০১২ থেকে ডিসেম্বর ২০১২ পর্যন্ত কুমিল্লা ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই বছরের ৫ ডিসেম্বর তিনি বিজিবি’র মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০১৬ সালের নভেম্বরে পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (ARTDOC) এর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে নিয়োজিত হয়েছিলেন। 

উল্লেখ্য, সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োজিত হওয়ার পূর্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। বর্ণিত সময়গুলোতে চট্টগ্রাম বা কুমিল্লা সেনানিবাসে কোনো অস্ত্র বা গোলাবারুদ হারানোর ঘটনা ঘটেনি। আরো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, তাঁর দীর্ঘ বর্নাঢ্য চাকুরী জীবনে জেনারেল আজিজ কখনোই কোর্ট মার্শালের সম্মুখীন হননি।

সেনাসদর থেকে পাঠানো প্রতিবাদ লিপির অংশ

সেনাসদর থেকে টক শো’র পরদিন ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীণ ও অসত্য মন্তব্য করে সময় টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের নিকটে একটি প্রতিবাদ লিপি প্রেরণ করা হয়। উক্ত প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে জাফরুল্লাহ চৌধুরী সেনাবাহিনী প্রধান ও সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে জনসম্মুখে হেয় করার চেষ্টা করেছেন।  

টেলিভিশন সাক্ষাতকারে নূহ-উল-আলম লেনিন ও নাঈমুল ইসলাম খান

ওই টক শো’তে আরো দুইজন আলোচক ছিলেন। তারা হলেন, নূহ-উল-আলম লেনিন (সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) ও নাঈমুল ইসলাম খান (সম্পাদক, দৈনিক আমাদের নতুন সময়)। তারা পরবর্তীতে টেলিভিশন সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন যে, এ ধরণের মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী সেনাবাহিনীকে হেয় করার চেষ্টা করেছেন। এসব মিথ্যে কথা বলে জাফরুল্লাহ ক্রিমিনাল অফেন্স সংঘটিত করেছেন। আলোচকদের কর্তৃক এ ধরণের মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বক্তব্য দেয়া একেবারেই অনুচিত এবং উক্ত বক্তব্য প্রদানের কারণে তাকে রেস্পন্সিবল করা যেতে পারে।   

ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর উদ্দেশ্যপ্রনোদিত, অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য শুধুমাত্র সেনাবাহিনী প্রধানকে সামাজিকভাবে হেয় করাই নয় এর মাধ্যমে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী সদস্যদের মনোবলকে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। এ ধরণের অপপ্রচার সেনাবাহিনীর মতো সুশৃঙ্খল বাহিনীতে বিদ্যমান একতা ও সংহতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম বলে প্রতীয়মান হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ