Alexa চুড়ি বিক্রি করেই পাঁচ মেয়েকে বিয়ে দিলেন ‘সবুরা খালা’

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১৪ ১৪২৬,   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

চুড়ি বিক্রি করেই পাঁচ মেয়েকে বিয়ে দিলেন ‘সবুরা খালা’

শাহাদাত নিশাদ, তিতুমীর কলেজ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৭ ১০ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:১০ ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ফুটওভার ব্রিজ থেকে নেমে তিতুমীর কলেজের প্রধান ফটকে ঢুকতেই হাতের ডান দিকে প্রতিদিন বসে থাকেন পঞ্চাশোর্ধ এক নারী। তার সামনে থাকে একটি ঝুড়ি। এই ঝুড়ি ভরা নানা রঙের চুড়ি। এসব চুড়ি কেনেন তিতুমীর কলেজের ছাত্রীরা। 

মঙ্গলবার শীতের সকালে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ১২ বছর ধরে তুমাগো তিতুমীর কলেজের সামনে চুড়ি বেচি। ঝুড়ি কাঁন্ধে থাহে। হেঁটে হেঁটে চুড়ি বেচি। পাঁচ মেয়ে আছিলো, বিয়া দিয়ে দিছি। একটা ছোডো ছেলে আছে। টু না থ্রিতে যেনো পড়ে। ওর জন্নিই আমার এতকষ্ট। যদি ভালো কইরে বেচি দিনে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হয়। 

রঙচটা লালচে শাড়ি পরে নানান রকমের বাহারি রেশমি চুড়ি নিয়ে বসেন তিনি। জায়গাভেদে বেশি হলেও তিনি ৩০-৪০ টাকার ভেতরে ডজন চুড়ি বিক্রি করেন। সাধারণ রেশমি চুড়ি ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। আর বহুরঙা চুড়ির দাম ৪০-৫০ টাকার মতো হবে।

কারো পছন্দ লাল, কালো নীল, কেউ কালো রঙের রেশমি চুড়ি পছন্দ করেন। লাল-সাদা কিংবা কমলা নয়, সবুজ, হলুদ, নীল, আসমানিসহ নানা রঙের চুড়িতে সম্ভার থাকে সবুরা খালার ঝুড়ি। অনেকে হাতে পরে দেখেন কেমন মানানসই হচ্ছে।

একসময় মেয়েরা শাড়ি-চুড়ি পরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস করতে আসত। তবে সময়ের হাত ধরে বদলেছে সবকিছু। বদলেছে চুড়ির ধরন, উপাদান নানা কিছু। কিন্তু হাত ভরা রেশমি চুড়ির কদর এতটুকুও কমেনি। কলেজ ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে সবুরা খালার চুড়ির আসর সেই কথাটাই মনে করিয়ে দেয়।

বেচাবিক্রি কেমন হচ্ছে শুনলে হা করে উপরে তাকিয়ে সবুরা খালা বলেন, হা বাবা কি লইবা? সাংবাদিক পরিচয় জেনে তিনি খুব আগ্রহভরে চুড়ির সঙ্গে জীবনের গল্প বললেন। খুঁটিনাটি সব বিষয়ই তার জানা তিতুমীর কলেজের।

সবুরা খালার চুড়ির দোকানে প্রায় সবসময় ভিড় দেখা যায়। কথা হয় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে। তনয়া তনু নামে এক শিক্ষার্থী জানান, সবুরা খালার কাছ থেকে আমি প্রতিমাসে নীল চুড়ি কিনতে আসি। সবকিছু ভালো হলেও আমার কাছে নীল চুড়ির দরদ বরাবরই একটু বেশি।

ইলমা জাফিয়া পড়ছেন অর্থনীতি চতুর্থ বর্ষে। তিনি বলেন, প্রায় প্রতিদিনই উত্তরা থেকে ক্যাম্পাসে আসি। ছোটো বোন, ভাবী, বড়বোনদের চুড়ি এখান থেকেই কিনি। সবুরা খালা এককথায় অসাধারণ। মার্কেটের তুলনায় দাম অনেকটাই কম।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম