চুল পড়া রোধে প্রাকৃতিক উপায়

.ঢাকা, বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১১ ১৪২৬,   ১৮ শা'বান ১৪৪০

চুল পড়া রোধে প্রাকৃতিক উপায়

 প্রকাশিত: ১৩:০৯ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৩:০৯ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সমস্যা যখন চুল পড়া

সমস্যা যখন চুল পড়া

চুল পড়া নারী পুরুষ নির্বিশেষে অনেকেরই প্রাত্যহিক সমস্যা। দৈনিক ১০০টি পর্যন্ত চুল পড়া বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু তার থেকে বেশি চুল পড়লে তা নিঃসন্দেহে দুশ্চিন্তা কারণ। অতিরিক্ত চুল পড়া থামাতে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিৎ। তবে বেশ কিছু পরীক্ষিত প্রাকৃতিক উপায় রয়েছে, যার মাধ্যমে ঘরেই চুল পড়া সমস্যার সমাধান পাওয়া সম্ভব। এই উপায়গুলো বহুদিন ধরে ব্যবহৃত এবং কার্যকর বলে স্বীকৃত।

১। জোজোবা অয়েল:

ব্যস্ততার ডামাডোলে হয়তো চুলের যত্ন নেয়া হয় না তেমন। ফলে মাথার ত্বক হয়ে যায় ভয়াবহ রকমের শুষ্ক। মাথায় ভর করে খুশকি, চুল হয়ে পড়ে বিবর্ণ। চুল পড়ার হার বেড়ে যায়। চুল পড়া সমস্যার অন্যতম জনপ্রিয় সমাধান জোজোবা অয়েল। এটি চুলের গোড়ার ফলিকলগুলোকে আর্দ্র রেখে প্রাকৃতিকভাবে চুলকে দেয় সুস্বাস্থ্য ও শক্তি। জোজোবা অয়েল চুলের কোষকে দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এ তেল ব্যবহার করলে চুলের গোড়ায় ক্ষতিকর চর্বি থাকে না। তালুতে কয়েক ফোঁটা তেল নিয়ে দুই হাত দিয়ে ঘষে চুলের গোড়ায় মালিশ করুন। ১০-১৫ মিনিট পর শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।  

২। অ্যালো ভেরা:

চুল পড়া ঠেকাতে অ্যালো ভেরা চমৎকার কাজ করে। ক্ষতিগ্রস্ত মাথার ত্বক সুস্থ্য করতে অ্যালো ভেরা অনেক কার্যকর। চুলের কোষগুলোর বৃদ্ধি বাড়াতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। মাথার ত্বক থেকে সেবাম নামক এক ধরণের তেল নির্গত হয়। চুল পড়ার পর এটি চুলের ফলিকলকে বন্ধ করে নতুন চুল গজাতে বাঁধা দেয়। অ্যালো ভেরা ব্যবহারে মাথার ত্বক থেকে সেবাম পরিষ্কার হয়ে যায়। যথাযথ উপকার পেতে ঘরে তৈরি অ্যালো ভেরা জেল চুলের গোড়ায় প্রয়োগ করুন, অথবা ভালো ব্র্যান্ডের অ্যালো ভেরা শ্যাম্পু ব্যবহার করুন ।

৩। পেঁয়াজের রস:

জার্নাল অব ডারমাটোলজির এক গবেষণায় দেখা যায়, পেঁয়াজের রস চুলের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। সপ্তাহে দুবার করে টানা ছয় সপ্তাহ পেঁয়াজের রস চুলের গোড়ায় প্রয়োগ করে দেখা যায়, প্রতি ২৩ জনের অন্তত ২০ জন বেশ ভালো ফলাফল পেয়েছেন। পেঁয়াজের রসে থাকা সালফার যৌগ মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, চুলের গঠন উপাদান কোলাজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। পেঁয়াজের রসে রয়েছে ব্যাকটেরিয়ারোধী উপাদান, যা মাথার ত্বককে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে ।

৪। আপেল সিডার ভিনেগার:

শুধু শুষ্কতার কারণে নয়, অতিরিক্ত তৈলাক্ততার কারণে মাথার ত্বকের ফলিকল বন্ধ হয়ে গেলেও চুল পড়া লক্ষণীয়ভাবে বাড়তে পারে। যখন চুলের গোড়ার ফলিকলগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং চুলে পর্যাপ্ত তেল দেয়া হয় না, তখন সেখানে ব্যাকটেরিয়া জমতে থাকে । এমতাবস্থায় স্বাস্থ্যকর তেলের অভাবে চুল পড়া সমস্যা বাড়তেই থাকে এবং এক সময় মাথা টাক হয়ে যায় ! বন্ধ হয়ে যাওয়া ফলিকল সারাতে মাথার ত্বক অ্যাপল সিডার ভিনেগার ও পানির মিশ্রণ দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত ।  

৫। নারকেলের দুধ:

নারিকেলকে অধিকাংশ শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনারের অন্যতম মূল উপাদান হিসেবে দাবী করা হয়। নারিকেলের রয়েছে ত্বকে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনার বিশেষ গুণ, যা মাথার শুষ্ক ত্বককে সুস্থ করতে ভীষণ উপযোগী। ভালো ফলাফল পেতে চুলের গোড়ায় নারকেল দুধ প্রয়োগ করে কমপক্ষে দশ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

ডেইলি বাংলাদেশ/এসজেড