চুলে জট পড়ছে?

ঢাকা, রোববার   ১৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১১ শাওয়াল ১৪৪০

চুলে জট পড়ছে?

নুসরাত জাহান মিম

 প্রকাশিত: ১১:৪৪ ৯ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১১:৪৪ ৯ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

চুলে জট পড়া মেয়েদের চুলের অন্যতম প্রধান সমস্যা পাশাপাশি বিরক্তিকরও বটে। ঝলমলে সিল্কি চুল কে না চায়? ঘন কালো ঝলমলে চুলের বদলে যদি চুল খুললেই জট পাকে আসলেই তখন বিরক্ত লাগে। নিয়মিত যত্ন না নেয়ার কারণই হচ্ছে চুলে জট পড়া। তাই নিয়মিত চুলের যত্ন নিয়ে চললেই এই সমস্যা সমধান পাওয়া সম্ভব। আপনারও যদি চুলে জট পড়ার সমস্যা থেকে থাকে তাহলে জেনে নিন করণীয়-

চুল না আঁচড়ানো- প্রায়শই দিনে একবার চুল আঁচড়ানো হয় অনেকের। কারণ ব্যস্ততার কারণে  হয়তো ঘর থেকে বের হওয়ার সময় চুল আঁচড়ানো হয় আবার রাতে চুল এলোমেলো রেখেই হয়তো ঘুমিয়ে পড়া হয়! প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ বার চুল আঁচড়ানো উচিত। এতে মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল সচল থাকে চুলও থাকে জট মুক্ত।

চুলের আগা কাটা- চুল লম্বা করবেন বলে যে চুলের আগা কাটবেন না তা কিন্তু নয়। চুল সুস্থ রাখতে নিয়ম করে চুলের আগা কাটতে হবে। চুলের আগা না কাটলে মারাত্মক ভাবে চুল ফাটার সমস্যা দেখা দেয়। আর এই ফাটা চুল ভেঙে পাতলা হয়ে যায়। পাতলা ও ফাটা চুলেই প্রধানত জট বাঁধে। তাই চুল জট মুক্ত রাখতে চুলের আগা কাটতে হবে।

চুল খোলা না রাখা- সবসময় চুল খোলা রাখা ঠিক না এতে দ্রুত চুলে জট বেঁধে যায়। এছাড়াও ধুলো বালি চুলকে আরো রুক্ষ করে দেয়। রাতে চুল না খুলে ঘুমিয়ে বরং বেণী করে রাখবেন।

প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহার করা- বাইরের ধুলোবালি কিংবা অন্যান্য কারণে অনেকেই প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু করেন৷ তবে প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু করা ঠিক না এতে চুলের প্রাকৃতিক তেল ধুঁয়ে যায়। ফলে চুল রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়। দৈনিক চুলে শ্যাম্পু চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত রুক্ষ করে দেয় এতে চুল অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর জট বাঁধে। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার শ্যাম্পু করুন। ধুলো বালি থেকে দূরে থাকতে স্কার্ফ ব্যবহার করতে পারেন।

চুলে মাস্ক ব্যবহার- অনেকেই চুলে মাস্ক ব্যবহার প্রসঙ্গে জানেন না হয়ত! এটি চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। তাই নিয়ম করে চুলে মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি। ঘরোয়া উপায়েই বিভিন্ন উপাদান দিয়ে চুলের মাস্ক তৈরি করতে পারেন।

ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার- নিজেকে সবার চেয়ে একটু স্টাইলিশ দেখাতে অনেকেই বিভিন্ন টুলস ব্যবহার করে থাকেন। স্ট্রেইটনার, হেয়ার ড্রায়ার ইত্যাদি ব্যবহার চুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে দেয়। এগুলো ব্যবহারে চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। চুল জট পড়া ও ফেটে যাওয়ার অন্যতম কারণ এসব ইলেকট্রনিক পণ্য ব্যবহার।

সিরাম ব্যবহার: চুল আঁচড়ানোর সময় জট পড়ে যাওয়ার সমস্যা থাকলে সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। এটি চুলের ওপর একটা মসৃণভাব এনে দেয় ফলে চুলে জট বাধেনা।

কেমিক্যাল প্রোডাক্ট- অনেকেই চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে গিয়ে বিভিন্ন কেমিক্যাল প্রোডাক্ট ব্যবহার করে। এসব কেমিক্যাল প্রোডাক্ট চুল শুষ্ক ও প্রাণহীণ করে দেয়। আর এগুলো ব্যবহারের ফলেই চুলে জট বাঁধে বেশি। তাই কেমিক্যাল প্রসাধনী এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া চুলে কালার কিংবা শ্যাম্পু কেনার সময় এতে অ্যালকোহল আছে কিনা দেখে নিতে হবে। চুলের যত্নে সব সময় ভেষজ উপাদানের পণ্যই প্রাধান্য দিন।

চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার- বেশিরভাগ সময়ই শুধু শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলি। কন্ডিশনার আর ব্যবহার করা হয়না এর ফলে চুল রুক্ষ হয়ে জট বেঁধে যায়। তাই শ্যাম্পু করার পর চুলের আগা থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত কন্ডিশনার লাগাতে হবে। খেয়াল রাখবেন চুলের গোড়ায় যেন না লেগে যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস